বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১০ ডলার ছাড়াল
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৩৭:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
- / 103
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি ও শেয়ারবাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যাচ্ছে। এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিভিন্ন স্থানে আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। হামলায় তেল সংরক্ষণাগারসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনার কারণে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। সোমবার এশিয়ার লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৪.৭৪ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে নাইমেক্স লাইট সুইট ক্রুডের দাম ২৬ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ১১৪.৭৮ ডলারে দাঁড়ায়।
এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শেয়ারবাজারেও। দিনের শুরুতেই বেশিরভাগ প্রধান সূচকে বড় ধরনের পতন দেখা যায়। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৭ শতাংশের বেশি কমেছে। হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক নেমেছে ৩ শতাংশের বেশি এবং অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স ২০০ সূচক কমেছে ৪ শতাংশেরও বেশি।
দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচকের পতন ছিল আরও বেশি, যা ৮ শতাংশের উপরে নেমে যায়। এতে আতঙ্কিত হয়ে অনেক বিনিয়োগকারী দ্রুত শেয়ার বিক্রি করতে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশটির শেয়ারবাজারে ২০ মিনিটের জন্য লেনদেন বন্ধ রাখা হয়। অতিরিক্ত পতন ঠেকাতে বাজারে যে সাময়িক লেনদেন স্থগিতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটিকে ‘সার্কিট ব্রেকার’ বলা হয়। এর আগে গত বুধবারও কোসপি সূচক ১২ শতাংশ পড়ে গেলে একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ সাধারণত হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে যুদ্ধ শুরুর পর গত এক সপ্তাহ ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

































