ঢাকা ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান ইস্যুতে ধৈর্য হারাচ্ছেন ট্রাম্প

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:০৬:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
  • / 85

ইরানের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থা নিয়ে ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বলেন, তেহরান দ্রুত সমঝোতায় না এলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ঘিরে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান নিয়ে তার ধৈর্যের সীমা শেষের দিকে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি আর বেশি সময় অপেক্ষা করব না। তাদের চুক্তিতে আসা উচিত।”

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকে হরমুজ প্রণালির নৌপথ খোলা রাখার বিষয়ে উভয় নেতা একমত হন। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুটটি গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান। এতে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়।

চীন দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং দেশটির তেলের প্রধান ক্রেতা। বৈঠকের পর ট্রাম্প দাবি করেন, শি জিনপিং তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে চীন ইরানকে কোনো সামরিক সরঞ্জাম দেবে না। ট্রাম্প এটিকে “বড় ধরনের বার্তা” বলে উল্লেখ করেন।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের আলোচনা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থবির হয়ে আছে। ওয়াশিংটন চায় ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করুক এবং ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করুক। তবে তেহরান এসব শর্ত মানতে রাজি নয়।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের গোপন ইউরেনিয়াম মজুত দখলে নেওয়া মূলত “জনমত ব্যবস্থাপনার” বিষয়। তার ভাষায়, “এটা বাস্তবে যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে জনসংযোগের দিক থেকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

এদিকে হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপকূলে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আফ্রিকা থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পশুবাহী একটি ভারতীয় জাহাজ বুধবার ওমান উপকূলে ডুবে যায়। ব্রিটিশ নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ডের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলায় বিস্ফোরণের পর জাহাজটি ডুবে যায়।

আরেক ঘটনায়, ফুজাইরাহ বন্দরের কাছে নোঙর করা একটি জাহাজে “অননুমোদিত ব্যক্তিরা” উঠে সেটিকে ইরানের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও। ভ্যানগার্ডের দাবি, জাহাজটি ইরানি বাহিনী নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

তবে উত্তেজনার মধ্যেও সীমিত পরিসরে কিছু জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে অন্তত ৩০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন যেখানে গড়ে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত, সেই তুলনায় সংখ্যা এখনও অনেক কম।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বেইজিং থেকে সিএনবিসিকে বলেন, চীন প্রণালিটি খুলে দিতে সহায়তা করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। কারণ এটি চীনের নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গেও জড়িত।

অন্যদিকে লেবানন ও ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের মধ্যে ওয়াশিংটনে নতুন দফা আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। আলোচনাটি শুক্রবারও চলবে।

মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা দাবি করছেন, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা “উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল” হয়েছে। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, তেহরানের হাতে এখনও উল্লেখযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে। সে কারণেই তিনি চীনের সহায়তায় দ্রুত একটি সমঝোতা চান। তবে বেইজিং ইরানের ওপর কতটা চাপ দেবে, তা নিয়ে এখনও সংশয় রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ইরান ইস্যুতে ধৈর্য হারাচ্ছেন ট্রাম্প

সর্বশেষ আপডেট ০৫:০৬:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

ইরানের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থা নিয়ে ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বলেন, তেহরান দ্রুত সমঝোতায় না এলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ঘিরে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান নিয়ে তার ধৈর্যের সীমা শেষের দিকে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি আর বেশি সময় অপেক্ষা করব না। তাদের চুক্তিতে আসা উচিত।”

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকে হরমুজ প্রণালির নৌপথ খোলা রাখার বিষয়ে উভয় নেতা একমত হন। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুটটি গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান। এতে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়।

চীন দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং দেশটির তেলের প্রধান ক্রেতা। বৈঠকের পর ট্রাম্প দাবি করেন, শি জিনপিং তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে চীন ইরানকে কোনো সামরিক সরঞ্জাম দেবে না। ট্রাম্প এটিকে “বড় ধরনের বার্তা” বলে উল্লেখ করেন।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের আলোচনা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থবির হয়ে আছে। ওয়াশিংটন চায় ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করুক এবং ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করুক। তবে তেহরান এসব শর্ত মানতে রাজি নয়।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের গোপন ইউরেনিয়াম মজুত দখলে নেওয়া মূলত “জনমত ব্যবস্থাপনার” বিষয়। তার ভাষায়, “এটা বাস্তবে যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে জনসংযোগের দিক থেকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

এদিকে হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপকূলে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আফ্রিকা থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পশুবাহী একটি ভারতীয় জাহাজ বুধবার ওমান উপকূলে ডুবে যায়। ব্রিটিশ নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ডের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলায় বিস্ফোরণের পর জাহাজটি ডুবে যায়।

আরেক ঘটনায়, ফুজাইরাহ বন্দরের কাছে নোঙর করা একটি জাহাজে “অননুমোদিত ব্যক্তিরা” উঠে সেটিকে ইরানের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও। ভ্যানগার্ডের দাবি, জাহাজটি ইরানি বাহিনী নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

তবে উত্তেজনার মধ্যেও সীমিত পরিসরে কিছু জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে অন্তত ৩০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন যেখানে গড়ে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত, সেই তুলনায় সংখ্যা এখনও অনেক কম।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বেইজিং থেকে সিএনবিসিকে বলেন, চীন প্রণালিটি খুলে দিতে সহায়তা করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। কারণ এটি চীনের নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গেও জড়িত।

অন্যদিকে লেবানন ও ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের মধ্যে ওয়াশিংটনে নতুন দফা আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। আলোচনাটি শুক্রবারও চলবে।

মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা দাবি করছেন, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা “উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল” হয়েছে। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, তেহরানের হাতে এখনও উল্লেখযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে। সে কারণেই তিনি চীনের সহায়তায় দ্রুত একটি সমঝোতা চান। তবে বেইজিং ইরানের ওপর কতটা চাপ দেবে, তা নিয়ে এখনও সংশয় রয়েছে।