ফিফার আমন্ত্রণেও ভিসা পাননি ফিলিস্তিন ফুটবলপ্রধান
- সর্বশেষ আপডেট ১১:২৮:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
- / 27
আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশনের (ফিফা) পক্ষ থেকে বিশ্বকাপের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিশেষ আমন্ত্রণপত্র পেয়েছিলেন ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) সভাপতি জিবরিল রাজৌব। তবে ফিফার অফিশিয়াল দাওয়াত থাকা সত্ত্বেও ২০২৬ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা পাননি তিনি।
ফিলিস্তিনি ফুটবলের এই শীর্ষ কর্তা অভিযোগ করে দাবি করেন যে, বিশ্বমঞ্চের আয়োজক এই দুই ক্ষমতাধর দেশের এমন আচরণ অত্যন্ত ‘হাস্যকর’ এবং এর পেছনে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক কারণ কাজ করছে। তবে মার্কিন ও কানাডীয় ভিসা না পেলেও বিশ্বকাপের অপর সহ-আয়োজক দেশ মেক্সিকোর পক্ষ থেকে কোনো বাধা পাননি তিনি। মেক্সিকো সরকারের সবুজ সংকেত নিয়ে তিনি দেশটির রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে পৌঁছেছেন এবং গত বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সশরীরে যোগ দিয়েছেন।
বিখ্যাত ফরাসি বার্তা সংস্থা ‘এএফপি’-কে দেওয়া এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে জিবরিল রাজৌব নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জর্ডানের আম্মানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে আমি নিয়ম অনুযায়ী সঠিক সময়ে আবেদন করার পরও তারা আমাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেয়নি। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও তাদের এই ধরনের আচরণ সত্যিই হাস্যকর। আমি এখন মেক্সিকোতে অবস্থান করছি। এখানে তিউনিসিয়ার ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে দেখব, এরপর নিজের মাতৃভূমি ফিলিস্তিনে ফিরে যাব।’
এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিবরিল রাজৌব কেবল আমেরিকারই নন, বরং বিশ্বকাপের আরেক সহ-আয়োজক দেশ কানাডার ভিসাও পাননি বলে সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করেছেন। এই ভিসা প্রত্যাখ্যানের পেছনে আন্তর্জাতিক রাজনীতির কূটকৌশল রয়েছে দাবি করে ফিলিস্তিন ফুটবলপ্রধান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘বিশ্বের কিছু প্রভাবশালী মহল বা রাজনৈতিক পক্ষ কোনোভাবেই চায় না যে আমরা আন্তর্জাতিক কোনো বড় মঞ্চে দাঁড়িয়ে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করি।’
নেপথ্যের ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, এর আগে গত এপ্রিল মাসে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে অংশ নিয়েছিলেন রাজৌব। সেই সময় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নিজে ফিলিস্তিন ফুটবলপ্রধানের কাছে একটি বিশেষ অনুরোধ করেছিলেন। ইনফান্তিনো চেয়েছিলেন ইসরায়েলি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের এক শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে জিবরিল রাজৌব যেন একটি যৌথ ছবিতে (ফটোসেশন) দাঁড়ান। কিন্তু ফিলিস্তিনের ওপর চলমান আগ্রাসনের প্রতিবাদে ফিফা প্রধানের সেই অনুরোধ সরাসরি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন রাজৌব এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তার পাশে দাঁড়াতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। মূলত সেই ঘটনার পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে এই ভিসা জটিলতার সূত্রপাত ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে অধিকৃত পশ্চিম তীরে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইসরায়েলি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অধীনে থাকা বিভিন্ন ক্লাবের ফুটবল ম্যাচ বা লিগ চালানো হচ্ছে। এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফার কাছে ইসরায়েলি ফুটবলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি জানিয়ে আসছিল ফিলিস্তিন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও ফিফা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
ফিফার এই পক্ষপাতমূলক আচরণ ও উদাসীনতার বিরুদ্ধে বিচার পেতে শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে (সিএএস) আনুষ্ঠানিক আপিল করেছে ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ব ফুটবলের বৈশ্বিক মঞ্চে ফিলিস্তিনের এই আইনি লড়াই ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রাজৌবের এমন আপসহীন অবস্থানের কারণেই ক্ষমতাধর পশ্চিমা দেশগুলো তাঁকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।





































