ঐতিহাসিক কামাল মৌলা মসজিদকে মন্দির ঘোষণা করল ভারত
- সর্বশেষ আপডেট ০১:০৩:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
- / 104
ভারতের মধ্যপ্রদেশের ধার শহরে অবস্থিত ঐতিহাসিক ভোজশালা কমপ্লেক্সের ‘কামাল মৌলা মসজিদ’কে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দু মন্দির হিসেবে ঘোষণা করেছেন দেশটির একটি উচ্চ আদালত। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের এই রায়ের পর শত বছরের পুরোনো প্রথার অবসান ঘটিয়ে ওই স্থাপনায় মুসলিমদের নামাজ আদায় স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কড়া পুলিশি পাহাড়ার মধ্যে ইতিমধ্যেই ত্রয়োদশ শতকের এই মুসলিম উপাসনালয়টি গেরুয়া পতাকায় ছেয়ে ফেলা হয়েছে এবং সেখানে দেবীর মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় আদালতের এই পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তে তাদের ঐতিহ্যবাহী অধিকার হারিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশে প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর অধিকার নিয়ে আইনি লড়াই এখন সংখ্যালঘুদের উপাসনালয় হারানোর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাবরি মসজিদের পর এবার আরেকটি ঐতিহাসিক মুসলিম স্থাপত্যের প্রশাসনিক রূপান্তর বিশ্বজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মূলত ঐতিহাসিক কামাল মৌলা মসজিদকে মন্দির ঘোষণা শিরোনামের এই রায়ের ফলে দীর্ঘদিনের যৌথ ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্য ভেঙে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, এই আদেশের পর স্থানীয় মুসলমানদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
এই মসজিদে গত ৫০ বছর ধরে মুয়াজ্জিন হিসেবে আজান দিয়ে আসছিলেন ৭৮ বছর বয়সী বৃদ্ধ মোহাম্মদ রফিক। বর্তমানে ঐতিহাসিক কামাল মৌলা মসজিদকে মন্দির ঘোষণা হওয়ায় রফিক ও ধার এলাকার মুসলমানদের জন্য এই আঙিনা চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। দেশভাগের পূর্ব থেকেই রফিকের দাদা হাফিজ নজিরউদ্দিন এখানে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। পূর্বপুরুষের স্মৃতিবিজড়িত এই দ্বিতীয় বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন শত শত স্থানীয় প্রবীণ মুসল্লি।
আদালতের আদেশের পরপরই গত রবিবার কামাল মৌলা মসজিদের মিনার ও চারপাশ কট্টর হিন্দুত্ববাদী আন্দোলনের প্রতীক গেরুয়া পতাকায় ছেয়ে ফেলা হয়। বর্তমানে ঐতিহাসিক কামাল মৌলা মসজিদকে মন্দির ঘোষণা করার এই ধারা ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কড়া নিরাপত্তার মাঝে উগ্রপন্থীরা সেখানে অস্থায়ী মূর্তি স্থাপন করে উল্লাস করেছে। পরিশেষে বলা যায়, ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে জ্ঞানবাপী ও মথুরার মতো প্রাচীন মসজিদগুলোর ওপর কট্টরপন্থীদের এমন ধারাবাহিক দাবি আগামী দিনে দেশটির সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে এক ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।



































