ঢাকা ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শান্তি চুক্তিতে না এলে ইরানের কিছুই থাকবে না:ট্রাম্পের হুংকার

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩০:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • / 63

ইরানকে দ্রুত শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে “ইরানের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।”

রোববার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। তাদের দ্রুত এগোতে হবে, না হলে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।”

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বড় ধরনের হামলার পর থেকেই ওয়াশিংটন-তেহরান সংঘাত চলছে। ৮ এপ্রিল দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও শান্তি আলোচনা অচল হয়ে আছে, পাশাপাশি বিচ্ছিন্ন হামলাও অব্যাহত রয়েছে।

যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে কার্যত অবরোধ তৈরি হয়েছে। বিশ্বে সমুদ্রপথে রপ্তানিকৃত প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই পথ দিয়ে যায়। সংঘাতের প্রভাব ইসরায়েল ও লেবাননেও ছড়িয়ে পড়েছে।

ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ছাড়া বৃহত্তর কোনো শান্তিচুক্তিতে তারা সম্মত হবে না। এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, সপ্তাহান্তে হিজবুল্লাহ প্রায় ২০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট ছুড়েছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলে নতুন ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। লেবাননের তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে ২ হাজার ৯০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।

ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র কোনো বাস্তব ছাড় দেয়নি। ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ওয়াশিংটন চেয়েছে ইরান শুধু একটি পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখবে এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করবে।

এ ছাড়া ইরানের বিদেশে জব্দ সম্পদের ২৫ শতাংশও ছাড় দিতে রাজি হয়নি যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ নিয়েও কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি করেছে তেহরান।

মেহর নিউজ এজেন্সি বলেছে, যুদ্ধের মাধ্যমে যে ছাড় আদায় করা যায়নি, আলোচনায় সেটিই আদায় করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে আলোচনা আরও অচল হতে পারে।

এদিকে আবুধাবির একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে ড্রোন হামলায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে হতাহতের ঘটনা বা তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনায় পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি তেহরানে ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বৈঠকের পর গালিবাফ বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করেছে। তিনি দাবি করেন, অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি নিরাপত্তা নয়, বরং অনিরাপত্তা বাড়িয়েছে।

এর আগে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকেও ইরান ইস্যু উঠে আসে। তবে বড় কোনো অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। চীন কেবল হরমুজ প্রণালিতে দ্রুত জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শান্তি চুক্তিতে না এলে ইরানের কিছুই থাকবে না:ট্রাম্পের হুংকার

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩০:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

ইরানকে দ্রুত শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে “ইরানের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।”

রোববার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। তাদের দ্রুত এগোতে হবে, না হলে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।”

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বড় ধরনের হামলার পর থেকেই ওয়াশিংটন-তেহরান সংঘাত চলছে। ৮ এপ্রিল দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও শান্তি আলোচনা অচল হয়ে আছে, পাশাপাশি বিচ্ছিন্ন হামলাও অব্যাহত রয়েছে।

যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে কার্যত অবরোধ তৈরি হয়েছে। বিশ্বে সমুদ্রপথে রপ্তানিকৃত প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই পথ দিয়ে যায়। সংঘাতের প্রভাব ইসরায়েল ও লেবাননেও ছড়িয়ে পড়েছে।

ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ছাড়া বৃহত্তর কোনো শান্তিচুক্তিতে তারা সম্মত হবে না। এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, সপ্তাহান্তে হিজবুল্লাহ প্রায় ২০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট ছুড়েছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলে নতুন ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। লেবাননের তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে ২ হাজার ৯০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।

ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র কোনো বাস্তব ছাড় দেয়নি। ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ওয়াশিংটন চেয়েছে ইরান শুধু একটি পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখবে এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করবে।

এ ছাড়া ইরানের বিদেশে জব্দ সম্পদের ২৫ শতাংশও ছাড় দিতে রাজি হয়নি যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ নিয়েও কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি করেছে তেহরান।

মেহর নিউজ এজেন্সি বলেছে, যুদ্ধের মাধ্যমে যে ছাড় আদায় করা যায়নি, আলোচনায় সেটিই আদায় করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে আলোচনা আরও অচল হতে পারে।

এদিকে আবুধাবির একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে ড্রোন হামলায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে হতাহতের ঘটনা বা তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনায় পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি তেহরানে ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বৈঠকের পর গালিবাফ বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করেছে। তিনি দাবি করেন, অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি নিরাপত্তা নয়, বরং অনিরাপত্তা বাড়িয়েছে।

এর আগে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকেও ইরান ইস্যু উঠে আসে। তবে বড় কোনো অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। চীন কেবল হরমুজ প্রণালিতে দ্রুত জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছে।