ঢাকা ০৩:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুয়াকাটায় জেলের জালে বিরল ‘স্লেন্ডার সানফিশ’

নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:১৪:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 8

কুয়াকাটায় জেলের জালে বিরল ‘স্লেন্ডার সানফিশ’

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ‘স্লেন্ডার সানফিশ’। বৈজ্ঞানিক নাম ‘রানজানিয়া লেভিস’ (Ranzania laevis) মাছটির ওজন প্রায় ২ কেজি ৭০০ গ্রাম। অদ্ভুত আকৃতির এই মাছটি মহিপুর মৎস্য বন্দরে নিয়ে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়।

রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর থেকে অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের সঙ্গে মাছটি ধরে নিয়ে আসেন জেলেরা। পরে মহিপুর মৎস্য বন্দরের শাহীন এন্টারপ্রাইজের আড়তে মাছটি তোলা হয়। তবে মাছটি কিনতে আগ্রহ দেখাননি কোনো ব্যবসায়ী।

জেলেদের ভাষ্য, মাছটির আকৃতি ও গঠন প্রচলিত সামুদ্রিক মাছের তুলনায় একেবারেই আলাদা। ফলে প্রথমে তারা মাছটির প্রজাতি শনাক্ত করতে পারেননি। মাছটি বিষাক্ত হতে পারে; এমন আশঙ্কা থেকেও কেউ এটি কিনতে আগ্রহ দেখাননি।

জেলে সাইফুল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাগরে মাছ ধরলেও এমন মাছ এর আগে কখনো দেখেননি তিনি। অন্যান্য মাছের তুলনায় এর আকৃতি ও গঠন সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে জানান তিনি।

আরেক জেলে আবদুর রব বলেন, অন্যান্য মাছের সঙ্গে একই জালে মাছটি ধরা পড়ে। পরে বন্দরে নিয়ে আসার পর মাছটি দেখতে অনেক মানুষ ভিড় করেন। তবে বিষাক্ত হতে পারে এমন আশঙ্কায় কেউ এটি কিনতে চাননি।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ, অ্যাকুয়াকালচার ও মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী জানান, মাছটির বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য দেখে প্রাথমিকভাবে এটিকে ‘স্লেন্ডার সানফিশ’ বা ‘রানজানিয়া লেভিস’ বলে মনে হচ্ছে।

তিনি বলেন, এটি সাধারণ বাণিজ্যিক সামুদ্রিক মাছের মতো নয়; বরং খোলা সমুদ্রের একটি মহাসাগরীয় প্রজাতি। অনেক সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে মাছ ধরার জালে বাইক্যাচ হিসেবেও এ ধরনের মাছ উঠে আসে। বঙ্গোপসাগরেও এ প্রজাতির উপস্থিতির তথ্য রয়েছে।

মীর মোহাম্মদ আলী আরও বলেন, তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায় এমন সামুদ্রিক প্রাণীর উপস্থিতি বঙ্গোপসাগরের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এ ধরনের মাছ পাওয়া গেলে শুধু বাজারজাত না করে কোথায়, কত গভীরতায় ও কী ধরনের জালে মাছটি ধরা পড়েছে; এসব তথ্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি মাছটির দৈর্ঘ্য ও ওজনসহ অন্যান্য তথ্য নথিভুক্ত করলে বঙ্গোপসাগরের জীববৈচিত্র্য, প্রজাতির বিস্তৃতি এবং সামুদ্রিক পরিবেশের পরিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, বঙ্গোপসাগর জীববৈচিত্র্যে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বিভিন্ন সময়ে জেলেদের জালে নানা ধরনের বিরল ও অল্প পরিচিত সামুদ্রিক প্রজাতি ধরা পড়ে। স্লেন্ডার সানফিশ ধরা পড়ার ঘটনাও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণা ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হতে পারে।

তিনি বলেন, এ ধরনের বিরল প্রজাতির মাছ ধরা পড়লে জেলেদের দ্রুত মৎস্য বিভাগকে জানানো উচিত। এতে মাছটির সঠিক পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে বিভিন্ন সময়ে বিরল সামুদ্রিক প্রাণী ও মাছ ধরা পড়লেও স্লেন্ডার সানফিশের মতো মাছ খুব একটা দেখা যায় না। ফলে মাছটি মহিপুর মৎস্য বন্দরে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে একনজর দেখতে সেখানে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ অনেক কৌতূহলী মানুষ।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কুয়াকাটায় জেলের জালে বিরল ‘স্লেন্ডার সানফিশ’

