স্ত্রী হত্যা মামলায় এক যুগ পর খালাস পেলেন স্বামী
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:৫৭:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
- / 49
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তার মেরীকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রায় এক যুগ পর খালাস পেয়েছেন তার স্বামী মো. আব্দুর রহিম।
মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৫ আদালতের বিচারক এলিনা আক্তার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। আব্দুর রহিমের আইনজীবী ওমর ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রায় ঘোষণার আগে কারাগার থেকে আব্দুর রহিমকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পর পুলিশ পাহারায় তাকে আদালত থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে আদালতের এ রায়ে অসন্তোষ জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শরীফুল ইসলাম লিটন জানান, খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে মোহাম্মদপুরের বাসায় ফেরেন আব্দুর রহিম। ওই সময় স্ত্রী মেরীর সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে মেরী স্বামীকে ধমক দিলে আব্দুর রহিম ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গলা চেপে দেয়ালের সঙ্গে আটকে রাখেন। পরে লাথি মেরে তাকে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর খাটে শুইয়ে বুকের ওপর বসে মুখ চেপে ধরা হয়। পরদিন সকালে খাটের ওপর মেরীর মরদেহ পাওয়া যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পর প্রথমে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়। পরে নিহত মেরীর মা হাসিনা বেগম বাদী হয়ে আব্দুর রহিম, তার মা রানী ও বাবা আবু তাহেরকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। আদালত মামলাটি মোহাম্মদপুর থানায় এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
তদন্ত শেষে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।
পুলিশের ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদী আদালতে নারাজি আবেদন করেন। পরে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ—সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
অধিকতর তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৫ এপ্রিল আব্দুর রহিমকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন সিআইডির পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক খান। একই সঙ্গে রহিমের মা-বাবাকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।
এরপর ২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আত্মপক্ষ সমর্থনে আব্দুর রহিম নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং তার পক্ষে তিনজন সাফাই সাক্ষ্য দেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার মামলাটিতে আব্দুর রহিমকে খালাস দেন আদালত। তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।






























