ঢাকা ০৭:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ববিতে রাজনীতি নিষিদ্ধ, তবু জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের কমিটি

মোঃ আশিকুল ইসলাম, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৯:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • / 84

ববিতে রাজনীতি নিষিদ্ধ, তবু জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের কমিটি

‎বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব ধরনের রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের নামে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে শনিবার (২২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা হলে কাউন্সিল সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন শেষে ১৭ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার সকাল ১০টায় জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে এ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের ব্যানারে প্রধান অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আহ্বায়ক ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আব্দুল আলিম বাছির এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে সাদা দলের সদস্যসচিব ও প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান সোহাগের নাম ছিল। তবে তারা কেউ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।

অনুষ্ঠান শেষে ১৭ সদস্যের কমিটিতে কর্মচারী মো. মামুন শেখকে সভাপতি এবং মো. জাকির মৃধাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. রুহুল আমিন ও সদস্যসচিব ফিরোজুল ইসলামের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে বিজ্ঞপ্তিতে অনুমোদনের তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৫তম (বিশেষ) সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। ওই সিদ্ধান্ত বহাল থাকা অবস্থায় কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করা পর্যন্ত এ ধরনের কমিটি গঠনকে তারা বিধিবহির্ভূত বলে দাবি করেন।

তবে জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের সভাপতি মো. মামুন শেখ বলেন, তারা বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী কর্মচারী ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি তারা পাননি এবং রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার বিষয়টিও তারা জানেন। তবে কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরতেই এই পরিষদ গঠন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

কাউন্সিল সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী কর্মচারী ফেডারেশনের আহ্বায়ক মো. হাসানুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী পরিষদের সদস্যসচিব মো. ফিরোজুল ইসলাম।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট অনুষ্ঠিত ৮৫তম (বিশেষ) সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য সব ধরনের রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।

তবে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ক্যাম্পাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম ও কমিটি রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের ‘সাদা দল’-এরও একটি মৌখিক কমিটি রয়েছে বলে জানা গেছে। এতে আহ্বায়ক হিসেবে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আব্দুল আলিম বাছির এবং সদস্যসচিব হিসেবে প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান সোহাগের নাম রয়েছে। জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের কাউন্সিলের ব্যানারেও তাদের ওই পরিচয়ে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে প্রক্টর ও সাদা দলের সদস্যসচিব সহযোগী অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান সোহাগের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও সাদা দলের আহ্বায়ক ড. আব্দুল আলিম বাছির বলেন, তিনি পরীক্ষার কাজে বাইরে থাকায় বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। অনুষ্ঠানের ব্যানারে তাঁর নাম কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে; এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন না; পরে খোঁজ নিয়ে জানাবেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ববিতে রাজনীতি নিষিদ্ধ, তবু জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের কমিটি

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৯:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

‎বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব ধরনের রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের নামে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে শনিবার (২২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা হলে কাউন্সিল সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন শেষে ১৭ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার সকাল ১০টায় জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে এ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের ব্যানারে প্রধান অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আহ্বায়ক ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আব্দুল আলিম বাছির এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে সাদা দলের সদস্যসচিব ও প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান সোহাগের নাম ছিল। তবে তারা কেউ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।

অনুষ্ঠান শেষে ১৭ সদস্যের কমিটিতে কর্মচারী মো. মামুন শেখকে সভাপতি এবং মো. জাকির মৃধাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. রুহুল আমিন ও সদস্যসচিব ফিরোজুল ইসলামের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে বিজ্ঞপ্তিতে অনুমোদনের তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৫তম (বিশেষ) সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। ওই সিদ্ধান্ত বহাল থাকা অবস্থায় কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করা পর্যন্ত এ ধরনের কমিটি গঠনকে তারা বিধিবহির্ভূত বলে দাবি করেন।

তবে জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের সভাপতি মো. মামুন শেখ বলেন, তারা বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী কর্মচারী ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি তারা পাননি এবং রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার বিষয়টিও তারা জানেন। তবে কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরতেই এই পরিষদ গঠন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

কাউন্সিল সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী কর্মচারী ফেডারেশনের আহ্বায়ক মো. হাসানুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী পরিষদের সদস্যসচিব মো. ফিরোজুল ইসলাম।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট অনুষ্ঠিত ৮৫তম (বিশেষ) সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য সব ধরনের রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।

তবে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ক্যাম্পাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম ও কমিটি রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের ‘সাদা দল’-এরও একটি মৌখিক কমিটি রয়েছে বলে জানা গেছে। এতে আহ্বায়ক হিসেবে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আব্দুল আলিম বাছির এবং সদস্যসচিব হিসেবে প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান সোহাগের নাম রয়েছে। জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের কাউন্সিলের ব্যানারেও তাদের ওই পরিচয়ে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে প্রক্টর ও সাদা দলের সদস্যসচিব সহযোগী অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান সোহাগের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও সাদা দলের আহ্বায়ক ড. আব্দুল আলিম বাছির বলেন, তিনি পরীক্ষার কাজে বাইরে থাকায় বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। অনুষ্ঠানের ব্যানারে তাঁর নাম কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে; এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন না; পরে খোঁজ নিয়ে জানাবেন।