ফ্যামিলি কার্ডের নামে ৯৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ
- সর্বশেষ আপডেট ০১:১৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 39
সরকারি ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ছয়জনের কাছ থেকে ৯৮ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে এক নারীকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। প্রায় দেড় মাস ধরে কার্ড দেওয়ার কথা বলে ঘোরানোর পর আরও টাকা দাবি করলে তাকে ফাঁদে ফেলে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের রায়েরবাজার এলাকায় কৃষি ব্যাংকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আটক নার্গিস আক্তার (৩৬) উপজেলার মৃগালী গ্রামের খোকন আলীর স্ত্রী। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ভুক্তভোগীরা সবাই নান্দাইল উপজেলার কামারগাঁও ইউনিয়নের দোরুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তারা হলেন হোসনে আরা বেগম, রাবেয়া খাতুন, জোসনা খাতুন, আছিয়া খাতুন, তন্নী আক্তার লিমা ও কনক মিয়া।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের ভাষ্য, পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে নার্গিস আক্তার তাদের জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দ্রুত সরকারি ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন তিনি। তার কথায় বিশ্বাস করে রাবেয়া খাতুন ১৮ হাজার টাকা এবং অন্য পাঁচজন ১৬ হাজার টাকা করে দেন। সব মিলিয়ে নার্গিসের হাতে তারা ৯৮ হাজার টাকা দেন।
টাকা নেওয়ার পর প্রায় দেড় মাস ধরে আজ-কাল করে সময় পার করতে থাকেন নার্গিস। একপর্যায়ে তিনি আরও ৪ হাজার টাকা দাবি করেন। এতে ভুক্তভোগীদের সন্দেহ হয়। পরে বাকি টাকা দেওয়ার কথা বলে মঙ্গলবার তাকে রায়েরবাজারে ডেকে আনা হয়। সেখানে পৌঁছালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়।
রাবেয়া খাতুনের দাবি, আঠারবাড়ী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান আলমগীর ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাবিবুর রহমানের প্রভাব খাটিয়ে কার্ড করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন নার্গিস।
এ বিষয়ে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, সোমবার বিষয়টি তার নজরে আসে। তাদের নাম ব্যবহার করে নার্গিস সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন বুঝতে পেরে ভুক্তভোগীদের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার কথা বলে তাকে আঠারবাড়ীতে ডেকে আনা হয়।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নার্গিস আক্তারকে আটক করা হয়েছে। তাকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।






























