ঢাকা ০১:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাচ্চু রাজাকারের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত নিয়ে আপিল শুনানি শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 10

বাচ্চু রাজাকারে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত নিয়ে আপিল শুনানি শুরু

মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের করা আপিলের শুনানি শুরু হয়েছে। আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা স্থগিত থাকবে কি না, সে বিষয়েও শুনানি হচ্ছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।

এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের সময় চাওয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ আগস্ট আপিল বিভাগ শুনানি ১৭ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি করেছিলেন।

আবুল কালাম আযাদ ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ৬ জুলাই আপিল করেন। একই সঙ্গে আপিল করতে দীর্ঘ বিলম্বের জন্য ৪ হাজার ৯১৫ দিনের বিলম্ব মার্জনার আবেদন করেন তিনি। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের সাজা স্থগিত রাখারও আবেদন করা হয়েছে।

আপিলটি প্রথমে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে ওঠার পর নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য আসে। শুনানিতে আবুল কালাম আযাদের পক্ষে রয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিকী ও আইনজীবী মীর ওসমান বিন নাসিম। রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

এর আগে চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছিলেন, আপিলকারী পক্ষ মামলার পেপারবুকের কপি না দেওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ প্রস্তুতির জন্য সময় চেয়েছিল। পরে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে ১৭ আগস্ট শুনানির দিন নির্ধারণ করেন।

২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তার বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে সাতটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং চারটিতে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও মৃত্যুদণ্ডের কারণে পৃথকভাবে কারাদণ্ড কার্যকর করার প্রয়োজন হয়নি।

রায় ঘোষণার সময় তিনি পলাতক ছিলেন। দীর্ঘ ১৩ বছর পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর তার করা আপিল ও সাজা স্থগিতের আবেদন নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়।

এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের অক্টোবরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে আবুল কালাম আযাদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল।

এখন আপিল বিভাগে তার করা আপিলের শুনানি চলছে। শুনানি শেষে আদালত আপিল গ্রহণ, বিলম্ব মার্জনা এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বাচ্চু রাজাকারের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত নিয়ে আপিল শুনানি শুরু

সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের করা আপিলের শুনানি শুরু হয়েছে। আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা স্থগিত থাকবে কি না, সে বিষয়েও শুনানি হচ্ছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।

এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের সময় চাওয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ আগস্ট আপিল বিভাগ শুনানি ১৭ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি করেছিলেন।

আবুল কালাম আযাদ ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ৬ জুলাই আপিল করেন। একই সঙ্গে আপিল করতে দীর্ঘ বিলম্বের জন্য ৪ হাজার ৯১৫ দিনের বিলম্ব মার্জনার আবেদন করেন তিনি। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের সাজা স্থগিত রাখারও আবেদন করা হয়েছে।

আপিলটি প্রথমে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে ওঠার পর নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য আসে। শুনানিতে আবুল কালাম আযাদের পক্ষে রয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিকী ও আইনজীবী মীর ওসমান বিন নাসিম। রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

এর আগে চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছিলেন, আপিলকারী পক্ষ মামলার পেপারবুকের কপি না দেওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ প্রস্তুতির জন্য সময় চেয়েছিল। পরে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে ১৭ আগস্ট শুনানির দিন নির্ধারণ করেন।

২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তার বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে সাতটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং চারটিতে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও মৃত্যুদণ্ডের কারণে পৃথকভাবে কারাদণ্ড কার্যকর করার প্রয়োজন হয়নি।

রায় ঘোষণার সময় তিনি পলাতক ছিলেন। দীর্ঘ ১৩ বছর পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর তার করা আপিল ও সাজা স্থগিতের আবেদন নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়।

এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের অক্টোবরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে আবুল কালাম আযাদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল।

এখন আপিল বিভাগে তার করা আপিলের শুনানি চলছে। শুনানি শেষে আদালত আপিল গ্রহণ, বিলম্ব মার্জনা এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।