সর্বশেষ আপডেট ০২:১৪:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ‘স্লেন্ডার সানফিশ’। বৈজ্ঞানিক নাম ‘রানজানিয়া লেভিস’ (Ranzania laevis) মাছটির ওজন প্রায় ২ কেজি ৭০০ গ্রাম। অদ্ভুত আকৃতির এই মাছটি মহিপুর মৎস্য বন্দরে নিয়ে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়।

রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর থেকে অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের সঙ্গে মাছটি ধরে নিয়ে আসেন জেলেরা। পরে মহিপুর মৎস্য বন্দরের শাহীন এন্টারপ্রাইজের আড়তে মাছটি তোলা হয়। তবে মাছটি কিনতে আগ্রহ দেখাননি কোনো ব্যবসায়ী।

জেলেদের ভাষ্য, মাছটির আকৃতি ও গঠন প্রচলিত সামুদ্রিক মাছের তুলনায় একেবারেই আলাদা। ফলে প্রথমে তারা মাছটির প্রজাতি শনাক্ত করতে পারেননি। মাছটি বিষাক্ত হতে পারে; এমন আশঙ্কা থেকেও কেউ এটি কিনতে আগ্রহ দেখাননি।

জেলে সাইফুল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাগরে মাছ ধরলেও এমন মাছ এর আগে কখনো দেখেননি তিনি। অন্যান্য মাছের তুলনায় এর আকৃতি ও গঠন সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে জানান তিনি।

আরেক জেলে আবদুর রব বলেন, অন্যান্য মাছের সঙ্গে একই জালে মাছটি ধরা পড়ে। পরে বন্দরে নিয়ে আসার পর মাছটি দেখতে অনেক মানুষ ভিড় করেন। তবে বিষাক্ত হতে পারে এমন আশঙ্কায় কেউ এটি কিনতে চাননি।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ, অ্যাকুয়াকালচার ও মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী জানান, মাছটির বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য দেখে প্রাথমিকভাবে এটিকে ‘স্লেন্ডার সানফিশ’ বা ‘রানজানিয়া লেভিস’ বলে মনে হচ্ছে।

তিনি বলেন, এটি সাধারণ বাণিজ্যিক সামুদ্রিক মাছের মতো নয়; বরং খোলা সমুদ্রের একটি মহাসাগরীয় প্রজাতি। অনেক সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে মাছ ধরার জালে বাইক্যাচ হিসেবেও এ ধরনের মাছ উঠে আসে। বঙ্গোপসাগরেও এ প্রজাতির উপস্থিতির তথ্য রয়েছে।

মীর মোহাম্মদ আলী আরও বলেন, তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায় এমন সামুদ্রিক প্রাণীর উপস্থিতি বঙ্গোপসাগরের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এ ধরনের মাছ পাওয়া গেলে শুধু বাজারজাত না করে কোথায়, কত গভীরতায় ও কী ধরনের জালে মাছটি ধরা পড়েছে; এসব তথ্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি মাছটির দৈর্ঘ্য ও ওজনসহ অন্যান্য তথ্য নথিভুক্ত করলে বঙ্গোপসাগরের জীববৈচিত্র্য, প্রজাতির বিস্তৃতি এবং সামুদ্রিক পরিবেশের পরিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, বঙ্গোপসাগর জীববৈচিত্র্যে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বিভিন্ন সময়ে জেলেদের জালে নানা ধরনের বিরল ও অল্প পরিচিত সামুদ্রিক প্রজাতি ধরা পড়ে। স্লেন্ডার সানফিশ ধরা পড়ার ঘটনাও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণা ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হতে পারে।

তিনি বলেন, এ ধরনের বিরল প্রজাতির মাছ ধরা পড়লে জেলেদের দ্রুত মৎস্য বিভাগকে জানানো উচিত। এতে মাছটির সঠিক পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে বিভিন্ন সময়ে বিরল সামুদ্রিক প্রাণী ও মাছ ধরা পড়লেও স্লেন্ডার সানফিশের মতো মাছ খুব একটা দেখা যায় না। ফলে মাছটি মহিপুর মৎস্য বন্দরে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে একনজর দেখতে সেখানে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ অনেক কৌতূহলী মানুষ।