জলবায়ু সংকটে ঝুঁকিতে কন্যাশিশুর ভবিষ্যৎ
- সর্বশেষ আপডেট ১২:২৯:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 69
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ ও অর্থনৈতিক সংকট বাংলাদেশের মেয়েদের বাল্যবিবাহের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং কন্যাশিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন (আইএইচএফ) ও ইসমাইলি সিভিক বাংলাদেশ।
আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে শনিবার রাজধানীর বসুন্ধরায় ইসমাইলি জামাতখানা অ্যান্ড সেন্টারে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে আয়োজিত দুটি প্যানেল আলোচনায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য, নারী-পুরুষের বৈষম্য এবং মেয়েদের অধিকার পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিবারের আয় কমে যায়। এতে মেয়েদের পড়াশোনা ব্যাহত হয় এবং তাদের ওপর পারিবারিক দায়িত্ব বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে অনেক পরিবার মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
মূল বক্তব্যে ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. আদনান হোসেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বাল্যবিবাহকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। দুর্যোগের কারণে পরিবারের আর্থিক সংকট তৈরি হলে মেয়েদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
তিনি বলেন, একটি ঝড় একটি পরিবারের জীবন এলোমেলো করে দিতে পারে, এমনকি স্কুলও ধ্বংস করতে পারে। তবে কোনো দুর্যোগ যেন মেয়েদের স্বপ্নপূরণ ও নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
প্রথম প্যানেল আলোচনায় সঞ্চালক ছিলেন ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা শামীমা আক্তার। এতে অংশ নেন সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের উপপরিচালক রৌফা খানুম, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট অনিতা গাজী রহমান, সিটিব্যাংক এন.এ. বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স রুমানা আহমেদ এবং জেন্ডার ইকুয়ালিটি অ্যান্ড ইনক্লুশন স্পেশালিস্ট আফসানা চৌধুরী।
দ্বিতীয় প্যানেল আলোচনায় সঞ্চালনা করেন ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা সৈয়দ ফজলে নিয়াজ। আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ফওজিয়া করিম ফিরোজ, বুরো বাংলাদেশের জেন্ডার অ্যান্ড ক্লাইমেট লিড ও হেড অব রিসার্চ মাইমুনা জাহরা ফারিহ, আমাল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ইসরাত করিম ইভ এবং গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশনস কাউন্সিলের কান্ট্রি লিড ফারাহ আনজুম।
বক্তারা বলেন, দুর্যোগের সময় জরুরি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদার, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু মোকাবিলার উদ্যোগ ও নিজেদের জীবনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে মেয়েদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তাঁরা।
অনুষ্ঠানে ইসমাইলি সিভিক বাংলাদেশের লিড মুনিরা আহমেদ ফিদাই বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মেয়েদের শুধু ভুক্তভোগী হিসেবে দেখলে চলবে না। নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে হবে, যাতে তারা জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আরও নিরাপদ ও সহনশীল সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।
২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও জরুরি সহায়তার মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণে কাজ করে। অন্যদিকে, শিয়া ইসমাইলি মুসলিম সম্প্রদায়ের আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ ইসমাইলি সিভিক সমাজের উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে।
অনুষ্ঠানে পিআর পার্টনার হিসেবে ব্যাকপেজ পিআর এবং ডিজিটাল মিডিয়া পার্টনার হিসেবে দ্য নিউজ কমপ্রেস সহযোগিতা করে।































