শেখ হাসিনার আপিল নিয়ে ভিন্নমত
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 12
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর আপিলের সুযোগ থাকবে কি না; এ নিয়ে সরকারের দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আপিলের বিষয়ে আইনই সিদ্ধান্ত নেবে। অন্যদিকে তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, শেখ হাসিনার এখন আর আপিলের সুযোগ নেই এবং দেশে ফিরলে তাঁর জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আইন ও বিচার বিভাগ এবং ব্র্যাকের মধ্যে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়নসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আপিল করতে পারবেন কি না; এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি দেশে ফিরলে আপিলের ক্ষেত্রে আইনই সিদ্ধান্ত নেবে।
ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর না করার বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রত্যর্পণ চুক্তির সঙ্গে কোন কোন মন্ত্রণালয় সম্পৃক্ত, তা বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা উচিত। বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত নয় বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) পিআইডি সম্মেলন কক্ষে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশের বিষয়ে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
শেখ হাসিনা চলতি বছরের ডিসেম্বর দেশে ফিরতে চান; এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, শেখ হাসিনা একজন পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। সরকার তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনার এখন আর আপিলের সুযোগ নেই। ফলে দেশে ফিরে তিনি বিচার পুনর্বিবেচনার সুযোগও পাবেন না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে।
দুই কর্মকর্তার বক্তব্যে মূলত শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর আইনি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ভিন্ন অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। আইনমন্ত্রী বিষয়টিকে বিদ্যমান আইনের আলোকে দেখার কথা বললেও তথ্য উপদেষ্টা বলেছেন, শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ নেই।
এদিকে একই অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বিচার বিভাগের মামলাজট কমানো ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, মানিকগঞ্জে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে এক বছরে প্রায় ৫০ শতাংশ মামলা কমানো সম্ভব হয়েছে। ঝিনাইদহে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ডোপ টেস্টের মাধ্যমে মাদক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে বলে জানান তিনি।
বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটালাইজেশন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ ও বিবাহসংক্রান্ত জালিয়াতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। প্রথম পর্যায়ে ১০টি উপজেলায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির পাইলট কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
































