স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা হলেও কলেজে জিপিএতেই
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
- / 12
আগামী বছর থেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে আগের নিয়মই বহাল থাকছে। অর্থাৎ, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার জিপিএ-র (GPA) ভিত্তিতেই কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। আগামী জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে অনলাইনে এই ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনা করছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড।
আগামী ২০ জুলাই চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের কথা রয়েছে। ফল প্রকাশের পর পরই একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে বিধায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গত রোববার (২১ জুন) ২০২৬ সালের একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালার খসড়া তৈরি করতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত সব পরিদর্শকই জিপিএ-র ভিত্তিতে অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া চালু রাখার পক্ষে মত দেন। তবে এই নীতিমালাটি চূড়ান্ত করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, স্কুলে ভর্তি এবং কলেজে ভর্তির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন। জিপিএ-র ভিত্তিতে কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে ভর্তির কারণে শিক্ষার্থীদের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হয় এবং যেকোনো ধরনের অনিয়ম বা তদবিরের সুযোগ বন্ধ থাকে। একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে সশরীরে একাধিক কলেজে গিয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়া অসম্ভব, কিন্তু অনলাইনে সে সহজেই সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দক্রম (Choice List) অনুযায়ী নির্বাচন করতে পারে। প্রথম ধাপে সুযোগ না পেলে পরবর্তীতে পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগও থাকে। এই পুরো প্রক্রিয়াকরণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (BUET) সরাসরি কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে আসছে, যার ফলে এই ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে কোনো বিতর্কের সুযোগ নেই।
পূর্ববর্তী বছরের নীতিমালা অনুযায়ী, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯৩ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, যা সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে বণ্টন করা হবে। বাকি ৭ শতাংশ আসনের মধ্যে ৫ শতাংশ আসন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য এবং ২ শতাংশ আসন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার জিপিএ-র পাশাপাশি ‘ক্যাচমেন্ট এরিয়া’ (আঞ্চলিক কোটা) বা এই জাতীয় কোনো নিয়ম যুক্ত করা যায় কি না, তা নিয়ে ভাবা হচ্ছে—যেন স্থানীয় শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকার কলেজে পড়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পায়।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মুনসী হুমায়ুন কবির জানান, ফল প্রকাশের ৪৫ দিনের মধ্যে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। খসড়া নীতিমালাটি দ্রুতই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং মন্ত্রণালয় থেকে সবুজ সংকেত পেলেই জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সাল থেকে দেশে জিপিএ-র ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি নেওয়া হচ্ছে। তবে এর বাইরে চার্চ বা মিশন পরিচালিত চারটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান—নটর ডেম কলেজ, হলিক্রস কলেজ, সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল এবং সেন্ট গ্রেগরীজ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ আদালতের বিশেষ আদেশের প্রেক্ষিতে সম্পূর্ণ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করিয়ে আসছে।































