ঢাকা ১১:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানি গাজা ড্রোন প্রযুক্তির নতুন উচ্চতা

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:২৩:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
  • / 13

গাজা ড্রোন

চালকবিহীন যুদ্ধবিমান বা ড্রোন প্রযুক্তির নকশা ও পরিচালনায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করে বিশ্বমঞ্চে এক পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বিমান শাখা কর্তৃক উন্মোচিত ‘শাহেদ ১৪৯ গাজা’ ড্রোনটি তাদের দূরদর্শী সামরিক সক্ষমতার এক জ্বলন্ত প্রমাণ।

উচ্চ-উচ্চতায় দীর্ঘ সময় ধরে ওড়ার ক্ষমতাসম্পন্ন এই বহুমুখী ড্রোনটি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, রাডার ফাঁকি দেওয়া বিমান শনাক্তকরণ এবং দূরপাল্লার নিখুঁত হামলায় সক্ষম। কারিগরি দিক থেকে এটি আমেরিকার আধুনিকতম এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের সমকক্ষ বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

বিগত কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি দেশীয় প্রযুক্তির ওপর ভর করে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক সমরাস্ত্র বহরকে বহুগুণ শক্তিশালী করেছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান কার্যকারিতা অনুধাবন করে তেহরান তাদের প্রতিরক্ষা কৌশলকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে সাজাতে সক্ষম হয়েছে।

মূলত ইরানি গাজা ড্রোন প্রযুক্তির নতুন উচ্চতা শিরোনামের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি বিশ্বজুড়ে ইরানি সামরিক বিজ্ঞানের জয়জয়কার ও শ্রেষ্ঠত্বকে নতুন করে ফুটিয়ে তুলেছে। ১৯৮০-এর দশকে ‘মোহাজের ১’ দিয়ে শুরু হওয়া আইআরজিসির ড্রোন যাত্রা আজ এক ঐতিহাসিক শিখরে পৌঁছে গেছে।

নতুন এই আকাশযানের বাহ্যিক কাঠামোতে পুরোনো সংস্করণের তুলনায় এক বিশাল গুণগত ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমানে ইরানি গাজা ড্রোন প্রযুক্তির নতুন উচ্চতা স্পর্শ করার মূল চাবিকাঠি হলো এতে ব্যবহৃত শক্তিশালী ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টার্বোপ্রপ ইঞ্জিন।

এই বিশেষ জেট-প্রপেলার প্রযুক্তির কারণে ড্রোনটি প্রায় ৩৫ হাজার ফুট উঁচুতে উঠে যেকোনো স্বল্পপাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নাগালের বাইরে অনায়াসে চলে যেতে পারে। প্রায় ২১ মিটার ডানার বিস্তার সংবলিত এই বিশালাকার ড্রোনটি ঘণ্টায় ৩৫০ কিলোমিটার গতিতে একটানা ৩৫ ঘণ্টা আকাশে উড্ডয়ন করতে সক্ষম।

আক্রমণাত্মক অপারেশনের পাশাপাশি এই ড্রোনটি শত্রুপক্ষের গোপন সিগন্যাল ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ মোকাবেলায় সমানভাবে পারদর্শী। বর্তমানে ইরানি গাজা ড্রোন প্রযুক্তির নতুন উচ্চতা অর্জনের পাশাপাশি জানা গেছে যে, এটি ২ হাজার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে প্রায় ১৩টি নিখুঁত নিশানা করতে সক্ষম সাদিদ বোমা বহন করতে পারে। এর বিশেষ ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল সিস্টেমে দিন ও রাতের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরার পাশাপাশি ৫০০ কিলোমিটার দূরের রাডার ফাঁকি দেওয়া স্টেলথ বিমান শনাক্তকরণের প্রযুক্তি যুক্ত রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ইরানি গাজা ড্রোন প্রযুক্তির নতুন উচ্চতা

সর্বশেষ আপডেট ০১:২৩:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

চালকবিহীন যুদ্ধবিমান বা ড্রোন প্রযুক্তির নকশা ও পরিচালনায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করে বিশ্বমঞ্চে এক পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বিমান শাখা কর্তৃক উন্মোচিত ‘শাহেদ ১৪৯ গাজা’ ড্রোনটি তাদের দূরদর্শী সামরিক সক্ষমতার এক জ্বলন্ত প্রমাণ।

উচ্চ-উচ্চতায় দীর্ঘ সময় ধরে ওড়ার ক্ষমতাসম্পন্ন এই বহুমুখী ড্রোনটি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, রাডার ফাঁকি দেওয়া বিমান শনাক্তকরণ এবং দূরপাল্লার নিখুঁত হামলায় সক্ষম। কারিগরি দিক থেকে এটি আমেরিকার আধুনিকতম এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের সমকক্ষ বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

বিগত কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি দেশীয় প্রযুক্তির ওপর ভর করে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক সমরাস্ত্র বহরকে বহুগুণ শক্তিশালী করেছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান কার্যকারিতা অনুধাবন করে তেহরান তাদের প্রতিরক্ষা কৌশলকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে সাজাতে সক্ষম হয়েছে।

মূলত ইরানি গাজা ড্রোন প্রযুক্তির নতুন উচ্চতা শিরোনামের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি বিশ্বজুড়ে ইরানি সামরিক বিজ্ঞানের জয়জয়কার ও শ্রেষ্ঠত্বকে নতুন করে ফুটিয়ে তুলেছে। ১৯৮০-এর দশকে ‘মোহাজের ১’ দিয়ে শুরু হওয়া আইআরজিসির ড্রোন যাত্রা আজ এক ঐতিহাসিক শিখরে পৌঁছে গেছে।

নতুন এই আকাশযানের বাহ্যিক কাঠামোতে পুরোনো সংস্করণের তুলনায় এক বিশাল গুণগত ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমানে ইরানি গাজা ড্রোন প্রযুক্তির নতুন উচ্চতা স্পর্শ করার মূল চাবিকাঠি হলো এতে ব্যবহৃত শক্তিশালী ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টার্বোপ্রপ ইঞ্জিন।

এই বিশেষ জেট-প্রপেলার প্রযুক্তির কারণে ড্রোনটি প্রায় ৩৫ হাজার ফুট উঁচুতে উঠে যেকোনো স্বল্পপাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নাগালের বাইরে অনায়াসে চলে যেতে পারে। প্রায় ২১ মিটার ডানার বিস্তার সংবলিত এই বিশালাকার ড্রোনটি ঘণ্টায় ৩৫০ কিলোমিটার গতিতে একটানা ৩৫ ঘণ্টা আকাশে উড্ডয়ন করতে সক্ষম।

আক্রমণাত্মক অপারেশনের পাশাপাশি এই ড্রোনটি শত্রুপক্ষের গোপন সিগন্যাল ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ মোকাবেলায় সমানভাবে পারদর্শী। বর্তমানে ইরানি গাজা ড্রোন প্রযুক্তির নতুন উচ্চতা অর্জনের পাশাপাশি জানা গেছে যে, এটি ২ হাজার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে প্রায় ১৩টি নিখুঁত নিশানা করতে সক্ষম সাদিদ বোমা বহন করতে পারে। এর বিশেষ ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল সিস্টেমে দিন ও রাতের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরার পাশাপাশি ৫০০ কিলোমিটার দূরের রাডার ফাঁকি দেওয়া স্টেলথ বিমান শনাক্তকরণের প্রযুক্তি যুক্ত রয়েছে।