ঢাকা ০৮:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীতে ভবন থেকে পড়ে ২ নারীর মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:২৪:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • / 17

রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় ২ নারীর মৃত্যু

রাজধানীর ধানমণ্ডি ও বাড্ডা এলাকায় সম্পূর্ণ পৃথক দুটি ঘটনায় বহুতল ভবন থেকে নিচে পড়ে দুই নারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন— ধানমণ্ডি এলাকায় আসমা আক্তার (৩০) এবং বাড্ডা এলাকায় মোছা. মনিকা আক্তার (২৭)। আজ শনিবার (১৩ জুন) বিকালের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে নিহত দুই নারীর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে।

ধানমণ্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তুলি মন্ডল ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) বিকাল আনুমানিক ৩টার দিকে ধানমণ্ডির বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অষ্টম তলার ৮১৩ নম্বর কেবিনের বারান্দা থেকে নিচে পড়ে যান আসমা আক্তার। পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’ থেকে তথ্য পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ জানায়, ঘটনার সঠিক তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যাবে।

অন্য দিকে নিহত আসমার বোন রেশমি আক্তার অভিযোগ করে বলেন, তিন বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে শাফিউল্লাহর সঙ্গে আসমার বিয়ে হয়েছিল। তবে শাফিউল্লাহর আগের ঘরে স্ত্রী ও সন্তান থাকার বিষয়টি আসমার কাছে গোপন রাখা হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই আসমাকে নানাভাবে মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে স্বজনদের দাবি। রেশমি আরও জানান, তিন দিন আগে তীব্র পেটব্যথা নিয়ে শাফিউল্লাহ ওই হাসপাতালে ভর্তি হন এবং শুক্রবার তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা ছিল। বিকালে কেবিনে আসমা ও তাঁর স্বামী দুজনেই ছিলেন এবং তাঁদের মাঝে ঝগড়া চলছিল। স্বজনদের অভিযোগ, ঝগড়ার একপর্যায়ে স্বামী শাফিউল্লাহ আসমাকে ওপর থেকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দিয়েছেন। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করা হয়েছে এবং পুলিশ অভিযুক্ত স্বামীকে ইতিমধ্যে আটক করেছে। নিহত আসমা আড়াই বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানের জননী ছিলেন।

এদিকে রাজধানীর বাড্ডা থানার আফতাবনগরের একটি বহুতল ভবন থেকে নিচে পড়ে মোছা. মনিকা আক্তার নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে আফতাবনগরের ই-ব্লকের ২ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর রোডের ৩১ নম্বর বাসার সামনে থেকে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফাতেমা সিদ্দিকা সোমা পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানান, প্রাথমিক ধারণায় মনে করা হচ্ছে তীব্র মানসিক হতাশা থেকেই শুক্রবার বিকেলে ওই আটতলা ভবনের ওপর থেকে লাফিয়ে পড়েন মনিকা। তবে এর পেছনে অন্য কোনো পারিবারিক কলহ বা কারণ রয়েছে কি না, তা বিস্তারিত তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহতের চাচাতো ভাই আমিরুল ইসলাম জানান, মনিকা আক্তার দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন। ঘটনার আগের দিন তাঁর স্বামী লিটন মিয়া গ্রামীণ জমিজমা সংক্রান্ত জরুরি বিষয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। মনিকার স্বামী ওই ভবনের কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত থাকায় তাঁরা পরিবারসহ ওই ভবনের নিচতলায় বসবাস করতেন। নিহত মনিকা আক্তার এক সন্তানের জননী ছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রাজধানীতে ভবন থেকে পড়ে ২ নারীর মৃত্যু

সর্বশেষ আপডেট ০৭:২৪:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

রাজধানীর ধানমণ্ডি ও বাড্ডা এলাকায় সম্পূর্ণ পৃথক দুটি ঘটনায় বহুতল ভবন থেকে নিচে পড়ে দুই নারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন— ধানমণ্ডি এলাকায় আসমা আক্তার (৩০) এবং বাড্ডা এলাকায় মোছা. মনিকা আক্তার (২৭)। আজ শনিবার (১৩ জুন) বিকালের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে নিহত দুই নারীর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে।

ধানমণ্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তুলি মন্ডল ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) বিকাল আনুমানিক ৩টার দিকে ধানমণ্ডির বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অষ্টম তলার ৮১৩ নম্বর কেবিনের বারান্দা থেকে নিচে পড়ে যান আসমা আক্তার। পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’ থেকে তথ্য পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ জানায়, ঘটনার সঠিক তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যাবে।

অন্য দিকে নিহত আসমার বোন রেশমি আক্তার অভিযোগ করে বলেন, তিন বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে শাফিউল্লাহর সঙ্গে আসমার বিয়ে হয়েছিল। তবে শাফিউল্লাহর আগের ঘরে স্ত্রী ও সন্তান থাকার বিষয়টি আসমার কাছে গোপন রাখা হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই আসমাকে নানাভাবে মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে স্বজনদের দাবি। রেশমি আরও জানান, তিন দিন আগে তীব্র পেটব্যথা নিয়ে শাফিউল্লাহ ওই হাসপাতালে ভর্তি হন এবং শুক্রবার তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা ছিল। বিকালে কেবিনে আসমা ও তাঁর স্বামী দুজনেই ছিলেন এবং তাঁদের মাঝে ঝগড়া চলছিল। স্বজনদের অভিযোগ, ঝগড়ার একপর্যায়ে স্বামী শাফিউল্লাহ আসমাকে ওপর থেকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দিয়েছেন। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করা হয়েছে এবং পুলিশ অভিযুক্ত স্বামীকে ইতিমধ্যে আটক করেছে। নিহত আসমা আড়াই বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানের জননী ছিলেন।

এদিকে রাজধানীর বাড্ডা থানার আফতাবনগরের একটি বহুতল ভবন থেকে নিচে পড়ে মোছা. মনিকা আক্তার নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে আফতাবনগরের ই-ব্লকের ২ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর রোডের ৩১ নম্বর বাসার সামনে থেকে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফাতেমা সিদ্দিকা সোমা পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানান, প্রাথমিক ধারণায় মনে করা হচ্ছে তীব্র মানসিক হতাশা থেকেই শুক্রবার বিকেলে ওই আটতলা ভবনের ওপর থেকে লাফিয়ে পড়েন মনিকা। তবে এর পেছনে অন্য কোনো পারিবারিক কলহ বা কারণ রয়েছে কি না, তা বিস্তারিত তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহতের চাচাতো ভাই আমিরুল ইসলাম জানান, মনিকা আক্তার দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন। ঘটনার আগের দিন তাঁর স্বামী লিটন মিয়া গ্রামীণ জমিজমা সংক্রান্ত জরুরি বিষয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। মনিকার স্বামী ওই ভবনের কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত থাকায় তাঁরা পরিবারসহ ওই ভবনের নিচতলায় বসবাস করতেন। নিহত মনিকা আক্তার এক সন্তানের জননী ছিলেন।