ঢাকা ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৫০:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • / 9

ইরানের হামলার পর ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের অবশেষ

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি আগ্রাসনের তীব্র প্রতিক্রিয়া হিসেবে এবার সরাসরি ইসরায়েল লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। স্থানীয় সময় রোববার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে এই আকস্মিক হামলা শুরু হয়।

ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকাগুলোকে নিশানা করে অন্তত ১০টি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরানের সামরিক বাহিনী। এই নজিরবিহীন হামলার পরপরই সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ইসরায়েলজুড়ে উচ্চ সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে।

ইরানের এই আকস্মিক হামলার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান থেকে ছোড়া সবকটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই সফলভাবে বাধা দিয়ে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) রোববার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা জানায়, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রামাত ডেভিড বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই সফল অভিযান চালানো হয়েছে।

আইআরজিসি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এই অভিযানটি কেবল একটি প্রাথমিক সতর্কবার্তা মাত্র। যদি ইসরায়েল পুনরায় কোনো আগ্রাসন দেখায়, তবে তাদের পরবর্তী প্রতিক্রিয়া আরও ভয়াবহ ও বিস্তৃত হবে, যা এই অঞ্চলে থাকা সব আমেরিকান-জায়নবাদী লক্ষ্যস্থলকে গুঁড়িয়ে দেবে।

ইসরায়েলে এই হামলার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করেছিলেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর যুদ্ধ এড়াতে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটিতে এখনই কোনো পাল্টা হামলা না চালানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে ইসরায়েলকে সর্বোচ্চ সংযত থাকার জন্য তীব্র চাপ দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু যুদ্ধংদেহী ইসরায়েলি প্রশাসন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেই অনুরোধ ও চাপকে তোয়াক্কা না করেই ইরানের ওপর পাল্টা হামলা শুরু করে দেয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ইরান প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ইরানের রাজধানী তেহরানে একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর পাশাপাশি দেশটির ইস্পাহান এবং তাবরিজ শহরেও বড় ধরণের বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে।

মূলত লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান ও বৈরুতের দক্ষিণাংশের দাহিকায় ভয়াবহ হামলার জের ধরেই এই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অবিলম্বে বন্ধ না করা হলে তারা আরও বড় আক্রমণের মুখোমুখি হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ইসরায়েলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সর্বশেষ আপডেট ১০:৫০:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি আগ্রাসনের তীব্র প্রতিক্রিয়া হিসেবে এবার সরাসরি ইসরায়েল লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। স্থানীয় সময় রোববার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে এই আকস্মিক হামলা শুরু হয়।

ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকাগুলোকে নিশানা করে অন্তত ১০টি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরানের সামরিক বাহিনী। এই নজিরবিহীন হামলার পরপরই সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ইসরায়েলজুড়ে উচ্চ সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে।

ইরানের এই আকস্মিক হামলার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান থেকে ছোড়া সবকটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই সফলভাবে বাধা দিয়ে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) রোববার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা জানায়, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রামাত ডেভিড বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই সফল অভিযান চালানো হয়েছে।

আইআরজিসি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এই অভিযানটি কেবল একটি প্রাথমিক সতর্কবার্তা মাত্র। যদি ইসরায়েল পুনরায় কোনো আগ্রাসন দেখায়, তবে তাদের পরবর্তী প্রতিক্রিয়া আরও ভয়াবহ ও বিস্তৃত হবে, যা এই অঞ্চলে থাকা সব আমেরিকান-জায়নবাদী লক্ষ্যস্থলকে গুঁড়িয়ে দেবে।

ইসরায়েলে এই হামলার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করেছিলেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর যুদ্ধ এড়াতে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটিতে এখনই কোনো পাল্টা হামলা না চালানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে ইসরায়েলকে সর্বোচ্চ সংযত থাকার জন্য তীব্র চাপ দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু যুদ্ধংদেহী ইসরায়েলি প্রশাসন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেই অনুরোধ ও চাপকে তোয়াক্কা না করেই ইরানের ওপর পাল্টা হামলা শুরু করে দেয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ইরান প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ইরানের রাজধানী তেহরানে একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর পাশাপাশি দেশটির ইস্পাহান এবং তাবরিজ শহরেও বড় ধরণের বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে।

মূলত লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান ও বৈরুতের দক্ষিণাংশের দাহিকায় ভয়াবহ হামলার জের ধরেই এই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অবিলম্বে বন্ধ না করা হলে তারা আরও বড় আক্রমণের মুখোমুখি হবে।