ঢাকা ১২:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যয়বহুল বাংলাদেশ, কমছে বিদেশি পর্যটন আয়

জুলহাস কবীর, বিশেষ প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪৩:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫
  • / 55

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

বাংলাদেশের পর্যটন খাত সম্ভাবনাময় হলেও ব্যয়বহুল ভ্রমণ, সীমিত অবকাঠামো এবং পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক প্রচারণার অভাবে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে ভ্রমণ খরচ বেশি হওয়ায় বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ কমছে। একই সঙ্গে গত এক বছরে বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক–এর (এডিবি) এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে বাংলাদেশের আয় ছিল ৪৫ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার, যা ২০২৪ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৪ কোটি ডলারে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আয় কমেছে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫৯ কোটি টাকার সমান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশি পর্যটক আগমন কমে যাওয়াই এই আয়ের পতনের প্রধান কারণ।

ব্যয়বহুল ভ্রমণে নিরুৎসাহিত পর্যটকরা

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, ট্যুর অপারেটর এবং নিয়মিত ভ্রমণকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশে হোটেল, পরিবহন ও খাবারের খরচ অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, নেপাল, ভুটান বা ভারতের মতো দেশগুলোতে একই মানের হোটেল বা রিসোর্টে থাকার খরচ বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।

উদাহরণ হিসেবে জানা গেছে, ভারতের কেরালায় একটি পাঁচ তারকা মানের রিসোর্টে এক রাতের ভাড়া বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ হাজার ৪০০ টাকা, যেখানে একই মানের বা তার চেয়েও নিম্নমানের হোটেল কক্সবাজারে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। শ্রীমঙ্গল, বান্দরবান বা রাঙামাটির মতো জনপ্রিয় পর্যটন এলাকাগুলোতেও একই প্রবণতা দেখা যায়।

খাবারের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। প্রতিবেশী দেশগুলোতে পর্যটন এলাকায় একজন পর্যটকের খাবার খরচ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বাংলাদেশে একই মানের খাবারের জন্য খরচ করতে হয় ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা বা তারও বেশি।

পরিবহন খরচেও বড় ব্যবধান

পর্যটন খাতে উচ্চ ব্যয়ের আরেকটি বড় কারণ পরিবহন খরচ। দেশে অভ্যন্তরীণ রুটে স্বল্প দূরত্বের উড়োজাহাজ ভাড়াও তুলনামূলক বেশি। ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের ফ্লাইটে খরচ হয় ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা, যেখানে প্রতিবেশী দেশগুলোতে একই দূরত্বে টিকিট পাওয়া যায় প্রায় অর্ধেক দামে।

এছাড়া দেশের মধ্যে এসি বাসে ২০০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার ভ্রমণে খরচ হয় দেড় থেকে দুই হাজার টাকা, যা অন্য দেশে প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। ব্যক্তিগত গাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। বাংলাদেশে একটি গাড়ি ভাড়া করতে দিনে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হলেও নেপাল বা ভুটানে একই সেবা পাওয়া যায় প্রায় ৩ থেকে ৫ হাজার টাকায়।

মধ্য ব্যবসায়ীদের মুনাফা প্রবণতা ও নীতিগত দুর্বলতা

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যটন খাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের অন্যতম কারণ হলো ব্যবসায়ীদের স্বল্পমেয়াদি লাভের প্রবণতা এবং পর্যটনবান্ধব নীতির অভাব। অনেক ব্যবসায়ী দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পরিবর্তে তাৎক্ষণিক মুনাফার দিকে বেশি মনোযোগী। ফলে পর্যটকদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক ও সহনীয় মূল্য নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড–এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের বলেন, অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয় বেশি হলেও পর্যটন ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে ব্যবসায়ীদের মানসিকতাও বড় কারণ। তিনি জানান, পর্যটন খাতের উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে পিছিয়ে বাংলাদেশ

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পর্যটন খাত থেকে আয় ও পর্যটক আগমনের দিক থেকে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে রয়েছে। যেখানে ভারত, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা পর্যটন খাতে ব্যাপক আয় করছে, সেখানে বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক কম।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ–এর সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, অনলাইন ভিসা সুবিধা চালু, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচারণা বৃদ্ধি এবং পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়ন হলে বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ করা সম্ভব। পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং পর্যটন নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

দেশীয় পর্যটন নির্ভরতায় টিকে আছে খাত

বর্তমানে দেশের পর্যটন খাত মূলত দেশীয় পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবছর প্রায় এক কোটি দেশীয় পর্যটক দেশের বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যে ভ্রমণ করেন। কক্সবাজার, সিলেট, শ্রীমঙ্গল, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য।

তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক মানের সেবা, সহনীয় খরচ এবং আধুনিক প্রচারণা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ পর্যটন খাত থেকে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে।
সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমুদ্রসৈকত, পাহাড়ি অঞ্চল, বনাঞ্চল এবং ঐতিহাসিক নিদর্শনের কারণে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। কিন্তু এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে পর্যটন খাতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বিপণন বৃদ্ধি এবং সেবার মান উন্নয়ন জরুরি।

