সিলিংয়ে ঝুলিয়ে নির্যাতন তারেক রহমানকে: অনুসন্ধান
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪৯:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
- / 26
১/১১-এর সময় বিএনপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গ্রেপ্তারের পর ডিজিএফআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল বলে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তাকে চোখ বেঁধে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঝুলিয়ে রাখা হয়, এমনকি সিলিং থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহতও হন তিনি।
মানবজমিনের প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০০৭ সালের ৭ মার্চ ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়াই সেনা কর্মকর্তাদের নির্দেশে তাকে ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) নেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তারের পুরো প্রক্রিয়ায় কয়েকজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন। অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ইমরান মইনুল হোসেন রোডের বাসভবন থেকে তাকে নিয়ে যান। পথে তার মুখ কালো কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারেক রহমানকে দিনের পর দিন চোখ বেঁধে রাখা, হাত বেঁধে ঝুলিয়ে নির্যাতন এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠে এসেছে অনুসন্ধানে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সিটিআইবির তৎকালীন কর্মকর্তাদের নির্দেশেই এসব নির্যাতন চালানো হয়।
আরও দাবি করা হয়েছে, ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে জোরপূর্বক একটি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়, যেখানে তারেক রহমানকে নিজের ভুলের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছিল বলে উল্লেখ রয়েছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নির্যাতনের কারণে তারেক রহমান গুরুতর শারীরিক ক্ষতির মুখে পড়েন। একপর্যায়ে তাকে সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয় এবং পরে নিচে পড়ে গিয়ে কোমরে আঘাত পান বলে কয়েকজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তার জবানবন্দিতে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০০৮ সালে নানির মৃত্যুর পর প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাইরে আসার সময় তাকে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা যায়। পরে পরিবারের মাধ্যমে জানা যায়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল।
ঘটনায় কয়েকজন সাবেক সেনা কর্মকর্তার নাম এসেছে, যারা সে সময় সিটিআইবি ও জেআইসির দায়িত্বে ছিলেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদে সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী দাবি করেছেন, নির্যাতনের ঘটনায় তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন না।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তারেক রহমান দেশ ছাড়েন। এর আগে তাকে একটি অঙ্গীকারনামায় সই করানো হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।































