অবরোধ তুলে সড়ক ছাড়লেন অটোরিকশাচালকেরা
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:১৮:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 15
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ১০ দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কয়েক শ চালক। চার্জিং পয়েন্টে বিদ্যুৎসংযোগ পুনঃস্থাপন এবং গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক নেতাদের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবি জানান তারা। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে সড়ক ছেড়ে চলে যান বিক্ষোভকারীরা। তবে দাবি মেনে না নিলে ফের আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন অটোরিকশাচালকেরা। এতে ওই সড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, অটোরিকশাচালকেরা প্রায় এক ঘণ্টা সড়কে অবস্থান করে বিক্ষোভ করেন। পরে তারা সড়ক ছেড়ে চলে যান।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হতে থাকেন অটোরিকশাচালকেরা। সেখানে মানববন্ধন করে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন তারা। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। মেট্রোরেল স্টেশনে যাতায়াতকারী যাত্রীরাও সমস্যায় পড়েন। এমনকি স্টেশনে ওঠার সিঁড়িও কিছু সময় বন্ধ হয়ে যায়।
পরে প্রেসক্লাবের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ঢাকা মহানগর অটোরিকশা ও ইজিবাইক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা বক্তব্য দেন। তারা দ্রুত চার্জিং পয়েন্টগুলোতে বিদ্যুৎসংযোগ পুনঃস্থাপন এবং গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক নেতাদের মুক্তির দাবি জানান।
অটোরিকশাচালকেরা অভিযোগ করেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়েই তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। সম্প্রতি বিভিন্ন চার্জিং পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় অটোরিকশা চালানো নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, তাদের ১০ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে এবং চার্জিং পয়েন্টগুলোতে বিদ্যুৎসংযোগ ফিরিয়ে দিতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
সমাবেশ শেষে একটি মিছিল নিয়ে দৈনিক বাংলার দিকে যান অটোরিকশাচালকেরা। সেখানে গিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন তারা। রাজধানীর খিলগাঁও, মিরপুর, বাড্ডা, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী, পুরান ঢাকা ও রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকার কয়েক শ চালক কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এদিকে অটোরিকশাচালকদের ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বাড্ডা, মতিঝিল, সবুজবাগ, খিলগাঁও, মহাখালী, গুলশান, রমনা ও রামপুরায় অটোরিকশা চলাচল কম থাকায় সংকটে পড়েন যাত্রীরা।
অটোরিকশাচালকদের ধর্মঘটের সুযোগে বিভিন্ন এলাকায় পায়ে চালিত রিকশায় তুলনামূলক বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। মোহাম্মদপুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, নিউমার্কেট, ফার্মগেট, শাহবাগ, মহাখালী, গুলশান, বাড্ডা ও খিলগাঁও এলাকায় এ পরিস্থিতি দেখা যায়। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা না পেয়ে অনেক যাত্রীকে বেশি ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যেতে হয়েছে।
































