ঢাকা ০৮:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পার্লামেন্ট থেকে সচিবালয় সব জায়গায় ‘হুতুমপেঁচা’: পাটওয়ারী

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:০০:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • / 9

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

দেশের প্রশাসন ও আইনসভার শীর্ষ পর্যায়গুলোতে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা জেঁকে বসেছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘বর্তমানে দেশের পার্লামেন্ট থেকে শুরু করে সচিবালয়—সব গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় হুতুমপেঁচা বসে রয়েছে। তারা রাষ্ট্রের এই শীর্ষ স্তরে বসে প্রতিনিয়ত লাগামহীন দুর্নীতি ও অনিয়মসহ নানা ধরনের জঘন্য অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে।’

আজ শনিবার (১৩ জুন) বিকেলের দিকে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক লালদিঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বিস্ফোরক কথা বলেন।

দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন প্রসঙ্গে পাটওয়ারী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘বাংলাদেশে সব মহলে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের বুলি আওড়ানো হলেও বাস্তবে ওই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি বা চরম ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। আর এর মাধ্যমে দেশের সাধারণ ও সাধারণ ভোটাধিকার বঞ্চিত জনগণের সঙ্গে এক বড় ধরনের প্রতারণা করা হয়েছে।’ এই সময় তিনি চট্টগ্রামের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত শীর্ষ নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর গভীর স্মৃতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘এই বীর চট্টলার মাটিতেই আল্লামা সাঈদীর বহু ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় বক্তব্য রয়েছে।’

ভারত সীমান্তে চলমান উত্তেজনা ও বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের সীমান্তে কোনো ধরনের হত্যাকাণ্ড বা আগ্রাসন কখনোই সমর্থন করি না। যেদিন সীমান্তে এই নির্মম হত্যাযজ্ঞ চিরতরে বন্ধ হবে এবং বাংলাদেশের কোনো নিরীহ নাগরিককে অবৈধভাবে সীমান্তে গুলি করে বা নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হবে না, ঠিক সেদিনই কেবল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রকৃত অর্থে ন্যায্য ও একটি স্বাভাবিক বন্ধুত্বের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা হওয়া সম্ভব।’

নিজেদের দলের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা জোরালো দাবি করেন, তাদের দল বা সংগঠনের কোনো নেতাকর্মী কোনো প্রকার চাঁদাবাজি কিংবা দুর্নীতির সঙ্গে বিন্দুমাত্র জড়িত নয়। তাঁরা দেশের প্রচলিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে চরম ধৈর্য ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকার ঘোষিত ২০ Calcutta ২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘এটি দেশের সাধারণ মানুষের জন্য কল্যাণকর কোনো বাজেট নয়, বরং এটি নির্দিষ্ট দলীয় লোকজনের আখের গোছানোর জন্য তৈরি করা একটি বিশেষ গেজেট মাত্র। এই জনবিরোধী বাজেটের মাধ্যমে প্রকারান্তরে দেশে নতুন করে চাঁদাবাজি ও লুটপাটকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই বিশাল বাজেটে জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম কিংবা মুগ্ধের মতো হাজারো তরুণদের মহান আত্মত্যাগের ন্যূনতম কোনো প্রতিফলন বা মূল্যায়ন রাখা হয়নি। তাই এই একপেশে বাজেটের প্রতি আমরা তীব্র ঘৃণা ও ধিক্কার জানাই।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পার্লামেন্ট থেকে সচিবালয় সব জায়গায় ‘হুতুমপেঁচা’: পাটওয়ারী

সর্বশেষ আপডেট ০৭:০০:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

দেশের প্রশাসন ও আইনসভার শীর্ষ পর্যায়গুলোতে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা জেঁকে বসেছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘বর্তমানে দেশের পার্লামেন্ট থেকে শুরু করে সচিবালয়—সব গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় হুতুমপেঁচা বসে রয়েছে। তারা রাষ্ট্রের এই শীর্ষ স্তরে বসে প্রতিনিয়ত লাগামহীন দুর্নীতি ও অনিয়মসহ নানা ধরনের জঘন্য অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে।’

আজ শনিবার (১৩ জুন) বিকেলের দিকে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক লালদিঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বিস্ফোরক কথা বলেন।

দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন প্রসঙ্গে পাটওয়ারী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘বাংলাদেশে সব মহলে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের বুলি আওড়ানো হলেও বাস্তবে ওই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি বা চরম ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। আর এর মাধ্যমে দেশের সাধারণ ও সাধারণ ভোটাধিকার বঞ্চিত জনগণের সঙ্গে এক বড় ধরনের প্রতারণা করা হয়েছে।’ এই সময় তিনি চট্টগ্রামের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত শীর্ষ নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর গভীর স্মৃতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘এই বীর চট্টলার মাটিতেই আল্লামা সাঈদীর বহু ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় বক্তব্য রয়েছে।’

ভারত সীমান্তে চলমান উত্তেজনা ও বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের সীমান্তে কোনো ধরনের হত্যাকাণ্ড বা আগ্রাসন কখনোই সমর্থন করি না। যেদিন সীমান্তে এই নির্মম হত্যাযজ্ঞ চিরতরে বন্ধ হবে এবং বাংলাদেশের কোনো নিরীহ নাগরিককে অবৈধভাবে সীমান্তে গুলি করে বা নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হবে না, ঠিক সেদিনই কেবল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রকৃত অর্থে ন্যায্য ও একটি স্বাভাবিক বন্ধুত্বের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা হওয়া সম্ভব।’

নিজেদের দলের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা জোরালো দাবি করেন, তাদের দল বা সংগঠনের কোনো নেতাকর্মী কোনো প্রকার চাঁদাবাজি কিংবা দুর্নীতির সঙ্গে বিন্দুমাত্র জড়িত নয়। তাঁরা দেশের প্রচলিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে চরম ধৈর্য ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকার ঘোষিত ২০ Calcutta ২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘এটি দেশের সাধারণ মানুষের জন্য কল্যাণকর কোনো বাজেট নয়, বরং এটি নির্দিষ্ট দলীয় লোকজনের আখের গোছানোর জন্য তৈরি করা একটি বিশেষ গেজেট মাত্র। এই জনবিরোধী বাজেটের মাধ্যমে প্রকারান্তরে দেশে নতুন করে চাঁদাবাজি ও লুটপাটকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই বিশাল বাজেটে জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম কিংবা মুগ্ধের মতো হাজারো তরুণদের মহান আত্মত্যাগের ন্যূনতম কোনো প্রতিফলন বা মূল্যায়ন রাখা হয়নি। তাই এই একপেশে বাজেটের প্রতি আমরা তীব্র ঘৃণা ও ধিক্কার জানাই।