ঢাকা ১১:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 22

যশোরে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীকে যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা রোধে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। তিনি রাজনৈতিক বিভ্রান্তি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার ওপর জোর দেন।

যশোরে জেলা বিএনপির আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দেশের ভেতরে কেউ যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তাঁর ভাষায়, জনগণের শান্তি নষ্ট করে অতীতের মতো হরতাল-অবরোধের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।

তিনি আরও ইঙ্গিত করেন, ভয় বা গুজব ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টা অতীতেও ছিল এবং এখনো তা চলমান। তবে এসব “ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতি” দিয়ে দেশের অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, সম্প্রতি কিছু মহল জুলাই সনদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যু ঘিরে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তার মতে, জনগণ এখন উন্নয়নমুখী সিদ্ধান্ত চায়—যেখানে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক সহায়তা এবং কর্মসংস্থানের মতো বাস্তব কর্মসূচি রয়েছে, সেগুলোকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

বক্তৃতায় তিনি একটি রাজনৈতিক দলের অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে পরবর্তী বিভিন্ন নির্বাচনের সময় তারা বারবার বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। এখনো সেই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের পর রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছে এবং জনগণের রায়ও সেটিকে সমর্থন করেছে। সেই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

নারী উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, নারীদের উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পিছিয়ে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও এলপিজি সহায়তা কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সরকারের লক্ষ্য জনগণের দৈনন্দিন জীবন সহজ করা এবং কৃষক ও নিম্নআয়ের মানুষের ওপর চাপ কমানো।

বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আগামী দিনে জনগণ যাদের দায়িত্ব দেবে, তারাই রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পাবে। বর্তমানে জনগণের ম্যান্ডেট অনুযায়ী সরকার তার দায়িত্ব পালন করছে এবং ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

জনসভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ বহু নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী যশোরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও পরিদর্শন কার্যক্রমে অংশ নেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

যশোরে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীকে যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা রোধে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। তিনি রাজনৈতিক বিভ্রান্তি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার ওপর জোর দেন।

যশোরে জেলা বিএনপির আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দেশের ভেতরে কেউ যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তাঁর ভাষায়, জনগণের শান্তি নষ্ট করে অতীতের মতো হরতাল-অবরোধের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।

তিনি আরও ইঙ্গিত করেন, ভয় বা গুজব ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টা অতীতেও ছিল এবং এখনো তা চলমান। তবে এসব “ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতি” দিয়ে দেশের অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, সম্প্রতি কিছু মহল জুলাই সনদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যু ঘিরে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তার মতে, জনগণ এখন উন্নয়নমুখী সিদ্ধান্ত চায়—যেখানে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক সহায়তা এবং কর্মসংস্থানের মতো বাস্তব কর্মসূচি রয়েছে, সেগুলোকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

বক্তৃতায় তিনি একটি রাজনৈতিক দলের অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে পরবর্তী বিভিন্ন নির্বাচনের সময় তারা বারবার বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। এখনো সেই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের পর রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছে এবং জনগণের রায়ও সেটিকে সমর্থন করেছে। সেই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

নারী উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, নারীদের উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পিছিয়ে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও এলপিজি সহায়তা কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সরকারের লক্ষ্য জনগণের দৈনন্দিন জীবন সহজ করা এবং কৃষক ও নিম্নআয়ের মানুষের ওপর চাপ কমানো।

বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আগামী দিনে জনগণ যাদের দায়িত্ব দেবে, তারাই রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পাবে। বর্তমানে জনগণের ম্যান্ডেট অনুযায়ী সরকার তার দায়িত্ব পালন করছে এবং ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

জনসভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ বহু নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী যশোরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও পরিদর্শন কার্যক্রমে অংশ নেন।