বেকারত্বে অটোরিকশায় ঝুঁকছেন অনেকে
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৫৬:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 17
অটোরিকশা চালক এখন আর শুধু অটোরিকশা চালক নন। বেকার, ব্যবসায়ী, দিনমজুর, ভ্যানচালক কিংবা বিভিন্ন পেশার মানুষ জীবিকার তাগিদে এখন এই পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। কম দক্ষতায় কাজের সুযোগ, নিজের মতো সময় নির্ধারণ এবং প্রতিদিন নগদ আয়; এসব কারণেই অটোরিকশা চালানোর দিকে ঝুঁকছেন অনেকে।
পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি একসময় ঢাকায় ভ্যানে করে মাছ বিক্রি করতেন। ব্যবসায় মন্দা দেখা দেওয়ায় এখন তিনি অটোরিকশা চালান। আগে কখনো অটোরিকশা চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল না, এমনকি কোনো প্রশিক্ষণও নেননি। তবু প্রয়োজনের তাগিদে নিজেই শিখে নিয়েছেন এই কাজ।
পেশা পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অটো চালাতে আবার অভিজ্ঞতা লাগে নাকি? দুই-তিনটি টিউনিং দিলেই অটো চালানো যায়। কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই আমি শিখেছি। এটা আমার পেশা নয়, ঠেকায় পড়ে অটো চালাচ্ছি।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, তুলনামূলক কম খরচে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তৈরি করা সম্ভব। প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচে একটি অটোরিকশা তৈরি করা যায়। অন্যদিকে দিন শেষে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হওয়ার সুযোগ থাকায় বিভিন্ন পেশার মানুষও এতে আগ্রহী হচ্ছেন।
অন্য পেশা ছেড়ে অটোরিকশা চালানো কয়েকজন জানান, আগে তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ডেকোরেটরের কাজে যুক্ত ছিলেন। সেখানে দিনভর কাজ করেও আয় হতো মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। ওই আয়ে পরিবারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। বাধ্য হয়ে তারা অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন।
তাদের একজন বলেন, ‘আগে অফিসার ক্লাবে ডেকোরেটরের লাইনে পাতিল ধুতাম। প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ টাকা আয় হতো। ওই টাকা দিয়ে কোনোভাবেই সংসার চালানো সম্ভব ছিল না। পরিবার নিয়ে সুখে থাকতে পারতাম না। তাই এখন অটোরিকশা চালাই।’
আরেক চালক বলেন, ‘আমি আগে প্রাইভেটকারের চালক ছিলাম। দেশে জমিজমাও করছি। কিন্তু সার, পানির দামসহ কৃষির বিভিন্ন খরচ বেড়ে গেছে। সব মিলিয়ে এখন কী করব, সেটাই বুঝতে পারছি না। তাই অটোরিকশা চালাচ্ছি।’
নতুন চালকের সংখ্যা বাড়ায় রাজধানীর বিভিন্ন অটোরিকশার গ্যারেজ ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ওপরও এর প্রভাব পড়ছে। গ্যারেজ মালিকদের ভাষ্য, প্রতিদিনের নগদ আয় এবং তুলনামূলক সহজে এই পেশায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকায় অন্য পেশার মানুষও এখন অটোরিকশা চালাতে আসছেন।
রিকশা ব্যবসায়ীদের একজন বলেন, ‘মাত্র ২ লাখ ৩৯ হাজার রিকশা দিয়ে কি এমনভাবে চলতে পারে? বর্তমানে তো ১০ থেকে ১২ লাখ অটো চলছে। বিভিন্ন মালিক এগুলো তৈরি করেছেন। ব্যাটারি, যন্ত্রাংশসহ এসব মালামাল বাইরে থেকে আমদানি করে দেশে আনা হয়েছে। নিশ্চয়ই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই এসব মালামাল আমদানি করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি এসব মালামাল দেশে আনার অনুমতি থাকে, তাহলে এগুলো দিয়ে অটোরিকশা চালানোর বিষয়টিও সরকারের বিবেচনা করা উচিত। একটি নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে এনে অটোরিকশাগুলোকে বৈধতার আওতায় আনা প্রয়োজন।’
চালকদের দাবি, সরকারি ফি পরিশোধ করে দুই সিটি করপোরেশনের ২ লাখ ৩৯ হাজার প্যাডেলচালিত রিকশার রেজিস্ট্রেশন নম্বরও নবায়ন করা হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকেও একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা ও নিয়মের আওতায় এনে বৈধতা দেবে সরকার। এতে একদিকে যেমন চালকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকবে, অন্যদিকে অটোরিকশা চলাচলেও শৃঙ্খলা ফিরবে।
































