ঢাকা ০৭:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে

বেড়া নির্মাণ ইস্যুতে মমতাকে দুষলেন অমিত শাহ

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:২৭:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • / 5

বেড়া নির্মাণ ইস্যুতে মমতাকে দুষলেন অমিত শাহ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও এসএসবিকে ১ হাজার ১২৯ একর জমি দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একই সঙ্গে আগের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে সীমান্ত বাহিনীর জন্য জমি বরাদ্দে বিলম্বের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। বার্তা সংস্থা এনআইয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) শিলিগুড়িতে সশস্ত্র সীমা বলের সীমান্ত সদর দপ্তরে বিভিন্ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অমিত শাহ। এ সময় তিনি বলেন, বিএসএফের জন্য জমি বরাদ্দ দিতে আগের রাজ্য সরকারের কাছে বারবার অনুরোধ করা হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার তা করেনি।

অমিত শাহ বলেন, তিনি নিজেও একবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে গিয়ে জমিটি বিএসএফের জন্য, বিজেপির জন্য নয়; এ কথা বুঝিয়ে বলেছিলেন। কিন্তু মমতা সরকার ক্ষমতা ছাড়ার আগ পর্যন্ত জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

এরপর পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর দ্রুত জমি বরাদ্দ দেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, সরকার গঠনের মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ ও এসএসবিকে ১ হাজার ১২৯ একর জমি দেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে গত মে মাসে ক্ষমতায় আসার পরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) হাতে ১০০০ একরের বেশি জমি হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

তিনি বলেন, এই দ্রুত পদক্ষেপ শুধু বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার কারণে নয়। সুভেন্দু অধিকারী বুঝতে পেরেছেন, অনুপ্রবেশ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ কিংবা ভারত কোনোটিই নিরাপদ নয়।

সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শিলিগুড়ি করিডরের কৌশলগত গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই করিডরটি প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৮টি রাজ্যকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করেছে এটি।

‘চিকেন নেক’ নামে পরিচিত এই সরু করিডরটি দক্ষিণ ও পশ্চিমে বাংলাদেশ, উত্তরে তিব্বত ও চীনের সীমান্তের কাছাকাছি। একই সঙ্গে এর আশপাশে নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। ফলে জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে অঞ্চলটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার করতে ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। চোপড়া, কিশানগঞ্জ ও ধুবরিতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে।

এসএসবির সদস্যদের দায়িত্বের প্রশংসা করে শাহ বলেন, উন্মুক্ত সীমান্ত পাহারা দেওয়ার কাজ সবচেয়ে কঠিন। সীমান্ত নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করতে সরকার অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সূত্র : এএনআই

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে

বেড়া নির্মাণ ইস্যুতে মমতাকে দুষলেন অমিত শাহ

সর্বশেষ আপডেট ০৬:২৭:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও এসএসবিকে ১ হাজার ১২৯ একর জমি দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একই সঙ্গে আগের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে সীমান্ত বাহিনীর জন্য জমি বরাদ্দে বিলম্বের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। বার্তা সংস্থা এনআইয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) শিলিগুড়িতে সশস্ত্র সীমা বলের সীমান্ত সদর দপ্তরে বিভিন্ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অমিত শাহ। এ সময় তিনি বলেন, বিএসএফের জন্য জমি বরাদ্দ দিতে আগের রাজ্য সরকারের কাছে বারবার অনুরোধ করা হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার তা করেনি।

অমিত শাহ বলেন, তিনি নিজেও একবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে গিয়ে জমিটি বিএসএফের জন্য, বিজেপির জন্য নয়; এ কথা বুঝিয়ে বলেছিলেন। কিন্তু মমতা সরকার ক্ষমতা ছাড়ার আগ পর্যন্ত জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

এরপর পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর দ্রুত জমি বরাদ্দ দেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, সরকার গঠনের মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ ও এসএসবিকে ১ হাজার ১২৯ একর জমি দেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে গত মে মাসে ক্ষমতায় আসার পরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) হাতে ১০০০ একরের বেশি জমি হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

তিনি বলেন, এই দ্রুত পদক্ষেপ শুধু বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার কারণে নয়। সুভেন্দু অধিকারী বুঝতে পেরেছেন, অনুপ্রবেশ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ কিংবা ভারত কোনোটিই নিরাপদ নয়।

সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শিলিগুড়ি করিডরের কৌশলগত গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই করিডরটি প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৮টি রাজ্যকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করেছে এটি।

‘চিকেন নেক’ নামে পরিচিত এই সরু করিডরটি দক্ষিণ ও পশ্চিমে বাংলাদেশ, উত্তরে তিব্বত ও চীনের সীমান্তের কাছাকাছি। একই সঙ্গে এর আশপাশে নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। ফলে জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে অঞ্চলটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার করতে ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। চোপড়া, কিশানগঞ্জ ও ধুবরিতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে।

এসএসবির সদস্যদের দায়িত্বের প্রশংসা করে শাহ বলেন, উন্মুক্ত সীমান্ত পাহারা দেওয়ার কাজ সবচেয়ে কঠিন। সীমান্ত নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করতে সরকার অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সূত্র : এএনআই