ঢাকা ০৭:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কারাফটকে বাবার লাশ: প্যারোল মেলেনি আ’লীগ কর্মীর!

শাহজাহান সাজু, কিশোরগঞ্জ
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩০:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 125

কারাফটকে নিয়ে যাওয়া হয় ফুল মিয়ার লাশ। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স

বাগেরহাটে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার সাথে ঘটে যাওয়া হৃদয় বিদারক ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একই ঘটনার পুণরাবৃত্তি ঘটলো কিশোরগঞ্জের এক আওয়ামী লীগ কর্মীর সঙ্গে। পিতার মৃত্যুর পরও প্যারোলে মুক্তি মেলেনি মিলন মিয়া নামে ওই ব্যাক্তির ক্ষেত্রে। পরে ৬০ কিলোমিটার দূরের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় পিতার লাশ। সেখানেই কিছু সময়ের জন্য শেষবারের মতো পিতার দেখা পান তিনি।

জানা যায়, কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার পানাউল্লারচর এলাকার বাসিন্দা মিলন মিয়া (৪৫)। তিনি আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী। নাশকতার চেষ্টা মামলায় আটক থাকা অবস্থায় মারা যান তার পিতা ফুল মিয়া। দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন তিনি।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পিতা ফুল মিয়ার মৃত্যু হয়। পিতার জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তির জন্য গতকালই আদালতে আবেদন করা হয়। কিন্তু আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বুধবার সকালে পিতার মরদেহ আনা হয় জেলা কারাগারে।

আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যরা জানান, পিতার জানাজায় অংশ নিতে গতকালই জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়। তবে সেই আবেদন নামঞ্জুর করে মরদেহ কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। কারাগারের ভেতরে পিতার মরদেহ দেখে মিলন বারবার মরদেহের ওপর ঢলে পড়েন।

জানা গেছে, সকালে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। মিলনের এক চাচাকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও অন্য স্বজনরা পান সাধারণ সাক্ষাতের সুযোগ। পিতার মরদেহ ছেলেকে দেখাতে ৬০ কিলোমিটার দূর থেকে কারাগারে আনতে হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে জেল সুপার রীতেশ চাকমা জানান, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে পাঠানো পত্র অনুযায়ী আমরা কারাগারের গেটে মরদেহ দেখানোর সুযোগ করে দিয়েছি।

এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান (সাদ্দাম) এর স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পরও প্যারোলে মুক্তি মেলেনি। এ নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কারাফটকে বাবার লাশ: প্যারোল মেলেনি আ’লীগ কর্মীর!

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩০:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাগেরহাটে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার সাথে ঘটে যাওয়া হৃদয় বিদারক ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একই ঘটনার পুণরাবৃত্তি ঘটলো কিশোরগঞ্জের এক আওয়ামী লীগ কর্মীর সঙ্গে। পিতার মৃত্যুর পরও প্যারোলে মুক্তি মেলেনি মিলন মিয়া নামে ওই ব্যাক্তির ক্ষেত্রে। পরে ৬০ কিলোমিটার দূরের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় পিতার লাশ। সেখানেই কিছু সময়ের জন্য শেষবারের মতো পিতার দেখা পান তিনি।

জানা যায়, কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার পানাউল্লারচর এলাকার বাসিন্দা মিলন মিয়া (৪৫)। তিনি আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী। নাশকতার চেষ্টা মামলায় আটক থাকা অবস্থায় মারা যান তার পিতা ফুল মিয়া। দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন তিনি।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পিতা ফুল মিয়ার মৃত্যু হয়। পিতার জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তির জন্য গতকালই আদালতে আবেদন করা হয়। কিন্তু আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বুধবার সকালে পিতার মরদেহ আনা হয় জেলা কারাগারে।

আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যরা জানান, পিতার জানাজায় অংশ নিতে গতকালই জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়। তবে সেই আবেদন নামঞ্জুর করে মরদেহ কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। কারাগারের ভেতরে পিতার মরদেহ দেখে মিলন বারবার মরদেহের ওপর ঢলে পড়েন।

জানা গেছে, সকালে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। মিলনের এক চাচাকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও অন্য স্বজনরা পান সাধারণ সাক্ষাতের সুযোগ। পিতার মরদেহ ছেলেকে দেখাতে ৬০ কিলোমিটার দূর থেকে কারাগারে আনতে হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে জেল সুপার রীতেশ চাকমা জানান, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে পাঠানো পত্র অনুযায়ী আমরা কারাগারের গেটে মরদেহ দেখানোর সুযোগ করে দিয়েছি।

এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান (সাদ্দাম) এর স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পরও প্যারোলে মুক্তি মেলেনি। এ নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।