ঢাকা ০৩:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘পিচ্চি জাহেদ’কে কুপিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:৩০:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 8

‘পিচ্চি জাহেদ’কে কুপিয়ে হত্যা

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) তালিকাভুক্ত ৩৩০ দুষ্কৃতকারীর মধ্যে শীর্ষে থাকা জাহেদুল ইসলাম ওরফে ‘পিচ্চি জাহেদ’ দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হয়েছেন। মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে একদল দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কোপালে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

রোববার (৩০ আগস্ট) দিবাগত রাতে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের দক্ষিণ এলাকার একটি সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে মোটরসাইকেলে করে পুরানগড় ইউনিয়নের দক্ষিণ এলাকার সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন জাহেদ। এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা তাকে ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।

হামলায় গুরুতর আহত হয়ে সড়কে পড়ে যান জাহেদ। পরে স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জাহেদের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে জননিরাপত্তার স্বার্থে চট্টগ্রাম নগরীতে ৩৩০ জন দুষ্কৃতকারীর প্রবেশ ও অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ওই তালিকায় প্রথম অবস্থানে ছিলেন জাহেদুল ইসলাম ওরফে ‘পিচ্চি জাহেদ’।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি রাতে সাতকানিয়ার পুরানগড় এলাকায় সেনাবাহিনী ও যৌথ বাহিনীর অভিযানে জাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তখন তার কাছ থেকে ১০৪টি ইয়াবা ও ১৫টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে আসেন তিনি।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের অপরাধজগতের সঙ্গে জাহেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল। মাদক ও অস্ত্রের কারবার, চাঁদাবাজি এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।

তবে কী কারণে এবং কারা তাকে হত্যা করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মাদক ও অস্ত্রের কারবার, আধিপত্য বিস্তার, অপরাধী গ্রুপগুলোর বিরোধ কিংবা পূর্বশত্রুতার জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

‘পিচ্চি জাহেদ’কে কুপিয়ে হত্যা

সর্বশেষ আপডেট ০২:৩০:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) তালিকাভুক্ত ৩৩০ দুষ্কৃতকারীর মধ্যে শীর্ষে থাকা জাহেদুল ইসলাম ওরফে ‘পিচ্চি জাহেদ’ দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হয়েছেন। মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে একদল দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কোপালে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

রোববার (৩০ আগস্ট) দিবাগত রাতে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের দক্ষিণ এলাকার একটি সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে মোটরসাইকেলে করে পুরানগড় ইউনিয়নের দক্ষিণ এলাকার সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন জাহেদ। এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা তাকে ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।

হামলায় গুরুতর আহত হয়ে সড়কে পড়ে যান জাহেদ। পরে স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জাহেদের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে জননিরাপত্তার স্বার্থে চট্টগ্রাম নগরীতে ৩৩০ জন দুষ্কৃতকারীর প্রবেশ ও অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ওই তালিকায় প্রথম অবস্থানে ছিলেন জাহেদুল ইসলাম ওরফে ‘পিচ্চি জাহেদ’।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি রাতে সাতকানিয়ার পুরানগড় এলাকায় সেনাবাহিনী ও যৌথ বাহিনীর অভিযানে জাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তখন তার কাছ থেকে ১০৪টি ইয়াবা ও ১৫টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে আসেন তিনি।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের অপরাধজগতের সঙ্গে জাহেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল। মাদক ও অস্ত্রের কারবার, চাঁদাবাজি এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।

তবে কী কারণে এবং কারা তাকে হত্যা করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মাদক ও অস্ত্রের কারবার, আধিপত্য বিস্তার, অপরাধী গ্রুপগুলোর বিরোধ কিংবা পূর্বশত্রুতার জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।