ঢাকা ০২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছেলেকে দেখার তৃষ্ণা নিয়েই মারা গেলেন চিন্ময়ের মা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:১৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 23

ছেলেকে দেখার তৃষ্ণা নিয়েই মারা গেলেন চিন্ময়ের মা

কারাগারে থাকা ছেলে সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও কারাবন্দি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে একনজর দেখার আকাঙ্ক্ষা ছিল মা সন্ধ্যা রাণী ধরের। অসুস্থ অবস্থায় ছেলেকে দেখতে প্যারোলে মুক্তির আবেদনও করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সুযোগ আর পেলেন না তিনি। ছেলেকে দেখার তৃষ্ণা নিয়েই মারা গেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ৩৪ মিনিটের দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধাম আশ্রমে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন সন্ধ্যা রাণী ধর। মৃত্যুর আগে গত মঙ্গলবার নিজেই এই আশ্রমে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসও দীর্ঘদিন এই আশ্রমে থাকতেন।

এর আগে অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার ক্যানসার শনাক্ত হয়। তবে হাসপাতালে থাকতে চাইছিলেন না সন্ধ্যা রাণী ধর। ছেলের আশ্রমেই জীবনের শেষ সময় কাটানোর ইচ্ছা ছিল তার।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ছেলে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন সন্ধ্যা রাণী ধর। ছেলের অসুস্থতার খবর, বারবার জামিন না হওয়া এবং কারাগার থেকে মুক্তি না পাওয়ায় তিনি গভীর দুশ্চিন্তায় ছিলেন। সর্বশেষ ছেলের জামিন শুনানিকে ঘিরে আশাবাদী হলেও জামিন না হওয়ায় তার উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

এরই মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের মধ্যে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার হৃদ্‌যন্ত্রেও জটিলতা দেখা দেয়। পরে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসা চলছিল।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অসুস্থ মাকে দেখতে তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেই আবেদন নাকচ করে দেয় বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

পরিবারের দাবি, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই ছেলের জন্য গভীর উদ্বেগে ছিলেন তার মা। এর আগেও ছেলের অসুস্থতার খবর শুনে তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সর্বশেষ ছেলের জামিন না হওয়ায় মানসিকভাবে আরও ভেঙে পড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত ছেলেকে একনজর দেখার আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ রেখেই চলে গেলেন সন্ধ্যা রাণী ধর।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ছেলেকে দেখার তৃষ্ণা নিয়েই মারা গেলেন চিন্ময়ের মা

সর্বশেষ আপডেট ১১:১৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কারাগারে থাকা ছেলে সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও কারাবন্দি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে একনজর দেখার আকাঙ্ক্ষা ছিল মা সন্ধ্যা রাণী ধরের। অসুস্থ অবস্থায় ছেলেকে দেখতে প্যারোলে মুক্তির আবেদনও করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সুযোগ আর পেলেন না তিনি। ছেলেকে দেখার তৃষ্ণা নিয়েই মারা গেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ৩৪ মিনিটের দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধাম আশ্রমে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন সন্ধ্যা রাণী ধর। মৃত্যুর আগে গত মঙ্গলবার নিজেই এই আশ্রমে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসও দীর্ঘদিন এই আশ্রমে থাকতেন।

এর আগে অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার ক্যানসার শনাক্ত হয়। তবে হাসপাতালে থাকতে চাইছিলেন না সন্ধ্যা রাণী ধর। ছেলের আশ্রমেই জীবনের শেষ সময় কাটানোর ইচ্ছা ছিল তার।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ছেলে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন সন্ধ্যা রাণী ধর। ছেলের অসুস্থতার খবর, বারবার জামিন না হওয়া এবং কারাগার থেকে মুক্তি না পাওয়ায় তিনি গভীর দুশ্চিন্তায় ছিলেন। সর্বশেষ ছেলের জামিন শুনানিকে ঘিরে আশাবাদী হলেও জামিন না হওয়ায় তার উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

এরই মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের মধ্যে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার হৃদ্‌যন্ত্রেও জটিলতা দেখা দেয়। পরে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসা চলছিল।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অসুস্থ মাকে দেখতে তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেই আবেদন নাকচ করে দেয় বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

পরিবারের দাবি, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই ছেলের জন্য গভীর উদ্বেগে ছিলেন তার মা। এর আগেও ছেলের অসুস্থতার খবর শুনে তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সর্বশেষ ছেলের জামিন না হওয়ায় মানসিকভাবে আরও ভেঙে পড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত ছেলেকে একনজর দেখার আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ রেখেই চলে গেলেন সন্ধ্যা রাণী ধর।