ঢাকা ০১:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জেরায় আমান আযমী: ‘শেখ হাসিনা ছিলেন আমার অধীনে বন্দী’

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:০০:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 21

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান এক মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার জেরায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আমান আযমী এমন এক বক্তব্য দিয়েছেন, যা রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। তার দাবি, ১৯৮৩ সালে সামরিক শাসনামলে রাজধানীর হেয়ার রোডের একটি বাসায় শেখ হাসিনাসহ কয়েকজন শীর্ষ রাজনীতিককে কিছুদিনের জন্য তার তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছিল।

ট্রাইব্যুনাল-১–এ সোমবার (২৭ এপ্রিল) জেরা চলাকালে এসব কথা বলেন তিনি। জেআইসিতে গুমের ঘটনায় দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় তাকে প্রশ্ন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান।

আমান আযমী জানান, এরশাদ সরকারের সামরিক শাসনকালে তিনি মার্শাল ল’–এর দায়িত্বে ছিলেন এবং ওই সময় হেয়ার রোডের একটি নির্ধারিত স্থাপনায় তার কোম্পানিসহ অবস্থান করতেন। তার ভাষায়, সেই সময় শেখ হাসিনা, মতিয়া চৌধুরী ও সাহারা খাতুনকে সেখানে কয়েক দিনের জন্য রাখা হয়েছিল।

তিনি আরও দাবি করেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে ১৯৮৩ সালেই তার একাধিকবার সাক্ষাৎ হয়েছিল এবং ওই সময় ঘটনাগুলো সামরিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই ঘটেছিল।

জেরার সময় তিনি আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের এক সিদ্ধান্তে তাকে মেজর জেনারেল ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয় ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। তবে সেনাবাহিনী থেকে আনুষ্ঠানিক আদেশ না থাকায় তিনি জবানবন্দিতে নিজেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হিসেবেই উল্লেখ করেছেন।

আমান আযমী আরও দাবি করেন, বন্দীকালীন সময়ের ক্ষতিপূরণ হিসেবে সেনাবাহিনী তাকে চার কোটি টাকা প্রদান করেছে, যা তিনি বাড়িভাড়ার ব্যয় হিসেবে পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তবে কোর্ট অব ইনকোয়ারির সুপারিশে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

এ মামলায় মোট ১৩ জন আসামির মধ্যে তিনজন বর্তমানে সাবজেলে আছেন। তারা হলেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক তিন শীর্ষ কর্মকর্তা। বাকি ১০ জন পলাতক, যাদের মধ্যে সাবেক কয়েকজন মহাপরিচালক ছাড়াও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকের নাম রয়েছে।

মামলাটি ঘিরে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য ও জেরা চলমান থাকলেও রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাস জুড়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে এই বক্তব্যগুলো।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

জেরায় আমান আযমী: ‘শেখ হাসিনা ছিলেন আমার অধীনে বন্দী’

সর্বশেষ আপডেট ১১:০০:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান এক মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার জেরায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আমান আযমী এমন এক বক্তব্য দিয়েছেন, যা রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। তার দাবি, ১৯৮৩ সালে সামরিক শাসনামলে রাজধানীর হেয়ার রোডের একটি বাসায় শেখ হাসিনাসহ কয়েকজন শীর্ষ রাজনীতিককে কিছুদিনের জন্য তার তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছিল।

ট্রাইব্যুনাল-১–এ সোমবার (২৭ এপ্রিল) জেরা চলাকালে এসব কথা বলেন তিনি। জেআইসিতে গুমের ঘটনায় দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় তাকে প্রশ্ন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান।

আমান আযমী জানান, এরশাদ সরকারের সামরিক শাসনকালে তিনি মার্শাল ল’–এর দায়িত্বে ছিলেন এবং ওই সময় হেয়ার রোডের একটি নির্ধারিত স্থাপনায় তার কোম্পানিসহ অবস্থান করতেন। তার ভাষায়, সেই সময় শেখ হাসিনা, মতিয়া চৌধুরী ও সাহারা খাতুনকে সেখানে কয়েক দিনের জন্য রাখা হয়েছিল।

তিনি আরও দাবি করেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে ১৯৮৩ সালেই তার একাধিকবার সাক্ষাৎ হয়েছিল এবং ওই সময় ঘটনাগুলো সামরিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই ঘটেছিল।

জেরার সময় তিনি আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের এক সিদ্ধান্তে তাকে মেজর জেনারেল ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয় ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। তবে সেনাবাহিনী থেকে আনুষ্ঠানিক আদেশ না থাকায় তিনি জবানবন্দিতে নিজেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হিসেবেই উল্লেখ করেছেন।

আমান আযমী আরও দাবি করেন, বন্দীকালীন সময়ের ক্ষতিপূরণ হিসেবে সেনাবাহিনী তাকে চার কোটি টাকা প্রদান করেছে, যা তিনি বাড়িভাড়ার ব্যয় হিসেবে পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তবে কোর্ট অব ইনকোয়ারির সুপারিশে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

এ মামলায় মোট ১৩ জন আসামির মধ্যে তিনজন বর্তমানে সাবজেলে আছেন। তারা হলেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক তিন শীর্ষ কর্মকর্তা। বাকি ১০ জন পলাতক, যাদের মধ্যে সাবেক কয়েকজন মহাপরিচালক ছাড়াও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকের নাম রয়েছে।

মামলাটি ঘিরে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য ও জেরা চলমান থাকলেও রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাস জুড়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে এই বক্তব্যগুলো।