সমঝোতা না হলে কঠোর পথে যাবে যুক্তরাষ্ট্র: রুবিও
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৬:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
- / 107
ইরানের সঙ্গে শক্তিশালী সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র ভিন্ন পথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। একই সময়ে তেহরান বলছে, আলোচনা এগোলেও দ্রুত কোনও চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা এখনো স্পষ্ট নয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আশাবাদ কম দেখানোর পর সোমবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রুবিও। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের টেবিলে এমন একটি প্রস্তাব রয়েছে, যা কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালী আবার স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর টানা সংঘাতের মধ্যে এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে এখনো হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে, আর তেহরানও জাহাজ চলাচলে সীমাবদ্ধতা ধরে রেখেছে।
রবিবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, চুক্তি স্বাক্ষর ও অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন অবরোধ বহাল থাকবে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, উভয় পক্ষকেই সিদ্ধান্ত নিতে আরও সময় লাগতে পারে।
এদিকে তেহরানে সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই দাবি করেন, আলোচনার বড় অংশে দুই দেশ কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এর অর্থ এই নয় যে খুব দ্রুত চুক্তি হতে যাচ্ছে। তার ভাষায়, বর্তমান আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যুর চেয়ে যুদ্ধ বন্ধ করাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
রুবিওর বক্তব্যের পর বাঘাই আরও বলেন, তেহরান কোনও হুমকিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না এবং যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কি না, তা নিয়েও ইরানের সন্দেহ রয়েছে।
কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বেইজিং সফর করেছেন। চীন জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত স্থিতিশীলতা ফেরাতে ইসলামাবাদের সঙ্গে কাজ করবে তারা।
এদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নীতিগতভাবে ইরান উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলতে এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ শিথিল করতে পারে। যদিও তেহরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থানে এখনো বড় ধরনের দূরত্ব রয়েছে। ফলে দ্রুত স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো সহজ হবে না।


































