যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবরোধের মধ্যেও কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, তেহরানের নির্ধারিত রুট অনুসরণ করেই এসব জাহাজ নিয়মিত যাতায়াত করছে, যার একটি বড় অংশ ইরানের বন্দর থেকেই পণ্য বোঝাই করছে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ইরানি জাহাজগুলো নিয়মিতভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহার করছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
সর্বশেষ সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্রণালি অতিক্রম করা অধিকাংশ জাহাজই ইরানি কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত রুট অনুসরণ করেছে। এদের প্রায় অর্ধেক ইরানের বিভিন্ন বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে। এই প্রবণতা উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রণালির বাইরে কিছু ইরানি জাহাজ আটক করেছে বলে জানা গেছে। ইরান থেকে বের হওয়া জাহাজ সরাসরি আটক বা জব্দ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যায়নি।
সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত অন্তত ১৭টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে চারটি বড় ট্যাংকার ছিল—যার দুটি ইরান এবং দুটি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে যাত্রা করেছিল।
এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় জাহাজ হিসেবে গ্রিক মালিকানাধীন ‘জিয়াওলং’ উল্লেখ করা হয়েছে, যা সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে যাত্রা করে ভারতের সিক্কা বন্দরে পৌঁছায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গত দুই মাসে এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের দৈনিক গড়ের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এর ফলে বিশেষ করে এশিয়ার বাজারে পরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।
ইরান দাবি করছে, তারা হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং তাদের নৌবাণিজ্য কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানি বন্দরকেন্দ্রিক জাহাজ চলাচলে অবরোধ আরোপ করে এবং এখন পর্যন্ত কয়েকটি জাহাজ আটক করার দাবি করেছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সম্প্রতি বলেছেন, সংরক্ষণ ও রপ্তানি অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে ইরান শিগগিরই তেল উৎপাদন কমাতে বাধ্য হতে পারে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই ধরনের সংকটের দাবি অস্বীকার করেছে।
এদিকে হরমুজ ঘিরে অস্থিরতা জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করছে। গোল্ডম্যান স্যাক্সের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ দিকে ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।