ঢাকা ০৮:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেরপুরে বিপৎসীমার ওপরে তিন নদীর পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:১৪:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • / 16

শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে বিপৎসীমার ওপরে ৩ নদী

গত কয়েকদিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে আসা তীব্র পাহাড়ি ঢলের কারণে শেরপুর জেলার প্রধান তিনটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে জেলার নিচু ও নিম্নাঞ্চলগুলোতে ব্যাপক বন্যা এবং আকস্মিক প্লাবনের এক বড় ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আজ শনিবার সকাল ৯টার দিকে শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলার চেল্লাখালি নদীর পানি বর্তমান বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সাথে উজান থেকে আসা ঢলের চাপে সোমেশ্বরী ও মহারশি নদীর পানিও আশঙ্কাজনকভাবে বিপৎসীমা অতিক্রম করে গেছে।

অন্য দিকে, ভোগাই নদীর পানি নাকুগাঁও পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৩৮ সেন্টিমিটার নিচে এবং নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ৩২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও সেখানে প্রতি মুহূর্তে পানি বাড়ার তীব্র প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা গেছে, পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে শেরপুরের ঝিনাইগাতী সদর বাজারের ভেতরে ইতিমধ্যে প্রবেশ করেছে। এর ফলে আশপাশের গ্রামীণ ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে সার্বিক পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বেশ অবনতির দিকে যাচ্ছে।

টানা বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি ও সীমান্ত এলাকায় ঢলের তীব্রতা আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। এর আগে পানির তীব্র স্রোতে নালিতাবাড়ী উপজেলার বর্ডার রোডসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায়।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার নাকুগাঁও পয়েন্টে ১৮০ মিলিমিটার, নালিতাবাড়ীতে ৩৫ মিলিমিটার এবং শেরপুর সদর পয়েন্টে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির কারণেই নদ-নদীর পানি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া মহারশি নদীর বিভিন্ন অংশে ঢলের পানি প্রতিরক্ষা বাঁধের একদম কাছাকাছি পৌঁছে গেছে এবং কিছু কিছু এলাকায় বাঁধের পাশের মাটি ধসে সরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় মানুষের মাঝে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘উজান থেকে বৃষ্টিপাত ও ঢল নামা কমলে নদীগুলোর পানি ধীরে ধীরে নেমে যাবে। বর্তমানে জেলায় বড় ধরনের কোনো বাঁধ ভাঙার খবর বা তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে পুরো পরিস্থিতি আমরা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং যেকোনো জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শেরপুরে বিপৎসীমার ওপরে তিন নদীর পানি

সর্বশেষ আপডেট ০৭:১৪:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

গত কয়েকদিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে আসা তীব্র পাহাড়ি ঢলের কারণে শেরপুর জেলার প্রধান তিনটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে জেলার নিচু ও নিম্নাঞ্চলগুলোতে ব্যাপক বন্যা এবং আকস্মিক প্লাবনের এক বড় ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আজ শনিবার সকাল ৯টার দিকে শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলার চেল্লাখালি নদীর পানি বর্তমান বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সাথে উজান থেকে আসা ঢলের চাপে সোমেশ্বরী ও মহারশি নদীর পানিও আশঙ্কাজনকভাবে বিপৎসীমা অতিক্রম করে গেছে।

অন্য দিকে, ভোগাই নদীর পানি নাকুগাঁও পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৩৮ সেন্টিমিটার নিচে এবং নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ৩২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও সেখানে প্রতি মুহূর্তে পানি বাড়ার তীব্র প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা গেছে, পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে শেরপুরের ঝিনাইগাতী সদর বাজারের ভেতরে ইতিমধ্যে প্রবেশ করেছে। এর ফলে আশপাশের গ্রামীণ ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে সার্বিক পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বেশ অবনতির দিকে যাচ্ছে।

টানা বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি ও সীমান্ত এলাকায় ঢলের তীব্রতা আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। এর আগে পানির তীব্র স্রোতে নালিতাবাড়ী উপজেলার বর্ডার রোডসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায়।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার নাকুগাঁও পয়েন্টে ১৮০ মিলিমিটার, নালিতাবাড়ীতে ৩৫ মিলিমিটার এবং শেরপুর সদর পয়েন্টে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির কারণেই নদ-নদীর পানি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া মহারশি নদীর বিভিন্ন অংশে ঢলের পানি প্রতিরক্ষা বাঁধের একদম কাছাকাছি পৌঁছে গেছে এবং কিছু কিছু এলাকায় বাঁধের পাশের মাটি ধসে সরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় মানুষের মাঝে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘উজান থেকে বৃষ্টিপাত ও ঢল নামা কমলে নদীগুলোর পানি ধীরে ধীরে নেমে যাবে। বর্তমানে জেলায় বড় ধরনের কোনো বাঁধ ভাঙার খবর বা তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে পুরো পরিস্থিতি আমরা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং যেকোনো জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।