বিনিয়োগ বাড়াতে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৭:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
- / 52
বিশ্ববাজারের বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে একটি নির্ভরযোগ্য ও গঠনমূলক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে ঢাকা গভীরভাবে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতামূলক, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে সামগ্রিক দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের মধ্যে বিনিয়োগের প্রথম ও প্রধান গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।
আজ শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনীতিক কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক সম্মেলন’ এবং ‘ঝুঁকি মোকাবেলায় স্থিতিস্থাপকতার সদ্ব্যবহার’ শীর্ষক এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকটকে বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা বলেও সুনির্দিষ্টভাবে মন্তব্য করেন।
ড. খলিলুর রহমান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি এবং বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার এই অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ও জটিল সময়ে বাংলাদেশের সামগ্রিক বৈদেশিক নীতির মূল ভিত্তিই হচ্ছে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সরাসরি বৈশ্বিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ স্তরে সচল রাখাকেই বর্তমান সরকার এখন সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বৈশ্বিক নানা অর্থনৈতিক ঝুঁকিগুলো সফল ও বুদ্ধিমত্তার সাথে মোকাবেলা করার জন্য প্রথাগত কূটনীতির বাইরে গিয়ে সুনির্দিষ্ট ‘অর্থনৈতিক কূটনীতির’ ওপর বিশেষ জোর দিতে হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে বহুমুখী ও শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমেই বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিকে আরও বেশি টেকসই ও স্থিতিশীল করবে সরকার। একই সাথে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে একটি দীর্ঘমেয়াদি টেকসই, স্বচ্ছ এবং আগে থেকে অনুমান করা যায় (পূর্বাভাসযোগ্য) এমন একটি চমৎকার নীতিগত পরিবেশ তৈরি করতে সরকার শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দেশের অর্থনীতিকে আরও মজবুত করতে সরকার এখন প্রথাগত বা গতানুগতিক খাতের বাইরে গিয়ে অর্থনৈতিক খাতগুলোকে ব্যাপকভাবে বহুমুখী করার পরিকল্পনা করছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সৃজনশীল শিল্প (Creative Industries) এবং ক্রীড়া খাতের মতো উদীয়মান বৈশ্বিক ক্ষেত্রগুলোতে সুনির্দিষ্ট সরকারি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। এসব সম্ভাবনাময় খাতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বৃদ্ধি করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে বিশ্বমঞ্চে সফলভাবে তুলে ধরার এখনই উপযুক্ত সময়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মূলত ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্র নীতির অধীনে জাতীয় উন্নয়ন কর্মসূচিকে গতিশীল করতে এই সম্মেলনে বাংলাদেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কূটনীতির মূল অগ্রাধিকারগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে একটি অর্থবহ সংলাপ, মুক্ত আলোচনা ও মতবিনিময়ের দারুণ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে। দিনব্যাপী আয়োজিত এই বিশেষ সম্মেলনে মোট তিনটি বিষয়ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন (থিমেটিক প্লেনারি সেশন) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
































