ঢাকা ০৫:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা সংকটে নতুন বৈশ্বিক সংহতির আহ্বান

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৭:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 18

রোহিঙ্গা সংকটে নতুন বৈশ্বিক সংহতির আহ্বান

রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এক দশকের কাছাকাছি পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটে নতুন করে বৈশ্বিক সংহতি ও টেকসই সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে কক্সবাজারের এনজিও প্ল্যাটফর্ম। সংকট মোকাবিলায় জরুরি মানবিক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।

বুধবার (৭ অক্টোবর) কক্সবাজারে ‘সংহতির দশ বছরের পথে: জরুরি মানবিক সাড়াদান থেকে টেকসই সমাধানের দিকে’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে এনজিও প্ল্যাটফর্ম। এতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি, রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, দাতা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও, সুশীল সমাজ এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের বিভিন্ন অংশীজন অংশ নেন।

আলোচনায় গত নয় বছরের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বর্তমান জরুরি প্রয়োজন, বিদ্যমান ঘাটতি এবং ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়। দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট থেকে টেকসই সমাধানের পথে এগিয়ে যেতে একটি অভিন্ন ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি তৈরির প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়।

২০২৬ সালের মে থেকে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এনজিও প্ল্যাটফর্মের হোস্টিং এজেন্সি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটির সঙ্গে ১৮২টি স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও যুক্ত রয়েছে। রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত বেসরকারি ও নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর সম্মিলিত কণ্ঠস্বর হিসেবে প্ল্যাটফর্মটি কাজ করছে।

গোলটেবিল আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, প্রায় এক দশকের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জরুরি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি তাদের মর্যাদা, সহনশীলতা ও নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে আসে, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান শুধু তাদের জন্য নির্ধারণ না করে রোহিঙ্গাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠী, সরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও, জাতিসংঘ ও উন্নয়ন অংশীদারদের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

গোলটেবিলের দুটি অধিবেশনে বর্তমান চাহিদা, অগ্রাধিকার, সহনশীলতা, সম্মিলিত উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়। প্রথম অধিবেশনে রোহিঙ্গা প্রতিনিধি, এনজিও, সুশীল সমাজ, স্থানীয় নেতৃত্ব ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। দ্বিতীয় অধিবেশনে সরকারি ও জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন।

সংলাপ থেকে আন্তর্জাতিক সংহতি অব্যাহত রাখা, স্থানীয় নেতৃত্ব ও স্থানীয়করণ শক্তিশালী করা, রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহনশীলতায় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং রোহিঙ্গাদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় রোহিঙ্গা শিশু ও তরুণদের ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষাকে কৌশলগত পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাদের সুরক্ষা, শিক্ষা, দক্ষতা অর্জন ও অর্থবহ সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মত দেন অংশগ্রহণকারীরা, যাতে একটি পুরো প্রজন্ম দীর্ঘদিনের বাস্তুচ্যুতির পরিচয়ের মধ্যে আটকে না পড়ে।

সংলাপের সমাপনীতে অংশগ্রহণকারীরা একমত হন, রোহিঙ্গা সংকট কোনো একক পক্ষের বিষয় নয়; এটি একটি সম্মিলিত দায়িত্ব। সরকার, মানবিক ও উন্নয়ন সংস্থা, দাতা, সুশীল সমাজ, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী—সব পক্ষের সমন্বিত ভূমিকার মাধ্যমেই ভবিষ্যতের কার্যকর পথনকশা তৈরি করা সম্ভব।

এনজিও প্ল্যাটফর্ম জানায়, সমন্বয় জোরদার, কমিউনিটির কণ্ঠস্বরকে সামনে আনা, মানবিক ও উন্নয়ন অংশীজনদের মধ্যে কৌশলগত সংলাপ তৈরি এবং রোহিঙ্গা ও ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মনোযোগ ধরে রাখতে তারা কাজ করে যাবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রোহিঙ্গা সংকটে নতুন বৈশ্বিক সংহতির আহ্বান

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৭:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এক দশকের কাছাকাছি পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটে নতুন করে বৈশ্বিক সংহতি ও টেকসই সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে কক্সবাজারের এনজিও প্ল্যাটফর্ম। সংকট মোকাবিলায় জরুরি মানবিক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।

বুধবার (৭ অক্টোবর) কক্সবাজারে ‘সংহতির দশ বছরের পথে: জরুরি মানবিক সাড়াদান থেকে টেকসই সমাধানের দিকে’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে এনজিও প্ল্যাটফর্ম। এতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি, রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, দাতা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও, সুশীল সমাজ এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের বিভিন্ন অংশীজন অংশ নেন।

আলোচনায় গত নয় বছরের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বর্তমান জরুরি প্রয়োজন, বিদ্যমান ঘাটতি এবং ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়। দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট থেকে টেকসই সমাধানের পথে এগিয়ে যেতে একটি অভিন্ন ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি তৈরির প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়।

২০২৬ সালের মে থেকে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এনজিও প্ল্যাটফর্মের হোস্টিং এজেন্সি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটির সঙ্গে ১৮২টি স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও যুক্ত রয়েছে। রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত বেসরকারি ও নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর সম্মিলিত কণ্ঠস্বর হিসেবে প্ল্যাটফর্মটি কাজ করছে।

গোলটেবিল আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, প্রায় এক দশকের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জরুরি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি তাদের মর্যাদা, সহনশীলতা ও নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে আসে, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান শুধু তাদের জন্য নির্ধারণ না করে রোহিঙ্গাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠী, সরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও, জাতিসংঘ ও উন্নয়ন অংশীদারদের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

গোলটেবিলের দুটি অধিবেশনে বর্তমান চাহিদা, অগ্রাধিকার, সহনশীলতা, সম্মিলিত উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়। প্রথম অধিবেশনে রোহিঙ্গা প্রতিনিধি, এনজিও, সুশীল সমাজ, স্থানীয় নেতৃত্ব ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। দ্বিতীয় অধিবেশনে সরকারি ও জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন।

সংলাপ থেকে আন্তর্জাতিক সংহতি অব্যাহত রাখা, স্থানীয় নেতৃত্ব ও স্থানীয়করণ শক্তিশালী করা, রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহনশীলতায় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং রোহিঙ্গাদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় রোহিঙ্গা শিশু ও তরুণদের ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষাকে কৌশলগত পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাদের সুরক্ষা, শিক্ষা, দক্ষতা অর্জন ও অর্থবহ সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মত দেন অংশগ্রহণকারীরা, যাতে একটি পুরো প্রজন্ম দীর্ঘদিনের বাস্তুচ্যুতির পরিচয়ের মধ্যে আটকে না পড়ে।

সংলাপের সমাপনীতে অংশগ্রহণকারীরা একমত হন, রোহিঙ্গা সংকট কোনো একক পক্ষের বিষয় নয়; এটি একটি সম্মিলিত দায়িত্ব। সরকার, মানবিক ও উন্নয়ন সংস্থা, দাতা, সুশীল সমাজ, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী—সব পক্ষের সমন্বিত ভূমিকার মাধ্যমেই ভবিষ্যতের কার্যকর পথনকশা তৈরি করা সম্ভব।

এনজিও প্ল্যাটফর্ম জানায়, সমন্বয় জোরদার, কমিউনিটির কণ্ঠস্বরকে সামনে আনা, মানবিক ও উন্নয়ন অংশীজনদের মধ্যে কৌশলগত সংলাপ তৈরি এবং রোহিঙ্গা ও ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মনোযোগ ধরে রাখতে তারা কাজ করে যাবে।