ঢাকা ০২:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাওরের দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজন কার্যকর পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:১৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • / 145

হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের সাম্প্রতিক মহাবিপর্যয় এবং মৎস্যসম্পদ ধ্বংস হওয়া কোনো প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি ভুল কৃষি নীতি এবং অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট একটি ‘মানবসৃষ্ট দুর্যোগ’। হাওরের দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজন কার্যকর পরিকল্পনা।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘নয়াকৃষি আন্দোলন’ ও ‘উবিনীগ’ (উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণা) এর আয়োজনে ‘হাওরে বোরো ধান বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তন’ করণীয় নির্ধারণ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

এই সভায় সভাপ্রধান ছিলেন উবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ও অন্তবর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উবিনীগের জাহাঙ্গীর আলম জনি।

আরও বক্তব্য দেন ব্রি’র সাবেক মহাপরিচালক ও কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের সাবেক নির্বাহী পরিচালক জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস, বিএডিসির গবেষণা সেলের প্রধান সমন্বয়কারী ড. নাজমুল ইসলাম, গবেষক ও লেখক পাভেল পার্থ, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলমসহ বিভিন্ন জেলার কৃষক প্রতিনিধিরা।

সভায় জানানো হয়, চলতি বছরের ৮ মে পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগাম ও অতিবৃষ্টিতে হাওরের প্রায় ৪৯ হাজার ৭৩ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৪৭ কোটি টাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ২ লক্ষ ৩৬ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশের মোট বোরো উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ হাওর থেকে এলেও বর্তমান আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার ওপর অতি-নির্ভরশীলতা এই অঞ্চলকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।

সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, “একসময় হাওরে স্থানীয় জাতের ধান (যেমন- টেপি বোরো, রাতা বোরো) সেচ ছাড়াই চাষ হতো। কিন্তু এখন সেচ, সার ও বিষ নির্ভর ব্রি-২৮ বা ব্রি-২৯ এর মতো আধুনিক জাত চাষে কৃষকদের বাধ্য করা হচ্ছে। এই ধানগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়েছে। এছাড়া কৃষি যান্ত্রিকীকরণের দোহাই দিয়ে কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার মেশিন আনা হলেও কাদা ও পানিতে এই যন্ত্রগুলো এবারের দুর্যোগে কোনো কাজেই আসেনি।”

তিনি করণীয় সম্পর্কে বলেন, বোরো ধানের জন্য আধুনিক কৃষি পদ্ধতির ব্যবহার কতখানি হবে তা পর্যালোচনা করা। কৃষি, মৎস্য, গবাদিপশু পালন একসাথে পরিকল্পনা করা। একটির কারণে অন্যটি যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয় তা দেখা। কারণ সব মিলিয়েই খাদ্য উৎপাদন। কৃষক, মৎস্যজীবী, গবাদিপশু পালনকারী সকলের টিকে থাকার জন্য পরিকল্পনা নেওয়া।

আমাদের উন্নয়ন নীতি ও প্রকল্প পর্যালোচনা করা। রাস্তা, বাঁধ ব্রিজ কালভার্ট কার উপকার করছে আর কার ক্ষতি করছে তা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় রক্ষা করে হাওরের মানুষ ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষার জন্যে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

তিন বছরে সুনামগঞ্জ জেলায় ফসল রক্ষায় বাজেট নামে মাটি কাটার একটি হিসাব তুলে ধরে পাভেল পার্থ বলেন, ফসল রক্ষায় বাঁধ নামে যে পরিমাণ মাটি কাটা হয়েছে, সেই মাটি দিয়ে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর, ১০ কিলোমিটার নদী ভরাট করা যেতে পারে।

তিনি আরো বলেন, বিগত ৫০- ৬০ বছর ধরে হাওরে ফসল রক্ষায় বাঁধ হচ্ছে। এই কৃষি জমি, কান্দা, জাঙ্গালের মাটি কেটে ফেলা হচ্ছে। হাওর নদী ভরাট হয়ে গেলে বৃষ্টির পানি কোথায় যাবে? এটি সাধারণ বিজ্ঞান । এজন্য অনেক প্রকৌশল জ্ঞানের দরকার নেই।

