হরমুজ প্রণালী নিয়ে শেষ মুহূর্তে বড় শর্ত আদায় ইরানের
- সর্বশেষ আপডেট ১১:০৯:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
- / 15
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে হরমুজ প্রণালী নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত যুক্ত করিয়ে নিয়েছে ইরান। এতে ওই কৌশলগত জলপথে নিয়ন্ত্রণ ও ভবিষ্যৎ ফি আদায়ের বিষয়টি ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি সমঝোতার শেষ মুহূর্তে হরমুজ প্রণালী নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা আদায় করেছে ইরান। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, চুক্তির ভাষা পরিবর্তনের মাধ্যমে ওই জলপথ ব্যবস্থাপনায় তেহরান ও ওমানকে কর্তৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, সমঝোতা স্মারকের শেষ পর্যায়ের আলোচনায় ইরান এমন একটি ধারা যুক্ত করে নেয়, যার ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে নির্দিষ্ট খরচ বা ফি আদায়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স বলছে, সংশোধিত নথিতে সমুদ্রপথ ব্যবস্থাপনা ও সেবার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, যা কার্যত ইরানকে ভবিষ্যতে ফি নির্ধারণ ও আদায়ের একটি ভিত্তি দিতে পারে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এর মাধ্যমে প্রণালির ওপর যৌথ কর্তৃত্বের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ৬০ দিন ওই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল অবাধ থাকবে। এরপর নিরাপত্তা, নৌচলাচল, পরিবেশ সুরক্ষা এবং বীমা–সংক্রান্ত সেবার খরচ হিসেবে নির্ধারিত ফি কার্যকর হতে পারে।
তবে এই বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আগে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালী স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত থাকবে। ফলে নতুন এই ধারা নিয়ে ব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
ফার্স আরও দাবি করেছে, শেষ মুহূর্তে আলোচনার সময় ‘মেরিটাইম সার্ভিসেস’ শব্দ যুক্ত করার মধ্য দিয়ে ফি গ্রহণের বিষয়টি পরোক্ষভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
চুক্তিটি নিয়ে দীর্ঘ রাত আলোচনার পর একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছায় দুই পক্ষ। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হরমুজ এলাকায় মাইন অপসারণ শেষ হলে প্রণালী আবার পুরোপুরি খুলে দেওয়া হতে পারে, যদিও এর সময়সীমা ও শর্ত এখনো চূড়ান্ত নয়।




































