ঢাকা ০৩:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
টিকাদানের ঘাটতি

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি হামের প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশে

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৩১:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 28

হাম

টিকাদানের ঘাটতির কারণে বাংলাদেশে হাম মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর হাম ও হামের উপসর্গসহ ১০০২ জনের মৃত্যু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) ওয়েবসাইটের তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে বড় হাম প্রাদুর্ভাব চলছে বাংলাদেশে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়। ফলে টিকা সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ায় বিপুলসংখ্যক শিশু হামের সুরক্ষা বঞ্চিত হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হাম প্রাদুর্ভাব শুরুর পর ১ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচিতে তদারকি ও নজরদারির অভাব এবং টিকা সংগ্রহ নীতিতে পরিবর্তনের কারণে টিকার সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হুসাইন সংসদে জানিয়েছেন, টিকা সংগ্রহের নীতিতে পরিবর্তনের কারণে টিকা সংকট তৈরি হয়েছিল। ২০২৪ সালে একটি টিকাদান কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়া এবং পরের বছর দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি বাতিল হওয়ায় আরও অনেক শিশু টিকাদানের বাইরে থেকে যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থাও নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি হাম প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রাদুর্ভারে শুরুতে হাম আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল ৫ বছরের কম বয়সী শিশু।

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন হাম প্রতিরোধে অগ্রগতি হলেও ২০২৪ ও ২০২৫ সালের টিকাদানের ঘাটতির কারণে সেই অর্জন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ে। মহামারি নিয়ন্ত্রণে বিশেষজ্ঞরা দ্রুত টিকার ঘাটতি পূরণ, নিয়মিত টিকাদানের আওতা বাড়ানো এবং বাদ পড়া শিশুদের টিকার আওতায় আনার ওপর জোর দিয়েছেন।

সূত্র : রয়টার্স

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

টিকাদানের ঘাটতি

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি হামের প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশে

সর্বশেষ আপডেট ১২:৩১:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টিকাদানের ঘাটতির কারণে বাংলাদেশে হাম মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর হাম ও হামের উপসর্গসহ ১০০২ জনের মৃত্যু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) ওয়েবসাইটের তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে বড় হাম প্রাদুর্ভাব চলছে বাংলাদেশে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়। ফলে টিকা সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ায় বিপুলসংখ্যক শিশু হামের সুরক্ষা বঞ্চিত হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হাম প্রাদুর্ভাব শুরুর পর ১ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচিতে তদারকি ও নজরদারির অভাব এবং টিকা সংগ্রহ নীতিতে পরিবর্তনের কারণে টিকার সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হুসাইন সংসদে জানিয়েছেন, টিকা সংগ্রহের নীতিতে পরিবর্তনের কারণে টিকা সংকট তৈরি হয়েছিল। ২০২৪ সালে একটি টিকাদান কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়া এবং পরের বছর দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি বাতিল হওয়ায় আরও অনেক শিশু টিকাদানের বাইরে থেকে যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থাও নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি হাম প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রাদুর্ভারে শুরুতে হাম আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল ৫ বছরের কম বয়সী শিশু।

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন হাম প্রতিরোধে অগ্রগতি হলেও ২০২৪ ও ২০২৫ সালের টিকাদানের ঘাটতির কারণে সেই অর্জন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ে। মহামারি নিয়ন্ত্রণে বিশেষজ্ঞরা দ্রুত টিকার ঘাটতি পূরণ, নিয়মিত টিকাদানের আওতা বাড়ানো এবং বাদ পড়া শিশুদের টিকার আওতায় আনার ওপর জোর দিয়েছেন।

সূত্র : রয়টার্স