ঢাকা ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দীঘিনালায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে আলোচনা সভা

প্রমোদ কুমার মুৎসুদ্দী, দীঘিনালা
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৪৪:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / 110

দীঘিনালায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে আলোচনা সভা

‘রূপালি মৎস্য, সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভা শেষে উপজেলা পরিষদের পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শরৎ কুমার ত্রিপুরা। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসেন, দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল বাহার চৌধুরী এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদীন।

আলোচনা সভায় স্থানীয় মৎস্যচাষি, মৎস্যজীবী ও জনপ্রতিনিধিরা মৎস্য খাতের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা এবং সরকারি সহায়তার বিষয় তুলে ধরেন।

৪ নম্বর দীঘিনালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চন্দ্ররঞ্জন চাকমা বলেন, সরকার মৎস্যজীবীদের প্রতি বছর দুই মাসে ২০ কেজি করে খাদ্য সহায়তা দিয়ে থাকে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় এ সহায়তা অপ্রতুল। মৎস্যজীবীদের জন্য দুই মাসে অন্তত ৫০ কেজি খাদ্য সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, অতীতে মৎস্য কার্ড বিতরণ ও সরকারি সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। প্রকৃত মৎস্যচাষি ও মৎস্যজীবীরা যাতে সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, দীঘিনালার মৎস্যচাষিরা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের সুযোগ পর্যাপ্তভাবে পাচ্ছেন না। এতে অন্যান্য উপজেলার তুলনায় এখানকার মৎস্যচাষিরা পিছিয়ে রয়েছেন। আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর মাছ চাষের ওপর প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো গেলে উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব।

বক্তারা বলেন, দীঘিনালায় মৎস্যচাষের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

অনুষ্ঠানে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, মৎস্যচাষি, মৎস্যজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলা পরিষদের পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এ সময় মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দীঘিনালাকে মৎস্য খাতে আরও সমৃদ্ধ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দীঘিনালায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে আলোচনা সভা

সর্বশেষ আপডেট ০১:৪৪:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

‘রূপালি মৎস্য, সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভা শেষে উপজেলা পরিষদের পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শরৎ কুমার ত্রিপুরা। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসেন, দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল বাহার চৌধুরী এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদীন।

আলোচনা সভায় স্থানীয় মৎস্যচাষি, মৎস্যজীবী ও জনপ্রতিনিধিরা মৎস্য খাতের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা এবং সরকারি সহায়তার বিষয় তুলে ধরেন।

৪ নম্বর দীঘিনালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চন্দ্ররঞ্জন চাকমা বলেন, সরকার মৎস্যজীবীদের প্রতি বছর দুই মাসে ২০ কেজি করে খাদ্য সহায়তা দিয়ে থাকে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় এ সহায়তা অপ্রতুল। মৎস্যজীবীদের জন্য দুই মাসে অন্তত ৫০ কেজি খাদ্য সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, অতীতে মৎস্য কার্ড বিতরণ ও সরকারি সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। প্রকৃত মৎস্যচাষি ও মৎস্যজীবীরা যাতে সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, দীঘিনালার মৎস্যচাষিরা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের সুযোগ পর্যাপ্তভাবে পাচ্ছেন না। এতে অন্যান্য উপজেলার তুলনায় এখানকার মৎস্যচাষিরা পিছিয়ে রয়েছেন। আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর মাছ চাষের ওপর প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো গেলে উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব।

বক্তারা বলেন, দীঘিনালায় মৎস্যচাষের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

অনুষ্ঠানে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, মৎস্যচাষি, মৎস্যজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলা পরিষদের পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এ সময় মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দীঘিনালাকে মৎস্য খাতে আরও সমৃদ্ধ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।