স্মার্ট কৃষি রূপান্তরে বড় পরিকল্পনা সরকারের
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:২৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
- / 66
দেশের কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই পথে নিতে ‘স্মার্ট কৃষি’ কর্মসূচির আওতায় একাধিক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, উৎপাদন বাড়ানো, কৃষিপণ্যের বৈচিত্র্য আনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলাই এখন মূল লক্ষ্য।
বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত জবাবে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। সেখানে কৃষি খাতকে শুধু উৎপাদনের জায়গা নয়, বরং আধুনিক অর্থনীতির একটি কার্যকর খাতে রূপ দেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখার কথাও উঠে আসে।
সরকারের নতুন উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘কৃষক কার্ড’, যা সম্প্রতি উদ্বোধন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা ধাপে ধাপে সরাসরি বিভিন্ন সেবা পাবেন—যেমন ভর্তুকি, কৃষি উপকরণ, স্বল্পসুদে ঋণ, বীমা সুবিধা এবং বাজার ও আবহাওয়ার তথ্য। নীতিনির্ধারকদের ধারণা, এতে মধ্যস্বত্বভোগীর চাপ কিছুটা কমতে পারে, যদিও বাস্তব প্রয়োগ কতটা কার্যকর হবে তা সময়ই বলে দেবে।
কৃষি উৎপাদন বাড়াতে উন্নত বীজ, সুষম সার ও আধুনিক সেচ ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি খাল খননের মাধ্যমে পানি ব্যবস্থাপনা উন্নত করার উদ্যোগও চলছে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণ বাড়াতে ট্রাক্টর, হারভেস্টারসহ বিভিন্ন যন্ত্রে ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ‘ক্রপ জোনিং’ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে, যেখানে এলাকার মাটি ও আবহাওয়ার সঙ্গে মিলিয়ে ফসল নির্বাচন করা হয়। বিশেষ করে পতিত জমি চাষের আওতায় আনার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
ফসলের ধরনেও পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে। ধাননির্ভরতা কমিয়ে ফল, সবজি, ডাল ও তেলবীজসহ অন্যান্য ফসলের দিকে ধীরে ধীরে ঝোঁক বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এটি কৃষকের আয়ের উৎস বৈচিত্র্যময় করতে পারে বলে সরকারের আশা।
সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনাতেও নতুন উদ্যোগ রয়েছে। কোল্ড স্টোরেজ, গুদাম এবং আঞ্চলিক রপ্তানি কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে উৎপাদনের পর ক্ষতি কমানো যায়।
গবেষণার ক্ষেত্রেও জোর দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান নতুন জাত উদ্ভাবন ও জলবায়ু সহনশীল ফসল নিয়ে কাজ করছে, যা পরিবর্তিত আবহাওয়ার চাপ মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।



































