ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর

ঝড় এলেও মুছবে না ভারত-বাংলাদেশ বন্ধন

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩১:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 15

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর

ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে সাময়িক মেঘ বা ঝড় এলেও দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধন মুছে যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর।

রোববার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বে অব বেঙ্গল কনফারেন্সে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এম জে আকবর বলেন, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কে উত্থান-পতন থাকতেই পারে। দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে মতপার্থক্য ও সমস্যা রয়েছে। তবে এসব সমাধানের ক্ষেত্রে শুধু কী করা সম্ভব, সেটি ভাবলেই হবে না; কেন কোনো কিছু সম্ভব নয়, সেই প্রশ্নও করতে হবে। তাহলেই নতুন সম্ভাবনার পথ তৈরি হতে পারে।

দুই দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ নিজেদের স্বতন্ত্র ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ওপর দাঁড়িয়ে গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপরিচয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি বাংলা ভাষা। ভাষা ও সংস্কৃতির শক্তিই দেশটির স্বাতন্ত্র্যকে আরও দৃঢ় করেছে।

সার্বভৌমত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে এম জে আকবর বলেন, কোনো দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি যথাযথ সম্মান না থাকলে বিশ্ব আরও বেশি বিশৃঙ্খলার দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো যুদ্ধকে অবৈধ বা অযৌক্তিক বলার আগে তার উৎস ও পটভূমি বোঝা জরুরি। তার মতে, বিংশ শতাব্দীকে তিনটি বিশ্বযুদ্ধের শতাব্দী হিসেবে দেখা যায়। ঠান্ডা যুদ্ধকেও এক ধরনের বিশ্বযুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, ইউরোপে ঠান্ডা যুদ্ধ চললেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় এর প্রভাব মোটেও ‘ঠান্ডা’ ছিল না। এসব সংঘাতকে বিশ্বযুদ্ধ বলা হয় এ কারণে নয় যে পুরো বিশ্ব সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। বরং বিশ্বের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরাশক্তি ও সাম্রাজ্যগুলোর সংঘাত বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল।

একবিংশ শতাব্দীর যুদ্ধের ধরন আগের শতাব্দীর তুলনায় ভিন্ন বলেও মন্তব্য করেন এম জে আকবর। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের সংঘাতগুলোকে একটি একক বিশ্বযুদ্ধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক সংঘাত তৈরি হচ্ছে। এসব যুদ্ধ কখনো শুরু হচ্ছে, আবার থেমেও যাচ্ছে; কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর

ঝড় এলেও মুছবে না ভারত-বাংলাদেশ বন্ধন

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩১:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে সাময়িক মেঘ বা ঝড় এলেও দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধন মুছে যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর।

রোববার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বে অব বেঙ্গল কনফারেন্সে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এম জে আকবর বলেন, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কে উত্থান-পতন থাকতেই পারে। দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে মতপার্থক্য ও সমস্যা রয়েছে। তবে এসব সমাধানের ক্ষেত্রে শুধু কী করা সম্ভব, সেটি ভাবলেই হবে না; কেন কোনো কিছু সম্ভব নয়, সেই প্রশ্নও করতে হবে। তাহলেই নতুন সম্ভাবনার পথ তৈরি হতে পারে।

দুই দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ নিজেদের স্বতন্ত্র ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ওপর দাঁড়িয়ে গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপরিচয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি বাংলা ভাষা। ভাষা ও সংস্কৃতির শক্তিই দেশটির স্বাতন্ত্র্যকে আরও দৃঢ় করেছে।

সার্বভৌমত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে এম জে আকবর বলেন, কোনো দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি যথাযথ সম্মান না থাকলে বিশ্ব আরও বেশি বিশৃঙ্খলার দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো যুদ্ধকে অবৈধ বা অযৌক্তিক বলার আগে তার উৎস ও পটভূমি বোঝা জরুরি। তার মতে, বিংশ শতাব্দীকে তিনটি বিশ্বযুদ্ধের শতাব্দী হিসেবে দেখা যায়। ঠান্ডা যুদ্ধকেও এক ধরনের বিশ্বযুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, ইউরোপে ঠান্ডা যুদ্ধ চললেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় এর প্রভাব মোটেও ‘ঠান্ডা’ ছিল না। এসব সংঘাতকে বিশ্বযুদ্ধ বলা হয় এ কারণে নয় যে পুরো বিশ্ব সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। বরং বিশ্বের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরাশক্তি ও সাম্রাজ্যগুলোর সংঘাত বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল।

একবিংশ শতাব্দীর যুদ্ধের ধরন আগের শতাব্দীর তুলনায় ভিন্ন বলেও মন্তব্য করেন এম জে আকবর। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের সংঘাতগুলোকে একটি একক বিশ্বযুদ্ধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক সংঘাত তৈরি হচ্ছে। এসব যুদ্ধ কখনো শুরু হচ্ছে, আবার থেমেও যাচ্ছে; কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না।