ঢাকা ০৩:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃক্ষরোপণে আসছে ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’

বিএসএস নিউজ
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:২৪:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • / 4

ছবি: সংগৃহীত

সরকারের দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, বিশেষ করে ‘একটি শিশু, এক বৃক্ষ’ কর্মসূচির আওতায় রোপণ করা চারার টিকে থাকা, বৃদ্ধি এবং কার্যক্রমের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ তৈরি করা হচ্ছে।

জাতীয় সবুজ মিশনের অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারের লক্ষ্যে প্রণীত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের (এফওয়াই২৭) জাতীয় বাজেট বক্তৃতা এবং বাংলাদেশ জলবায়ু বাজেট প্রতিবেদন ২০২৬-২৭-এ এ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বাজেট ও জলবায়ু নীতিসংক্রান্ত দলিল অনুযায়ী, দেশজুড়ে রোপণ করা গাছের ধারাবাহিক ডিজিটাল নজরদারি ও পরিচর্যার মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে অ্যাপটি তৈরি করা হচ্ছে।

এই ব্যবস্থার মাধ্যমে চারার বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং রোপণের পর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে ‘একটি শিশু, একটি বৃক্ষ’ কর্মসূচির আওতায় বাড়ি ও বসতভিটায় রোপণ করা বিপুল সংখ্যক গাছের নজরদারির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে তাদের বাড়ি ও বসতভিটায় ১ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্য নিয়ে ‘একটি শিশু, একটি বৃক্ষ’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণের দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পর্যবেক্ষণ আরও নির্ভুল করতে ট্রি মনিটরিং অ্যাপকে জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) ও জিআইএস (জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম) ভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বিত করা হবে। এর মাধ্যমে বন অধিদপ্তরের আওতায় বনায়নকৃত এলাকার ডিজিটাল মানচিত্র ও তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

বিশেষ করে গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা বৃক্ষরোপণ এলাকায়, যেখানে সরাসরি তদারকি করা কঠিন, সেখানে চারার টিকে থাকা নিশ্চিত করতে অ্যাপটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতীয় সবুজ মিশনের আওতায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অবক্ষয়িত বন পুনরুদ্ধার, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং কার্বন শোষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।

বৃহত্তর এ বনায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজেট দলিল অনুযায়ী, পরিবেশ সংরক্ষণ ও আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনের ৫০ শতাংশকে কার্বন বাণিজ্য ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বনায়ন কর্মসূচিতে উপকূলীয় চরাঞ্চলে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ রোপণ, পাহাড়ি ও মধ্যাঞ্চলের শালবন পুনরুদ্ধার এবং বিলুপ্তপ্রায় বনজ প্রজাতি সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে জীববৈচিত্র্য সুরক্ষিত থাকে।

এছাড়া সড়ক, মহাসড়ক, বাঁধ, নদীতীর ও খালপাড়ের পতিত জমিতে অঞ্চলভিত্তিক উপযোগী বৃক্ষরোপণ, পাশাপাশি নগর বনায়ন ও কৃষিবনায়ন কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বাজেটে গাছ ও সুগন্ধি গাছের নির্যাস আমদানির ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে, যা পরিবেশ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, জাতীয় সবুজ মিশনের অন্যতম প্রধান ডিজিটাল অবকাঠামো হিসেবে ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ বৃহৎ পরিসরের বনায়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীল ও পরিবেশগতভাবে ভারসাম্যপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বৃক্ষরোপণে আসছে ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’

সর্বশেষ আপডেট ০২:২৪:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

সরকারের দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, বিশেষ করে ‘একটি শিশু, এক বৃক্ষ’ কর্মসূচির আওতায় রোপণ করা চারার টিকে থাকা, বৃদ্ধি এবং কার্যক্রমের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ তৈরি করা হচ্ছে।

জাতীয় সবুজ মিশনের অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারের লক্ষ্যে প্রণীত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের (এফওয়াই২৭) জাতীয় বাজেট বক্তৃতা এবং বাংলাদেশ জলবায়ু বাজেট প্রতিবেদন ২০২৬-২৭-এ এ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বাজেট ও জলবায়ু নীতিসংক্রান্ত দলিল অনুযায়ী, দেশজুড়ে রোপণ করা গাছের ধারাবাহিক ডিজিটাল নজরদারি ও পরিচর্যার মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে অ্যাপটি তৈরি করা হচ্ছে।

এই ব্যবস্থার মাধ্যমে চারার বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং রোপণের পর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে ‘একটি শিশু, একটি বৃক্ষ’ কর্মসূচির আওতায় বাড়ি ও বসতভিটায় রোপণ করা বিপুল সংখ্যক গাছের নজরদারির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে তাদের বাড়ি ও বসতভিটায় ১ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্য নিয়ে ‘একটি শিশু, একটি বৃক্ষ’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণের দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পর্যবেক্ষণ আরও নির্ভুল করতে ট্রি মনিটরিং অ্যাপকে জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) ও জিআইএস (জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম) ভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বিত করা হবে। এর মাধ্যমে বন অধিদপ্তরের আওতায় বনায়নকৃত এলাকার ডিজিটাল মানচিত্র ও তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

বিশেষ করে গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা বৃক্ষরোপণ এলাকায়, যেখানে সরাসরি তদারকি করা কঠিন, সেখানে চারার টিকে থাকা নিশ্চিত করতে অ্যাপটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতীয় সবুজ মিশনের আওতায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অবক্ষয়িত বন পুনরুদ্ধার, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং কার্বন শোষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।

বৃহত্তর এ বনায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজেট দলিল অনুযায়ী, পরিবেশ সংরক্ষণ ও আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনের ৫০ শতাংশকে কার্বন বাণিজ্য ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বনায়ন কর্মসূচিতে উপকূলীয় চরাঞ্চলে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ রোপণ, পাহাড়ি ও মধ্যাঞ্চলের শালবন পুনরুদ্ধার এবং বিলুপ্তপ্রায় বনজ প্রজাতি সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে জীববৈচিত্র্য সুরক্ষিত থাকে।

এছাড়া সড়ক, মহাসড়ক, বাঁধ, নদীতীর ও খালপাড়ের পতিত জমিতে অঞ্চলভিত্তিক উপযোগী বৃক্ষরোপণ, পাশাপাশি নগর বনায়ন ও কৃষিবনায়ন কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বাজেটে গাছ ও সুগন্ধি গাছের নির্যাস আমদানির ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে, যা পরিবেশ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, জাতীয় সবুজ মিশনের অন্যতম প্রধান ডিজিটাল অবকাঠামো হিসেবে ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ বৃহৎ পরিসরের বনায়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীল ও পরিবেশগতভাবে ভারসাম্যপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।