নোয়াখালীতে তিন বন্ধু হত্যা মামলায় ৩ জনের ফাঁসি
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:০৪:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
- / 13
নোয়াখালীর মাইজদী বাজার এলাকায় সালিশ বৈঠককে কেন্দ্র করে তিন বন্ধুকে হত্যার মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরও তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে নোয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিশেষ বিচারক মো. শওকত আলী এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন বেগমগঞ্জের অনন্তপুর গ্রামের কুদরত উল্যাহর ছেলে ওমর নাসির সাজু (২৬) ও ওমর শরিফ সুলতান (২২) এবং মাইজদী শান্তিনগর এলাকার তোফায়েল আহমদের ছেলে মো. সৌরভ (২৬)।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন বেগমগঞ্জের অনন্তপুর গ্রামের কুদরত উল্যাহ (৫৫), ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পি (২৪) ও হারুনুর রশিদ বাবুল (৪০)। খালাস পেয়েছেন একই এলাকার ফয়সাল মাহমুদ রাব্বি (২০) ও মো. মামুন (২৩)।
রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২১ মার্চ দুপুরে মাইজদী বাজার এলাকায় নোয়াখালী সরকারি পুরাতন কলেজের পাশের একটি পুকুরে স্থানীয় কিশোর ফজলে হুদা রাজীব একটি কুকুরকে গোসল করাতে যান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মো. সৌরভের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়।
ঘটনাটি মীমাংসার জন্য ওইদিন সন্ধ্যায় সালিশ বৈঠকের কথা ছিল। রাজীব তার দুই বন্ধু ওয়াসিম ও ইয়াছিনকে সঙ্গে নিয়ে সালিশে যাওয়ার সময় পুরাতন কলেজ এলাকায় পৌঁছালে আসামিরা তাদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়।
গুলিতে রাজীব ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত ওয়াসিম ও ইয়াছিনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েক দিন পর তারাও মারা যান।
এ ঘটনায় নিহত রাজীবের মা কামরুন্নাহার বেগম ছবি বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৭-৮ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৩১ মে আট আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক মো. নুরে আলম।
রাষ্ট্রপক্ষ মামলায় ১৯ জন সাক্ষী উপস্থাপন করে। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাফাক্তার হোসেন বলেন, সুপরিকল্পিতভাবে তিন বন্ধুকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাশেদ বলেন, আদালতের রায়ে তারা সন্তুষ্ট। তবে সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে কয়েকজন এখনো পলাতক রয়েছেন। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকরের দাবি জানান তিনি।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নিহত রাজীবের মা কামরুন্নাহার বেগম বলেন, এ রায়ে তিনি খুশি। এদিকে মামলার বিবাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন রায় নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।





























