এই সরকারও স্বৈরাচারের পথে হাঁটছে: জামায়াত আমির
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৩:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 12
বিএনপি সরকার ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের পথেই হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতায় আসার সাত মাসের মধ্যেই বিএনপি রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে। বিরোধী দলের সহযোগিতা নিতে সরকার ব্যর্থ হওয়ায় এখন থেকে সরকার নয়, দেশের ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবে জামায়াত।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার এক বছর সালতামামি’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার পর বিএনপি রাতারাতি নিজেদের অতীত ভুলে গেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত বিএনপি তাদের মতোই একটি রাজনৈতিক দল ছিল। কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও গণভোটের প্রশ্নে দুই দলের মধ্যে বিরোধ ছিল না। জামায়াত চেয়েছিল, গণভোট আগে অনুষ্ঠিত হোক, যাতে এটি অনিশ্চয়তার মুখে না পড়ে। কিন্তু বিএনপি তা চায়নি। শেষ পর্যন্ত একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন সংসদ সদস্যদের দুটি শপথ নেওয়ার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংসদ পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। তাঁর অভিযোগ, সেদিন থেকেই বিএনপি উগ্র আচরণ শুরু করেছে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিএনপি এখন দাবি করছে, জনগণ তাদের পাঁচ বছরের জন্য সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। কিন্তু গণভোটের রায়ও যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হলে বিরোধী দলকে সংসদের বাইরে আন্দোলনে যেতে হতো না। বিএনপিই বিরোধী দলকে আন্দোলনের পথে ঠেলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের কোনো সংসদ সদস্য তা পাননি বলে অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, সরকারি দলের ২০৮টি আসনে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, অথচ বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্যকেও বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পুরোনো রাজনীতির অবসান এবং নতুন ধারার সূচনা হবে বলে মানুষ আশা করেছিল। কিন্তু দেশকে আবারও পুরোনো রাজনৈতিক ধারায় ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এমনকি মহিষের ওপরও কর আরোপ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, ‘শত ইঞ্জিনিয়ারিং, চুরি-চামাড়ির পরও আমাদের বিরোধী দলে বসিয়েছে জনগণ। এসব আসনের ৮৯ জন এমপি দেশের ১৮ কোটি মানুষের পাহারাদার হয়ে কাজ করবেন, ইনশা আল্লাহ।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি বদলে গেলেও আমরা আমাদের কথা বদলাব না। জুলাই সনদ আর গণভোটের গণরায় আমরা আদায় করেই ছাড়ব।’
দেশে নব্য ফ্যাসিবাদের পতন হবে বলেও মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান। তাঁর ভাষ্য, নানা ধরনের লোভ-লালসা দেখানো হলেও জামায়াত তা প্রত্যাখ্যান করেছে। বিরোধী দল হিমালয়ের মতো অটল থেকে লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যাবে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান তাদের জন্য শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা। সরকারের পতন নয়, বরং তারা সরকারের সফলতা চেয়েছিলেন, কারণ সরকারের সফলতা মানেই দেশের সফলতা।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা এতদিন সরকারকে সহযোগিতা করব বলেছিলাম। আজ থেকে ঘোষণা দিচ্ছি, ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করব। এই সরকার আমাদের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ। বিরোধী দলের সহযোগিতা নেওয়ার তাদের কোনো যোগ্যতা নেই।’


