সভায় বক্তারা হাওরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের সমালোচনা করে বলেন, ১. অপরিকল্পিত বাঁধ ও সড়ক: পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সড়ক বিভাগের নির্মিত ৩১১টি বাঁধ এবং কিশোরগঞ্জের ‘অলওয়েদার রোড’ হাওরের পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এই বাঁধগুলো এখন ফসলের জন্য ‘গলার ফাঁস’ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে।

২. মৎস্যসম্পদ ধ্বংস: গত এক দশকে হাওরে মাছ আহরণ ২.৩১ লাখ মেট্রিক টন থেকে কমে ১.২৮ লাখ মেট্রিক টনে নেমে এসেছে। বোরো ধানে ব্যবহৃত কীটনাশকের ২৫ শতাংশই বর্ষার পানিতে মিশে মাছ ও জলজ প্রাণবৈচিত্র্য ধ্বংস করছে।

৩. শ্রমিক সংকট: কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ফলে অন্য জেলা থেকে শ্রমিক আসা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির সময় যখন যন্ত্র কাজ করছে না, তখন উচ্চ মজুরি দিয়েও শ্রমিক না পাওয়ায় কৃষক পাকা ধান ঘরে তুলতে পারছেন না।

এ সভায় বক্তাদের আলোচনার প্রেক্ষিতে কিছু সুপারিশ উঠে এসেছে যেমন, বোরো ধানে আধুনিক কৃষি পদ্ধতির অতি-ব্যবহার এবং এর কার্যকারিতা পুনরায় পর্যালোচনা করা। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ রক্ষায় একটি সমন্বিত ‘হাওর রক্ষা পরিকল্পনা’ গ্রহণ করা।

হাওরের রাস্তা, বাঁধ ও ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণের প্রকল্পগুলো জীববৈচিত্র্যের ওপর কী প্রভাব ফেলছে তা যাচাই করা। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর যন্ত্রপাতির ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।

সভায় বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, কেবল ধান নয়, হাওরের মাছ ও প্রাণিসম্পদ রক্ষা করতে না পারলে দেশের সামগ্রিক আমিষের যোগান এবং খাদ্য নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে। আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত হাওর রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

হাওরের দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজন কার্যকর পরিকল্পনা

সর্বশেষ আপডেট ০৭:১৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের সাম্প্রতিক মহাবিপর্যয় এবং মৎস্যসম্পদ ধ্বংস হওয়া কোনো প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি ভুল কৃষি নীতি এবং অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট একটি ‘মানবসৃষ্ট দুর্যোগ’। হাওরের দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজন কার্যকর পরিকল্পনা।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘নয়াকৃষি আন্দোলন’ ও ‘উবিনীগ’ (উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণা) এর আয়োজনে ‘হাওরে বোরো ধান বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তন’ করণীয় নির্ধারণ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

এই সভায় সভাপ্রধান ছিলেন উবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ও অন্তবর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উবিনীগের জাহাঙ্গীর আলম জনি।

আরও বক্তব্য দেন ব্রি’র সাবেক মহাপরিচালক ও কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের সাবেক নির্বাহী পরিচালক জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস, বিএডিসির গবেষণা সেলের প্রধান সমন্বয়কারী ড. নাজমুল ইসলাম, গবেষক ও লেখক পাভেল পার্থ, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলমসহ বিভিন্ন জেলার কৃষক প্রতিনিধিরা।

সভায় জানানো হয়, চলতি বছরের ৮ মে পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগাম ও অতিবৃষ্টিতে হাওরের প্রায় ৪৯ হাজার ৭৩ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৪৭ কোটি টাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ২ লক্ষ ৩৬ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশের মোট বোরো উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ হাওর থেকে এলেও বর্তমান আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার ওপর অতি-নির্ভরশীলতা এই অঞ্চলকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।

সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, “একসময় হাওরে স্থানীয় জাতের ধান (যেমন- টেপি বোরো, রাতা বোরো) সেচ ছাড়াই চাষ হতো। কিন্তু এখন সেচ, সার ও বিষ নির্ভর ব্রি-২৮ বা ব্রি-২৯ এর মতো আধুনিক জাত চাষে কৃষকদের বাধ্য করা হচ্ছে। এই ধানগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়েছে। এছাড়া কৃষি যান্ত্রিকীকরণের দোহাই দিয়ে কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার মেশিন আনা হলেও কাদা ও পানিতে এই যন্ত্রগুলো এবারের দুর্যোগে কোনো কাজেই আসেনি।”

