রেলের ৬৩ কোটি টাকার পুকুর দখলে নিচ্ছে জামায়াত
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৮:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
- / 65
বগুড়া শহরে রেলওয়ের মালিকানাধীন একটি সরকারি জলাশয় ভরাটের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জালিয়াতির মাধ্যমে জলাশয়টিকে ‘ভিটা’ হিসেবে দেখিয়ে সেখানে বহুতল মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ভরাটের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে বগুড়া সিটি করপোরেশন।
অভিযোগে যাদের নাম এসেছে তারা হলেন জামায়াত কর্মী ছাইফুল ইসলাম এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিনের ছেলে ও ২০ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম। তবে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কাগজে-কলমে জমিটির ইজারার লাইসেন্স ১৭ জনের নামে থাকলেও অনুসন্ধানে তাদের দুজনের সক্রিয় ভূমিকার তথ্য উঠে এসেছে।
অনুসন্ধান অনুযায়ী, বগুড়া সদরের চকবৃন্দাবন মৌজায় রেলওয়ের ১ দশমিক ২৮ একর সরকারি জমিটি সরকারি নথিতে পুকুর বা জলাশয় হিসেবে শ্রেণিভুক্ত। স্টেশন রোডসংলগ্ন এই জলাশয়ের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৬৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
জানা গেছে, ২০২৩ সালে প্রথমে কৃষি লাইসেন্সের আওতায় জমিটি ইজারা নেওয়া হয়। পরে এটিকে বাণিজ্যিক লাইসেন্সের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বালু ফেলে ভরাট শুরু হলে স্থানীয়দের পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তরও আপত্তি জানায়। এরপর ভূমির শ্রেণি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও গত বছরের ৫ নভেম্বর রেলওয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করলে তদন্ত শেষে জেলা প্রশাসন জানায়, জায়গাটি এখনও প্রাকৃতিক জলাশয় এবং এটি ভরাট করলে শহরের জলাবদ্ধতা আরও বাড়বে। এসব বিবেচনায় আবেদনটি বাতিল করা হয়।
এরপর নতুন করে এমন কিছু কাগজ সামনে আসে, যেখানে একই জমিকে ‘ভিটা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মূল আরএস খতিয়ানে জমির শ্রেণি ‘পুকুর’ থাকলেও পরবর্তী পর্যায়ের একটি নথিতে সেটিকে ‘ভিটা’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে এই নথির কোনো মিল না থাকায় সরকারি নথি জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পপি খাতুন ও জাহাঙ্গীর আলম অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় জলাশয়ের ওপর নির্মিত অবৈধ টিনের বেড়া অপসারণ করা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পপি খাতুন বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি জানান, জলাশয়ে বালু ফেলে ভরাটের পাশাপাশি ড্রেনের সীমানা লঙ্ঘন করে স্থাপনা নির্মাণেরও চেষ্টা করা হচ্ছিল। কাগজপত্র যাচাইয়ের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অন্যদিকে লাইসেন্সধারীদের অন্যতম দাবিদার ছাইফুল ইসলাম দাবি করেন, জেলা প্রশাসন জমিটির শ্রেণি পরিবর্তন করে ‘ভিটা’ করেছে এবং সেই ভিত্তিতেই রেলওয়ে প্রায় ৭০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। তবে নথি জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, তারা কোনো অবৈধ কাজ করেননি এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সব কাগজপত্র উপস্থাপন করবেন।
আব্দুল হাকিম প্রথমে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাড়া দেননি।
বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইমরুল কায়েস বলেন, সরেজমিন তদন্তে জায়গাটি প্রাকৃতিক জলাশয় হিসেবেই পাওয়া গেছে। তাই আইন অনুযায়ী শ্রেণি পরিবর্তনের আবেদন বাতিল করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, কোনো পুকুর বা জলাশয়কে ভিটা হিসেবে শ্রেণি পরিবর্তনের সুযোগ নেই। এমন কোনো কাগজের দাবি করা হলে তা সঠিক নয়।
রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মনজুর আলম বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী রেলওয়ের জমিতে কোনো ধরনের অবৈধ দখল বা স্থাপনা করতে দেওয়া হবে না। কোথাও অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




























