রূপপুরে জ্বালানি প্রস্তুত, উৎপাদন অনিশ্চিত
- সর্বশেষ আপডেট ১২:১১:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
- / 15
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটে জ্বালানি প্রবেশের প্রস্তুতি শেষ হলেও এ বছরই কেন্দ্রটি বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উৎপাদনে আনার চেষ্টা থাকলেও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না।
চুল্লির ভেতরের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সেফটি ভালভের সমস্যাসহ প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে দ্বিতীয় ইউনিটকে জ্বালানি ভরার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। ধাপে ধাপে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত ইউনিটটিতে জ্বালানি ভরা হবে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বছরের শেষ নাগাদ রূপপুরের উৎপাদনে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে তা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
আইইইএফএ-এর প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ও উৎপাদনে যাওয়ার অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, অধিকাংশ প্রকল্পেই সময় ও ব্যয় বাড়ে। তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশ দ্রুত এগোলেও গত এক থেকে দুই বছরে রূপপুর প্রকল্পে বিলম্ব দেখা দিয়েছে। তবে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই এবং সরকারকে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, আগামী গরমের আগে রূপপুরের একটি ইউনিট চালু করা গেলে এক হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে। এতে বিদ্যুতের ঘাটতি ও লোডশেডিং কিছুটা কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে। তবে দ্রুত উৎপাদনে যেতে গিয়ে নিরাপত্তার কোনো ধাপে ছাড় দেওয়া যাবে না।
এদিকে, কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছে ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িবহর। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় তিনটি লরিতে করে প্রথম ইউনিটের জন্য আনা এই জ্বালানি রূপপুরে নেয়া হচ্ছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে গাড়িবহরটি রূপপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে এসআরবি, পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।
এর আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি বহনকারী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা ইউরেনিয়ামের চালানটি গ্রহণ করেন। এরপর সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় তা রূপপুরে নেয়া হবে বলে জানানো হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৯টি ফ্লাইটে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বল দেশে আসবে। রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে এসব চালান বাংলাদেশে পৌঁছাবে।
২০১৭ সালে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরুর সময় ২০২৩ সালে রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা জানানো হয়েছিল। তবে করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, বকেয়া পরিশোধসংক্রান্ত জটিলতা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কয়েক দফা পিছিয়েছে উৎপাদনের সময়সীমা।





























