ঢাকা ১২:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাম্প্রদায়িক উসকানি বন্ধের দাবি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:২৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 13

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ

পূজামণ্ডপে হামলা, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অবমাননা এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রদায়িক উসকানির অভিযোগে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। একই সঙ্গে এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অবমাননা এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রদায়িক উসকানি সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় সংগঠনটি।

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের দাবি, সাম্প্রদায়িক হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয় এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, এসব ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, চলতি বছরের অক্টোবর মাসে দুর্গাপূজার আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা ভাঙচুর, মন্দিরে হামলা ও সংঘাত-সহিংসতার ৩৪টি ঘটনা ঘটেছে। সিলেট, রাজবাড়ী, পঞ্চগড়, নেত্রকোনা ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলায় এসব ঘটনা ঘটে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনরিটিজের তথ্য উদ্ধৃত করে সংগঠনটি জানায়, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ৪৯৮টি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে জমি ও সম্পত্তিসংক্রান্ত হামলা, নিখোঁজ, অপহরণ, হামলা, হত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু, ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা ও যৌন সহিংসতার ঘটনা রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার অন্তত ৪৫০টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রাণহানি, উপাসনালয়ে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-লুটপাটের অভিযোগও তুলে ধরা হয়।

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের অভিযোগ, সাম্প্রদায়িক হামলা, ধর্মীয় বিদ্বেষ এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শনাক্ত এবং আইন অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিজ্ঞপ্তিতে সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানায় বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সাম্প্রদায়িক উসকানি বন্ধের দাবি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের

সর্বশেষ আপডেট ১১:২৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

পূজামণ্ডপে হামলা, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অবমাননা এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রদায়িক উসকানির অভিযোগে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। একই সঙ্গে এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অবমাননা এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রদায়িক উসকানি সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় সংগঠনটি।

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের দাবি, সাম্প্রদায়িক হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয় এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, এসব ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, চলতি বছরের অক্টোবর মাসে দুর্গাপূজার আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা ভাঙচুর, মন্দিরে হামলা ও সংঘাত-সহিংসতার ৩৪টি ঘটনা ঘটেছে। সিলেট, রাজবাড়ী, পঞ্চগড়, নেত্রকোনা ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলায় এসব ঘটনা ঘটে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনরিটিজের তথ্য উদ্ধৃত করে সংগঠনটি জানায়, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ৪৯৮টি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে জমি ও সম্পত্তিসংক্রান্ত হামলা, নিখোঁজ, অপহরণ, হামলা, হত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু, ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা ও যৌন সহিংসতার ঘটনা রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার অন্তত ৪৫০টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রাণহানি, উপাসনালয়ে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-লুটপাটের অভিযোগও তুলে ধরা হয়।

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের অভিযোগ, সাম্প্রদায়িক হামলা, ধর্মীয় বিদ্বেষ এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শনাক্ত এবং আইন অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিজ্ঞপ্তিতে সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানায় বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।