সারা দেশে শুরু এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা
- সর্বশেষ আপডেট ০২:১৪:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
- / 12
উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের ২০২৬ সালের পরীক্ষা বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সারা দেশে একযোগে শুরু হয়েছে। সকাল ১০টায় বাংলা প্রথমপত্র (আবশ্যিক) পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হওয়া এ পরীক্ষা চলে দুপুর ১টা পর্যন্ত।
এ বছর দেশের ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে অংশ নিচ্ছেন। মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন।
এবারের পরীক্ষায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো- দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে প্রথমবারের মতো অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগে প্রতিটি বোর্ড নিজস্ব প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিত।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন ছাত্র এবং ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন ছাত্রী। অর্থাৎ ছাত্রদের তুলনায় ২৬ হাজার ৬৪৫ জন বেশি ছাত্রী এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
বোর্ডভিত্তিক হিসাবে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ৩৯৩ জন এবং বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে সবচেয়ে কম ৫৮ হাজার ৬৯৪ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।
পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখতে দেশের প্রতিটি কেন্দ্রকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্থাপন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল, যেখান থেকে দেশের যেকোনো কেন্দ্রের পরীক্ষা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের জন্য বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, যানজটসহ নানা ধরনের ঝামেলা এড়াতে পরীক্ষার্থীদের সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে কেন্দ্রে প্রবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। নকলের অভিযোগ থাকা ভেন্যু কেন্দ্রগুলো বাতিল করা হলেও হাওর, পার্বত্য ও দুর্গম চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে কয়েকটি বিশেষ কেন্দ্র বহাল রাখা হয়েছে, যেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এবার ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনের সূচিতে লিখিত পরীক্ষা চলবে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হবে। লিখিত পরীক্ষার ফাঁকে যেসব দিনে পরীক্ষা থাকবে না, সেসব দিনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান চলবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁস বা ভুয়া প্রশ্ন ছড়ানোর চেষ্টা করলে সংশোধিত পাবলিক পরীক্ষা আইন, ১৯৮০ অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
