তিনি করণীয় সম্পর্কে বলেন, বোরো ধানের জন্য আধুনিক কৃষি পদ্ধতির ব্যবহার কতখানি হবে তা পর্যালোচনা করা। কৃষি, মৎস্য, গবাদিপশু পালন একসাথে পরিকল্পনা করা। একটির কারণে অন্যটি যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয় তা দেখা। কারণ সব মিলিয়েই খাদ্য উৎপাদন। কৃষক, মৎস্যজীবী, গবাদিপশু পালনকারী সকলের টিকে থাকার জন্য পরিকল্পনা নেওয়া।

আমাদের উন্নয়ন নীতি ও প্রকল্প পর্যালোচনা করা। রাস্তা, বাঁধ ব্রিজ কালভার্ট কার উপকার করছে আর কার ক্ষতি করছে তা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় রক্ষা করে হাওরের মানুষ ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষার জন্যে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

তিন বছরে সুনামগঞ্জ জেলায় ফসল রক্ষায় বাজেট নামে মাটি কাটার একটি হিসাব তুলে ধরে পাভেল পার্থ বলেন, ফসল রক্ষায় বাঁধ নামে যে পরিমাণ মাটি কাটা হয়েছে, সেই মাটি দিয়ে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর, ১০ কিলোমিটার নদী ভরাট করা যেতে পারে।

তিনি আরো বলেন, বিগত ৫০- ৬০ বছর ধরে হাওরে ফসল রক্ষায় বাঁধ হচ্ছে। এই কৃষি জমি, কান্দা, জাঙ্গালের মাটি কেটে ফেলা হচ্ছে। হাওর নদী ভরাট হয়ে গেলে বৃষ্টির পানি কোথায় যাবে? এটি সাধারণ বিজ্ঞান । এজন্য অনেক প্রকৌশল জ্ঞানের দরকার নেই।

সভায় বক্তারা হাওরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের সমালোচনা করে বলেন, ১. অপরিকল্পিত বাঁধ ও সড়ক: পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সড়ক বিভাগের নির্মিত ৩১১টি বাঁধ এবং কিশোরগঞ্জের ‘অলওয়েদার রোড’ হাওরের পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এই বাঁধগুলো এখন ফসলের জন্য ‘গলার ফাঁস’ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে।

২. মৎস্যসম্পদ ধ্বংস: গত এক দশকে হাওরে মাছ আহরণ ২.৩১ লাখ মেট্রিক টন থেকে কমে ১.২৮ লাখ মেট্রিক টনে নেমে এসেছে। বোরো ধানে ব্যবহৃত কীটনাশকের ২৫ শতাংশই বর্ষার পানিতে মিশে মাছ ও জলজ প্রাণবৈচিত্র্য ধ্বংস করছে।

৩. শ্রমিক সংকট: কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ফলে অন্য জেলা থেকে শ্রমিক আসা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির সময় যখন যন্ত্র কাজ করছে না, তখন উচ্চ মজুরি দিয়েও শ্রমিক না পাওয়ায় কৃষক পাকা ধান ঘরে তুলতে পারছেন না।

এ সভায় বক্তাদের আলোচনার প্রেক্ষিতে কিছু সুপারিশ উঠে এসেছে যেমন, বোরো ধানে আধুনিক কৃষি পদ্ধতির অতি-ব্যবহার এবং এর কার্যকারিতা পুনরায় পর্যালোচনা করা। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ রক্ষায় একটি সমন্বিত ‘হাওর রক্ষা পরিকল্পনা’ গ্রহণ করা।

হাওরের রাস্তা, বাঁধ ও ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণের প্রকল্পগুলো জীববৈচিত্র্যের ওপর কী প্রভাব ফেলছে তা যাচাই করা। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর যন্ত্রপাতির ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।

সভায় বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, কেবল ধান নয়, হাওরের মাছ ও প্রাণিসম্পদ রক্ষা করতে না পারলে দেশের সামগ্রিক আমিষের যোগান এবং খাদ্য নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে। আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত হাওর রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।