তারা মনে করেন, সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ, নীতিগত সংস্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাতে পরিণত হতে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ব্যয়বহুল বাংলাদেশ, কমছে বিদেশি পর্যটন আয়

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪৩:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫

বাংলাদেশের পর্যটন খাত সম্ভাবনাময় হলেও ব্যয়বহুল ভ্রমণ, সীমিত অবকাঠামো এবং পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক প্রচারণার অভাবে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে ভ্রমণ খরচ বেশি হওয়ায় বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ কমছে। একই সঙ্গে গত এক বছরে বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক–এর (এডিবি) এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে বাংলাদেশের আয় ছিল ৪৫ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার, যা ২০২৪ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৪ কোটি ডলারে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আয় কমেছে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫৯ কোটি টাকার সমান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশি পর্যটক আগমন কমে যাওয়াই এই আয়ের পতনের প্রধান কারণ।

ব্যয়বহুল ভ্রমণে নিরুৎসাহিত পর্যটকরা

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, ট্যুর অপারেটর এবং নিয়মিত ভ্রমণকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশে হোটেল, পরিবহন ও খাবারের খরচ অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, নেপাল, ভুটান বা ভারতের মতো দেশগুলোতে একই মানের হোটেল বা রিসোর্টে থাকার খরচ বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।

উদাহরণ হিসেবে জানা গেছে, ভারতের কেরালায় একটি পাঁচ তারকা মানের রিসোর্টে এক রাতের ভাড়া বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ হাজার ৪০০ টাকা, যেখানে একই মানের বা তার চেয়েও নিম্নমানের হোটেল কক্সবাজারে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। শ্রীমঙ্গল, বান্দরবান বা রাঙামাটির মতো জনপ্রিয় পর্যটন এলাকাগুলোতেও একই প্রবণতা দেখা যায়।

খাবারের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। প্রতিবেশী দেশগুলোতে পর্যটন এলাকায় একজন পর্যটকের খাবার খরচ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বাংলাদেশে একই মানের খাবারের জন্য খরচ করতে হয় ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা বা তারও বেশি।

পরিবহন খরচেও বড় ব্যবধান

পর্যটন খাতে উচ্চ ব্যয়ের আরেকটি বড় কারণ পরিবহন খরচ। দেশে অভ্যন্তরীণ রুটে স্বল্প দূরত্বের উড়োজাহাজ ভাড়াও তুলনামূলক বেশি। ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের ফ্লাইটে খরচ হয় ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা, যেখানে প্রতিবেশী দেশগুলোতে একই দূরত্বে টিকিট পাওয়া যায় প্রায় অর্ধেক দামে।

এছাড়া দেশের মধ্যে এসি বাসে ২০০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার ভ্রমণে খরচ হয় দেড় থেকে দুই হাজার টাকা, যা অন্য দেশে প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। ব্যক্তিগত গাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। বাংলাদেশে একটি গাড়ি ভাড়া করতে দিনে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হলেও নেপাল বা ভুটানে একই সেবা পাওয়া যায় প্রায় ৩ থেকে ৫ হাজার টাকায়।

মধ্য ব্যবসায়ীদের মুনাফা প্রবণতা ও নীতিগত দুর্বলতা

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যটন খাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের অন্যতম কারণ হলো ব্যবসায়ীদের স্বল্পমেয়াদি লাভের প্রবণতা এবং পর্যটনবান্ধব নীতির অভাব। অনেক ব্যবসায়ী দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পরিবর্তে তাৎক্ষণিক মুনাফার দিকে বেশি মনোযোগী। ফলে পর্যটকদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক ও সহনীয় মূল্য নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড–এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের বলেন, অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয় বেশি হলেও পর্যটন ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে ব্যবসায়ীদের মানসিকতাও বড় কারণ। তিনি জানান, পর্যটন খাতের উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে পিছিয়ে বাংলাদেশ

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পর্যটন খাত থেকে আয় ও পর্যটক আগমনের দিক থেকে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে রয়েছে। যেখানে ভারত, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা পর্যটন খাতে ব্যাপক আয় করছে, সেখানে বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক কম।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ–এর সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, অনলাইন ভিসা সুবিধা চালু, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচারণা বৃদ্ধি এবং পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়ন হলে বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ করা সম্ভব। পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং পর্যটন নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

দেশীয় পর্যটন নির্ভরতায় টিকে আছে খাত

বর্তমানে দেশের পর্যটন খাত মূলত দেশীয় পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবছর প্রায় এক কোটি দেশীয় পর্যটক দেশের বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যে ভ্রমণ করেন। কক্সবাজার, সিলেট, শ্রীমঙ্গল, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য।

তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক মানের সেবা, সহনীয় খরচ এবং আধুনিক প্রচারণা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ পর্যটন খাত থেকে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে।
সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমুদ্রসৈকত, পাহাড়ি অঞ্চল, বনাঞ্চল এবং ঐতিহাসিক নিদর্শনের কারণে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। কিন্তু এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে পর্যটন খাতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বিপণন বৃদ্ধি এবং সেবার মান উন্নয়ন জরুরি।

তারা মনে করেন, সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ, নীতিগত সংস্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাতে পরিণত হতে পারে।