আসন্ন পয়লা বৈশাখকে ঘিরে রাজধানীতে কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তবুও উৎসবকে ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও বিস্তৃত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
রবিবার রাজধানীর রমনা পার্কে ডিএমপির অস্থায়ী কন্ট্রোল রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক জনসমাগম হবে। তাই নগরজুড়ে সুসংগঠিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ নির্বিঘ্নে উৎসব উপভোগ করতে পারেন।
ডিএমপি সূত্র জানায়, পুরো মহানগরীকে ৯টি সেক্টর ও ১৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। প্রতিটি এলাকায় ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল টিম দিয়ে আগাম তল্লাশি চালানো হবে।
নিরাপত্তার অংশ হিসেবে রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪টি প্রবেশপথে ব্যারিকেড বসানো হবে। প্রতিটি গেটে আর্চওয়ে ও হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি চালানো হবে। পাশাপাশি সিসিটিভি, ভিডিও ও স্টিল ক্যামেরা, ড্রোন নজরদারি এবং পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ও রুফটপে বিশেষ বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
কমিশনার আরও জানান, ইভটিজিং, ছিনতাই ও পকেটমার ঠেকাতে সাদা পোশাকে বিশেষ টিম মাঠে থাকবে। হকারদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণেও বাড়তি নজরদারি রাখা হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সাইবার পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী, ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা ১৫ মিনিট থেকে রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়ে সকাল ৮টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত চলবে। নির্ধারিত গেট দিয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থা থাকবে, যেখানে নারী-পুরুষ ও শিল্পীদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ রাখা হয়েছে।
এদিকে সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হবে। চারুকলা থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ, টিএসসি ও দোয়েল চত্বর ঘুরে আবার চারুকলায় শেষ হবে এই শোভাযাত্রা। পুরো রুটজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় থাকবে।
ডিএমপি জানায়, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সব অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে। বিকেল ৫টার পর রমনা পার্কে নতুন করে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না; তখন থেকে গেটগুলো শুধু বের হওয়ার জন্য ব্যবহৃত হবে।
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, উৎসব নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে। সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ বা ডিএমপির কন্ট্রোল রুমে জানাতে অনুরোধ জানান তিনি।