ঢাকা ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হামলায় দুই প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত, আহত ৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:১০:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
  • / 136

মো. তারেক ও সালেহ আহমদ

উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় পৃথক ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহতের খবর পাওয়া গেছে —একজন বাহরাইনে, অন্যজন সংযুক্ত আরব আমিরাতে। একই ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন।

অপরদিকে, কুয়েত ড্রোন হামলায় আহত হয়েছেন আরও চারজন বাংলাদেশি—ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আমিনুল ইসলাম, পাবনার সাথিয়ার রাবিউল ইসলাম, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের মাসুদুর রহমান ও কুমিল্লার চাঁদিনার দুলাল মিয়া। তারা চিকিৎসা নিয়েছেন এবং বর্তমানে স্থিতিশীল আছেন বলে জানা গেছে।

কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে; রাষ্ট্রদূত নিজেও হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ নিয়েছেন।

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটল, যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বাহরাইনে নিহত মো. তারেক (৪৮) চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। সোমবার (২ মার্চ) ভোরে একটি ড্রাইডক শিপইয়ার্ডে ডিউটিরত অবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনি মারা যান।

প্রায় ২৭ বছর ধরে দেশটিতে কর্মরত ছিলেন তিনি। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে নিয়মিত রেমিট্যান্স পাঠাতেন।

তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ফুফাতো ভাই মোশারফ হোসেন। মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ড্রোন বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন সালেহ আহমদ নামে আরেক বাংলাদেশি।

আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, শনিবার সন্ধ্যায় ইফতারের পর কর্মস্থলে যাওয়ার পথে বিস্ফোরণের শিকার হন তিনি। আজমান প্রদেশে ডেলিভারি কর্মী হিসেবে কাজ করতেন সালেহ। তার বাড়ি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায়।

আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উপসাগরীয় এলাকায় সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটে সেখানে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন—যাদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি, একজন পাকিস্তানি ও একজন নেপালি নাগরিক। একই ঘটনায় কমপক্ষে ৫৮ জন আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।

হঠাৎ এমন মৃত্যুর খবরে দুই পরিবারেই নেমে এসেছে গভীর শোক। প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে স্বজনদের উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে।

সোমবার (২ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তি‌তে জানিয়েছে, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে অবস্থান করছে।

দূতাবাস জাহাজের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা নিয়ে সরকার গভীর উদ্বেগে রয়েছে। ওই অঞ্চলে বসবাসরত ছয় মিলিয়নের বেশি বাংলাদেশির নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রবাসীদের সতর্ক থাকতে এবং স্থানীয় নির্দেশনা মেনে চলতে পরামর্শ দিতে বলা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

হামলায় দুই প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত, আহত ৭

সর্বশেষ আপডেট ০৪:১০:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় পৃথক ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহতের খবর পাওয়া গেছে —একজন বাহরাইনে, অন্যজন সংযুক্ত আরব আমিরাতে। একই ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন।

অপরদিকে, কুয়েত ড্রোন হামলায় আহত হয়েছেন আরও চারজন বাংলাদেশি—ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আমিনুল ইসলাম, পাবনার সাথিয়ার রাবিউল ইসলাম, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের মাসুদুর রহমান ও কুমিল্লার চাঁদিনার দুলাল মিয়া। তারা চিকিৎসা নিয়েছেন এবং বর্তমানে স্থিতিশীল আছেন বলে জানা গেছে।

কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে; রাষ্ট্রদূত নিজেও হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ নিয়েছেন।

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটল, যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বাহরাইনে নিহত মো. তারেক (৪৮) চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। সোমবার (২ মার্চ) ভোরে একটি ড্রাইডক শিপইয়ার্ডে ডিউটিরত অবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনি মারা যান।

প্রায় ২৭ বছর ধরে দেশটিতে কর্মরত ছিলেন তিনি। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে নিয়মিত রেমিট্যান্স পাঠাতেন।

তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ফুফাতো ভাই মোশারফ হোসেন। মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ড্রোন বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন সালেহ আহমদ নামে আরেক বাংলাদেশি।

আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, শনিবার সন্ধ্যায় ইফতারের পর কর্মস্থলে যাওয়ার পথে বিস্ফোরণের শিকার হন তিনি। আজমান প্রদেশে ডেলিভারি কর্মী হিসেবে কাজ করতেন সালেহ। তার বাড়ি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায়।

আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উপসাগরীয় এলাকায় সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটে সেখানে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন—যাদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি, একজন পাকিস্তানি ও একজন নেপালি নাগরিক। একই ঘটনায় কমপক্ষে ৫৮ জন আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।

হঠাৎ এমন মৃত্যুর খবরে দুই পরিবারেই নেমে এসেছে গভীর শোক। প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে স্বজনদের উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে।

সোমবার (২ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তি‌তে জানিয়েছে, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে অবস্থান করছে।

দূতাবাস জাহাজের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা নিয়ে সরকার গভীর উদ্বেগে রয়েছে। ওই অঞ্চলে বসবাসরত ছয় মিলিয়নের বেশি বাংলাদেশির নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রবাসীদের সতর্ক থাকতে এবং স্থানীয় নির্দেশনা মেনে চলতে পরামর্শ দিতে বলা হয়েছে।