ঢাকা ১০:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ববি ছাত্রদলে চাঁদাবাজি , দুই সহ-সভাপতি বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:০২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • / 38

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শাখা ছাত্রদল মহাসড়কে পোনাবাহি মাছের গাড়ি আটকে চাঁদাবাজি করে আসছে দীর্ঘদিন। অভিযোগ রয়েছে ছাত্রদলের শীর্ষ পাঁচ নেতার যোগসাজশে মহাসড়কে চলতো চাঁদাবাজি।

গত মঙ্গলবার চাঁদাবাজির ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। এরপরই ববি ছাত্রদল ইউনিটের অপকর্ম ঢাকতে তড়িঘড়ি করে দায়সারাভাবে দুই সহ-সভাপতিকে বহিষ্কারাদেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। শীর্ষ পাঁচ নেতার যোগসাজশে হলেও তারা রয়ে গেছেন ধরাছোয়ার বাইরে।

বৃহস্পতিবার (২১ই মে) ‎চাঁদাবাজির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মিঞা বাবুল ও মোঃ মিঠুকে তাদের সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে গত মঙ্গলবার  (১৯ই মে) মহাসড়কে পোনাবাহি মাছের গাড়ি আটকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মিঞাবাবুল সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে আরও ২০-২৫ জন কর্মী চাঁদাবাজি করে লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় পোনা ব্যবাসায়ী ও গাড়ির মালিকের থেকে। একইদিনে আরেকটি গাড়ি থেকে চাঁদা না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল গাড়ি ভাংচুর ও ড্রাইভারকে মারধর করে।

ঐঘটনার পর নড়েচড়ে বসে পুলিশপ্রশাসন সাথে টনক নড়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের। পরদিন গত বুধবার ডেকে নেন শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ হোসাইন শান্ত ও সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেনকে। পরে  চাঁদাবাজির ঘটনায় লোক দেখানো দুজনকে বহিষ্কার করে দায় সেরেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এদিকে যাদের যোগসাজশে চাঁদাবাজি চলতো তারা আজ ধরাছোঁয়ার বাইরে।

বহিষ্কারাদেশ  বিজ্ঞাপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ সভাপতি মিয়া বাবুল এবং মোঃ মিঠুকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।

‎বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির আজ এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সাথে কোনরূপ সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি মিঞা বাবুল বলেন, দল আমার বিরুদ্ধে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমি সেটাকে গ্রহণ করলাম। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ভালোভাবে চলুক কলঙ্ক মুছে যাক সেই কামনা করছি। তিনি আরও বলেন, আসলে আমরা সিনিয়র তো সবজায়গায় আমাদের নামটাই আগে তবে সামগ্রিকভাবে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি দলের স্বার্থে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এটা পুরোটা একটা নাটক হয়ে গেল। নিজেরা বাঁচতে দুজনকে বলির পাঠা বানালো। সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানের বহিষ্কার হওয়া উচিত ছিলো আগে। এবং শীর্ষ পদধারীদের যাদের যোগসাজশে এগুলো চলে। ‎

গত মঙ্গলাবার পোনাবাহি মাছের গাড়ি আটকে চাঁদাবাজির ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সহ-সভাপতি মিঞা বাবুল,  সহ-সভাপতি মো. মিঠুন, সহ-সভাপতি আকিব,  যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম হোসেন স্বজন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাখাওয়াত, সহ-সাংগাঠনিক সম্পাদক মো. হায়দার মুন্সি, শাহরিয়ারসহ কমপক্ষে ২০-২৫ জন নেতাকর্মী যুক্ত থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও শুধু দায়সারাভাবে দুজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ববি ছাত্রদলে চাঁদাবাজি , দুই সহ-সভাপতি বহিষ্কার

সর্বশেষ আপডেট ০৬:০২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শাখা ছাত্রদল মহাসড়কে পোনাবাহি মাছের গাড়ি আটকে চাঁদাবাজি করে আসছে দীর্ঘদিন। অভিযোগ রয়েছে ছাত্রদলের শীর্ষ পাঁচ নেতার যোগসাজশে মহাসড়কে চলতো চাঁদাবাজি।

গত মঙ্গলবার চাঁদাবাজির ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। এরপরই ববি ছাত্রদল ইউনিটের অপকর্ম ঢাকতে তড়িঘড়ি করে দায়সারাভাবে দুই সহ-সভাপতিকে বহিষ্কারাদেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। শীর্ষ পাঁচ নেতার যোগসাজশে হলেও তারা রয়ে গেছেন ধরাছোয়ার বাইরে।

বৃহস্পতিবার (২১ই মে) ‎চাঁদাবাজির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মিঞা বাবুল ও মোঃ মিঠুকে তাদের সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে গত মঙ্গলবার  (১৯ই মে) মহাসড়কে পোনাবাহি মাছের গাড়ি আটকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মিঞাবাবুল সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে আরও ২০-২৫ জন কর্মী চাঁদাবাজি করে লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় পোনা ব্যবাসায়ী ও গাড়ির মালিকের থেকে। একইদিনে আরেকটি গাড়ি থেকে চাঁদা না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল গাড়ি ভাংচুর ও ড্রাইভারকে মারধর করে।

ঐঘটনার পর নড়েচড়ে বসে পুলিশপ্রশাসন সাথে টনক নড়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের। পরদিন গত বুধবার ডেকে নেন শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ হোসাইন শান্ত ও সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেনকে। পরে  চাঁদাবাজির ঘটনায় লোক দেখানো দুজনকে বহিষ্কার করে দায় সেরেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এদিকে যাদের যোগসাজশে চাঁদাবাজি চলতো তারা আজ ধরাছোঁয়ার বাইরে।

বহিষ্কারাদেশ  বিজ্ঞাপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ সভাপতি মিয়া বাবুল এবং মোঃ মিঠুকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।

‎বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির আজ এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সাথে কোনরূপ সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি মিঞা বাবুল বলেন, দল আমার বিরুদ্ধে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমি সেটাকে গ্রহণ করলাম। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ভালোভাবে চলুক কলঙ্ক মুছে যাক সেই কামনা করছি। তিনি আরও বলেন, আসলে আমরা সিনিয়র তো সবজায়গায় আমাদের নামটাই আগে তবে সামগ্রিকভাবে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি দলের স্বার্থে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এটা পুরোটা একটা নাটক হয়ে গেল। নিজেরা বাঁচতে দুজনকে বলির পাঠা বানালো। সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানের বহিষ্কার হওয়া উচিত ছিলো আগে। এবং শীর্ষ পদধারীদের যাদের যোগসাজশে এগুলো চলে। ‎

গত মঙ্গলাবার পোনাবাহি মাছের গাড়ি আটকে চাঁদাবাজির ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সহ-সভাপতি মিঞা বাবুল,  সহ-সভাপতি মো. মিঠুন, সহ-সভাপতি আকিব,  যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম হোসেন স্বজন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাখাওয়াত, সহ-সাংগাঠনিক সম্পাদক মো. হায়দার মুন্সি, শাহরিয়ারসহ কমপক্ষে ২০-২৫ জন নেতাকর্মী যুক্ত থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও শুধু দায়সারাভাবে দুজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।