বাংলা–ইংরেজি রিডিং না পারলে শিক্ষকদের বেতন বন্ধের নির্দেশ
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৫:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
- / 13
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা—বাংলা ও ইংরেজি পড়া এবং গণিতের চারটি নিয়ম—নিশ্চিত করতে কঠোর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হলে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে এই নির্দেশনা দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন।
সেখানে বলা হয়, আগামী জুনের মধ্যে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের মৌলিক দক্ষতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আনতে হবে, আর জুলাইয়ের মধ্যে তা প্রায় শতভাগে পৌঁছাতে হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন বাংলা ও ইংরেজি বই থেকে জোরে জোরে পাঠ করানো এবং নিয়মিত গণিত অনুশীলনে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিশেষভাবে যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগে দক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা আলাদা লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জুনের মধ্যে অন্তত ৯০ শতাংশ এবং জুলাইয়ের মধ্যে ১০০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত দক্ষতায় পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জেলা পর্যায় থেকে ইতোমধ্যে প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিটি বিদ্যালয়কে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা জেলা শিক্ষা অফিসে জমা দিতে হবে।
তবে নির্দেশনায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে সতর্কবার্তাটি—নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ফল না এলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বন্ধের কথা বলা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোফাজ্জল হোসেন জানান, কেন্দ্রীয় নির্দেশনার ভিত্তিতেই এসব চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং অন্যান্য জেলাতেও একই ধরনের উদ্যোগ চলছে।
অন্যদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের মৌলিক পাঠদক্ষতা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য, এবং এটি বাস্তবায়ন ছাড়া সরকারের শিক্ষা-উন্নয়ন পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া কঠিন হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
































