শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ চায় ঢাকা চেম্বার
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৫:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
- / 9
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার কমানো এবং জ্বালানি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি; প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারিখাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এতে ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের পাশাপাশি বিভিন্ন গবেষণা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মূল প্রবন্ধে তাসকীন আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণের উচ্চ ব্যয় এবং ব্যবসায়িক খরচ বৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে চাপ তৈরি হয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সুদের হার ধীরে ধীরে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা প্রয়োজন। এরই মধ্যে সুদের হার ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমানো হলেও আরও কার্যকর পদক্ষেপ দরকার।
তিনি বলেন, শিল্পের উৎপাদন সচল রাখতে জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
ডিসিসিআই সভাপতি জানান, সরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ হলেও বেসরকারি খাতে তা মাত্র ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য এ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সিএমএসএমই খাতের জন্য ঘোষিত ৫ হাজার কোটি টাকার সহায়তা প্যাকেজ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, স্বচ্ছ তদারকির মাধ্যমে প্রকৃত উৎপাদনমুখী উদ্যোক্তাদের কাছে সহজে অর্থ পৌঁছাতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, খেলাপি ঋণ কমানো এবং আর্থিক খাতের ওপর মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন তিনি।
ব্যবসায়ী আস্থা ফিরিয়ে এনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তাসকীন আহমেদ বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা চ্যালেঞ্জপূর্ণ হলেও কার্যকর সংস্কার, নীতিগত সমন্বয় ও জবাবদিহিমূলক বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকনির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে হবে। রপ্তানির ক্ষেত্রে লিড টাইম কমাতে শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করা এবং আধুনিক লজিস্টিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে বড় বিনিয়োগ আকর্ষণ করা প্রয়োজন।
সিএমএসএমই খাতে ঋণপ্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা ২৫ শতাংশ হলেও বাস্তবে তা ১৬ দশমিক ৮ শতাংশে রয়েছে বলে জানান তিনি। ব্যবসায়িক ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এ খাতে খেলাপি ঋণের হারও ২৪ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতিতে প্রচলিত জামানতনির্ভর ঋণের পরিবর্তে ডিজিটাল ক্রেডিট স্কোরিংয়ের মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেন তিনি।
এ ছাড়া সাশ্রয়ী দামে যন্ত্রপাতি কেনার জন্য বিশেষ তহবিল গঠন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সৌরচালিত সেচব্যবস্থায় বিনিয়োগে স্বল্পসুদের ঋণ এবং বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি পর্যালোচনার প্রস্তাব দেন ডিসিসিআই সভাপতি।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানির উৎস বহুমুখী করার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে দেশের অফশোর গ্যাস ও জ্বালানি অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সেমিনারে ব্যবসা সহজীকরণের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়। কোম্পানি নিবন্ধন প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজেশন, কাস্টমস প্রক্রিয়া দ্রুত করা, কর ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন বাড়ানো এবং এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি হিসেবে সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।





























